(ক)
সেক্স ক্রোমোজোমে অবস্থিত সেক্স লিংকড জিনগুলোর মিউটেশনের কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক লক্ষণ বা রোগসমূহকে সেক্স লিংকড ডিসঅর্ডার বলে। যেমন: লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা, হিমোফিলিয়া ইত্যাদি।
(খ)
যেসব জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় উপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট জীবের মৃত্যু ঘটে, সেসব জিনকে লিথাল জিন বা মারণ জিন বলে।
সাধারণত কোনো জিনের মিউটেশনের ফলে সৃষ্ট নিষ্ক্রিয় প্রোটিন যদি জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য কোনো শারীরবৃত্তীয় কাজের ব্যাঘাত ঘটায়, তবে হোমোজাইগাস অবস্থায় জীবের মৃত্যু ঘটে। ফরাসি জিনতত্ত্ববিদ লুসিয়েন ক্যুনো ১৯০৫ সালে ইঁদুরের গায়ের বর্ণের ক্ষেত্রে প্রথম লিথাল জিনের উপস্থিতি লক্ষ করেন।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণঘাতী বৈশিষ্ট্যটি হলো লিথাল জিন (Lethal gene) বা মারণ জিন। নিচে এর জিনগত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
যেসব জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় উপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট জীবের মৃত্যু ঘটে, সেগুলোকে লিথাল জিন বলে। লিথাল জিনের প্রভাবে মেন্ডেলীয় অনুপাত $3:1$ এর পরিবর্তে $2:1$ হয়। ফরাসি জিনতত্ত্ববিদ লুসিয়েন ক্যুনো ইঁদুরের গায়ের রঙের ক্ষেত্রে প্রথম লিথাল জিনের উপস্থিতি আবিষ্কার করেন।
ধরি,
ইঁদুরের হলুদ গায়ের রঙের জন্য দায়ী প্রকট জিন = $Y$
ইঁদুরের মেটে গায়ের রঙের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন = $y$
যেহেতু হলুদ রঙের জন্য দায়ী জিন $Y$ হোমোজাইগাস অবস্থায় ($YY$) থাকলে ভ্রূণাবস্থায় ইঁদুর মারা যায়, তাই জীবিত হলুদ ইঁদুরের জিনোটাইপ সবসময় হেটারোজাইগাস ($Yy$) হয়।
দুটি হেটারোজাইগাস হলুদ ইঁদুরের মধ্যে ক্রস ঘটালে নিম্নরূপ ফলাফল পাওয়া যায়:
পিতামাতা ($P_1$):
ফিনোটাইপ: হলুদ ইঁদুর $\times$ হলুদ ইঁদুর
জিনোটাইপ: $Yy \times Yy$
গ্যামেট: $Y, y$ এবং $Y, y$
$F_1$ জনুর চেকারবোর্ড:
| গ্যামেট |
$Y$ |
$y$ |
| $Y$ |
$YY$ (মৃত) |
$Yy$ (হলুদ) |
| $y$ |
$Yy$ (হলুদ) |
$yy$ (মেটে) |
ফলাফল বিশ্লেষণ:
এখানে $YY$ জিনোটাইপধারী ইঁদুরটি হোমোজাইগাস অবস্থায় প্রকট লিথাল জিনের উপস্থিতির কারণে জরায়ুর ভেতরেই মারা যায়। ফলে কেবল $Yy$ (হলুদ) এবং $yy$ (মেটে) ইঁদুরগুলো জীবিত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে।
অতএব, জীবিত ইঁদুরের ফিনোটাইপিক অনুপাত হবে:
হলুদ : মেটে = $2 : 1$
নিচে ইঁদুরের ক্রসের চিত্রটি দেওয়া হলো:

(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত "সাদা পালকযুক্ত দুটি পাখির মিলনে রঙিন পাখির আবির্ভাব" ঘটনাটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের একটি ব্যতিক্রম। এটি পরিপূরক জিনের (Complementary gene) ক্রিয়া বা দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস (Duplicate recessive epistasis)-এর কারণে ঘটে থাকে।
ভিন্ন ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত দুটি প্রকট জিনের সহাবস্থানের কারণে যদি জীবের একটি ফিনোটাইপিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তবে জিন দুটিকে একে অপরের পরিপূরক জিন বলে। এদের যেকোনো একটি জিন প্রচ্ছন্ন হোমোজাইগাস অবস্থায় থাকলে অন্য প্রকট জিনটি নিজের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে না, ফলে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায় না।
ধরি,
পাখির রঙিন পালকের জন্য দায়ী দুটি পরিপূরক প্রকট জিন হলো $C$ এবং $P$।
এদের প্রচ্ছন্ন অ্যালিলদ্বয় যথাক্রমে $c$ এবং $p$।
রঙিন পালক সৃষ্টির জন্য $C$ এবং $P$ উভয় প্রকট জিনের একসাথে উপস্থিতি আবশ্যক। যদি কোনো একটি বা উভয় জিন হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে (যেমন: $CCpp$, $ccPP$, $ccpp$), তবে পাখির পালক সাদা হবে。
দুটি ভিন্ন জিনোটাইপযুক্ত বিশুদ্ধ সাদা পালকধারী পাখির মধ্যে ক্রস ঘটালে প্রথম বংশধরে ($F_1$) সব রঙিন পাখি পাওয়া যায়।
ক্রস-১:
পিতামাতা ($P_1$):
ফিনোটাইপ: সাদা পাখি $\times$ সাদা পাখি
জিনোটাইপ: $CCpp \times ccPP$
গ্যামেট: $Cp$ এবং $cP$
$F_1$ জনু:
জিনোটাইপ: $CcPp$
ফিনোটাইপ: সব পাখি রঙিন (যেহেতু প্রকট জিন $C$ এবং $P$ উভয়ই উপস্থিত)
$F_1$ জনুর সদস্যদের মধ্যে পরস্পর ক্রস ঘটালে দ্বিতীয় বংশধরে ($F_2$) নিম্নরূপ ফলাফল পাওয়া যায়:
ক্রস-২:
$F_1$ জনুর পিতামাতা ($P_2$):
ফিনোটাইপ: রঙিন পাখি $\times$ রঙিন পাখি
জিনোটাইপ: $CcPp \times CcPp$
গ্যামেট: $CP, Cp, cP, cp$
$F_2$ জনুর চেকারবোর্ড:
| গ্যামেট |
$CP$ |
$Cp$ |
$cP$ |
$cp$ |
| $CP$ |
$CCPP$ (রঙিন) |
$CCPp$ (রঙিন) |
$CcPP$ (রঙিন) |
$CcPp$ (রঙিন) |
| $Cp$ |
$CCPp$ (রঙিন) |
$CCpp$ (সাদা) |
$CcPp$ (রঙিন) |
$Ccpp$ (সাদা) |
| $cP$ |
$CcPP$ (রঙিন) |
$CcPp$ (রঙিন) |
$ccPP$ (সাদা) |
$ccPp$ (সাদা) |
| $cp$ |
$CcPp$ (রঙিন) |
$Ccpp$ (সাদা) |
$ccPp$ (সাদা) |
$ccpp$ (সাদা) |
ফলাফল বিশ্লেষণ:
চেকারবোর্ড থেকে দেখা যায় যে, যেসব জিনোটাইপে অন্তত একটি $C$ এবং একটি $P$ প্রকট জিন একসাথে রয়েছে, কেবল সেই পাখিগুলোর পালক রঙিন হয়েছে। অন্যদিকে, যেখানে যেকোনো একটি বা উভয় জিন হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে, সেই পাখিগুলোর পালক সাদা হয়েছে।
এখানে,
রঙিন পাখি (কমপক্ষে একটি $C$ এবং একটি $P$ যুক্ত): $9$টি
সাদা পাখি (হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন $cc$ বা $pp$ বা উভয়ই যুক্ত): $7$টি
অতএব, $F_2$ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত হবে:
রঙিন : সাদা = $9 : 7$
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের সাধারণ অনুপাত $9:3:3:1$ হওয়ার কথা থাকলেও পরিপূরক জিনের প্রভাবে তা পরিবর্তিত হয়ে $9:7$ হয়। এভাবেই জিনগত মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে সাদা পালকযুক্ত দুটি পাখির মিলনে রঙিন পাখির আবির্ভাব ঘটে।
(দ্রষ্টব্য: কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি প্রকট এপিস্ট্যাসিসের কারণেও ব্যাখ্যা করা যায়, যেখানে সাদা লেগহর্ন ও সাদা ওয়াইন্ডোটের ক্রসের ফলে $F_2$ জনুতে সাদা ও রঙিন পাখির অনুপাত $13:3$ হয়। তবে সাদা পালকযুক্ত দুটি ভিন্ন জাতের পাখির মিলনে সরাসরি প্রথম বংশধরেই ($F_1$) রঙিন পাখির আবির্ভাব ঘটার জন্য পরিপূরক জিনের ব্যাখ্যাটিই সবচেয়ে উপযুক্ত।)