(ক) ISO-এর পূর্ণরূপ হলো International Organization for Standardization।
(খ) BSTI (Bangladesh Standards and Testing Institution) বা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন হলো বাংলাদেশের পণ্যের মান নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিল্প, খাদ্য ও রাসায়নিক পণ্যের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় মান তৈরি করা এবং তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা। একই সাথে মেট্রিক পদ্ধতি চালু রাখা এবং ওজন ও পরিমাপের যথার্থতা দেখাশোনার দায়িত্বও এই প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যস্ত। এর ফলে ভোক্তারা মানসম্মত পণ্য পায় এবং বাজারে নিম্নমানের পণ্যের বিস্তার রোধ হয়।
(গ) সাজিদের সম্পাদিত কাজটি মেধাসম্পদের (Intellectual Property) অন্তর্গত।
সৃজনশীল ব্যক্তি তার মেধা ও মননশীলতা ব্যবহার করে যা কিছু সৃষ্টি করে তাকে মেধাসম্পদ বলে। ব্যবসায়, শিল্প বা বাণিজ্যে প্রয়োগ উপযোগী আবিষ্কার, সাহিত্য ও শিল্পকর্ম, নকশা, প্রতীক ইত্যাদি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত। শিল্প বা ব্যবসায় উদ্যোক্তার মেধাসম্পদ বলতে ঐসব মূল্যবান সম্পদকে বোঝায় যা সে দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছে।
উদ্দীপকের সাজিদ রেহান ছাত্র অবস্থাতেই একটি উপন্যাস লিখেছেন। এই উপন্যাসটি তার নিজস্ব মেধা ও মননশীলতার ফসল, যা জনপ্রিয় হয়ে তিন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তিনি প্রতি বছর উপার্জন করছেন। যেহেতু উপন্যাস লেখা একটি সাহিত্যকর্ম এবং এটি সাজিদের নিজস্ব মেধার সৃষ্টি, তাই বলা যায় সাজিদের সম্পাদিত কাজটি মেধাসম্পদের অন্তর্গত।
(ঘ) উদ্দীপকের সাজিদের বইটি নকল করতে না পারার প্রধান কারণ হলো কপিরাইট (Copyright) বা মেধাস্বত্ব নিবন্ধন।
কপিরাইট নিবন্ধন বলতে নিবন্ধকের অফিসে প্রণেতা বা আবেদনকারীর নামসহ সৃষ্টিকর্মের নাম ও বিবরণাদি লিপিবদ্ধ করাকে বোঝায়। এটি এমন এক ধরনের আইনি সুরক্ষা যা প্রণেতার সৃষ্টিকর্মকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিরাপদ রাখে এবং অন্য কারো দ্বারা অননুমোদিত ব্যবহার বা নকল রোধ করে।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, সাজিদের উপন্যাসটি জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য বইয়ের মতো কেউ তা নকল করার সাহস পায়নি। এর কারণ হলো সাজিদ তার উপন্যাসের জন্য কপিরাইট নিবন্ধন করিয়েছেন। কপিরাইট আইন অনুযায়ী, নিবন্ধনের পর থেকে সৃষ্টিকর্মের মেয়াদ সাধারণত প্রণেতার জীবনকাল এবং মৃত্যুর পর আরও ৬০ বছর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে। এই সময়ের মধ্যে কেউ যদি অনুমতি ছাড়া সৃষ্টিকর্মটি নকল করে, তবে প্রণেতা তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার বা মামলা করতে পারেন।
সুতরাং, কপিরাইট আইনের কঠোর সুরক্ষা এবং আইনি শাস্তির ভয়েই উদ্দীপকের সাজিদের বইটি কেউ নকল করতে পারেনি।