Facebook Pixel

সাইফুর মাংসের গামলায় একটি বিশেষ টুকরা দেখিয়ে বলল আমাদের দেহে এমন একটা অঙ্গ আছে যা দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। এ ছাড়াও আমাদের দেহে গাছের পাতার মতো আরও একটি গ্রন্থি আছে। ক. পেসমেকার কী? খ. পরিপাকতন্ত্র বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত সবচেয়ে বড় গ্রন্থির কাজ লিখ। ঘ. রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে পাতার যতো গ্রন্তিটির ভূমিকা লিখ।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মানব শারীরতত্ত্বঃ পরিপাক ও শোষণ

উৎস: Board Exam Question DiB 2015

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মানুষের হৃৎপিন্ডে অবস্থিত সাইনোঅ্যাট্রিয়াল নোড (SA node) বিশেষ ধরনের কার্ডিয়াক পেশিগুচ্ছ দ্বারা গঠিত এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা বৈদ্যুতিক তরঙ্গ প্রবাহ ছড়িয়ে দিয়ে হৃদস্পন্দন সৃষ্টি করে, তাকে পেসমেকার বলে। (খ) যে তন্ত্রের মাধ্যমে খাদ্যবস্তু গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ এবং অপাচ্য অংশ নিষ্কাশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে পরিপাকতন্ত্র বলে। মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র মূলত পরিপাকনালী ও পরিপাকগ্রন্থি নিয়ে গঠিত। পরিপাকনালীর অংশগুলো হলো মুখবিবর, গলবিল, অন্ননালী, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র ও পায়ু। অন্যদিকে, লালাগ্রন্থি, যকৃত, অগ্ন্যাশয় ইত্যাদি পরিপাকগ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থিটি হলো যকৃত। যকৃতের প্রধান কাজগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. পিত্তরস উৎপাদন: যকৃত থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়, যা চর্বি জাতীয় খাদ্যের ইমালসিফিকেশনে সাহায্য করে। ২. গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি হলে যকৃত তা গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চয় করে রাখে (গ্লাইকোজেনেসিস) এবং প্রয়োজনে তা ভেঙে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। ৩. প্রোটিন বিপাক: যকৃত ডিঅ্যামিনেশন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে অ্যামিনো গ্রুপ পৃথক করে এবং অরনিথিন চক্রের মাধ্যমে ইউরিয়া তৈরি করে। ৪. ভিটামিন ও খনিজ সঞ্চয়: যকৃত ভিটামিন A, D, E, K এবং B12 সঞ্চয় করে। ৫. রক্ত সঞ্চালন ও সুরক্ষা: যকৃত রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ, ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ করে এবং প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষণ করে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত পাতার মতো গ্রন্থিটি হলো অগ্ন্যাশয়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অগ্ন্যাশয়ের ভূমিকা অপরিসীম। অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামক অন্তঃক্ষরা অংশ থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন রক্ত থেকে গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশে সহায়তা করে এবং যকৃতে গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়। অন্যদিকে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে অগ্ন্যাশয় থেকে গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়। গ্লুকাগন যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এভাবে ইনসুলিন ও গ্লুকাগনের পারস্পরিক বিপরীতমুখী ক্রিয়ার মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা (Homeostasis) বজায় থাকে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2015)

সাইফুর মাংসের গামলায় একটি বিশেষ টুকরা দেখিয়ে বলল আমাদের দেহে এমন একটা অঙ্গ আছে যা দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। এ ছাড়াও আমাদের দেহে গাছের পাতার মতো আরও একটি গ্রন্থি আছে।

ক. পেসমেকার কী?

খ. পরিপাকতন্ত্র বলতে কী বুঝ?

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত সবচেয়ে বড় গ্রন্থির কাজ লিখ।

ঘ. রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে পাতার যতো গ্রন্তিটির ভূমিকা লিখ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।