(ক)
সাম্য বলতে বোঝায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার উপস্থিতি এবং অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য না থাকা।
(খ)
সামাজিক মূল্যবোধ বলতে সেই সব আদর্শ, বিশ্বাস, রীতিনীতি এবং সংকল্পের সমষ্টিকে বোঝায় যা কোনো সমাজের মানুষের আচার-আচরণ, চিন্তা-চেতনা এবং কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
এটি সমাজের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সততা, পরোপকার, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা এবং শ্রমের মর্যাদা সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম উদাহরণ। এই মূল্যবোধের মাধ্যমেই সমাজে ভালো-মন্দের পার্থক্য নির্ধারিত হয় এবং একটি সুন্দর ও সংহতিপূর্ণ সমাজ গঠিত হয়।
(গ)
সাংবাদিক রাজু সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।
সামাজিক সাম্য বলতে বোঝায় সামাজিক ক্ষেত্রে সকল মানুষের সমান অধিকার এবং সুযোগ-সুবিধার ভোগ করা। যখন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য করা হয় না এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে মর্যাদা প্রদান করা হয়, তখন তাকে সামাজিক সাম্য বলা হয়। সামাজিক সাম্য সমাজে ভেদাভেদ দূর করে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে এবং মানুষকে মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সাংবাদিক রাজু এমন একটি সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সংবাদ পরিবেশন করেন যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা বংশভেদে কোনো বৈষম্য থাকবে না। রাজুর এই লক্ষ্য সরাসরি সামাজিক সাম্যের ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ, কারণ তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাইছেন এবং সকল ভেদাভেদ দূর করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
সুতরাং, বলা যায় যে রাজু সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্য তথা সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে সকলেই সমভাবে আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে, এই বক্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ জন্মগতভাবে সমান হলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে তাদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়। যখন সমাজে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা বংশের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকে, তখন সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এবং অন্য অংশ বঞ্চিত হয়। এই বঞ্চিত শ্রেণির মানুষের জন্য মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আত্মবিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, কারণ তারা সামাজিক বাধা ও বৈষম্যের সম্মুখীন হয়।
সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ সমান অধিকার ও সুযোগ লাভ করে। যখন বংশ বা বর্ণের পরিবর্তে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তখন একজন সাধারণ মানুষও তার মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে পারে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ থাকলে মানুষ তার সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ পায়, যা সামগ্রিকভাবে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখে।
অন্যদিকে, সাম্যহীন সমাজে সম্পদ ও ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণ ঘটে, ফলে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ মৌলিক চাহিদা পূরণের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকে এবং তাদের আত্মবিকাশের সুযোগ নষ্ট হয়। সাম্যের উপস্থিতিই কেবল একটি সমাজকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং বৈষম্যমুক্ত করতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজের সকল মানুষ বৈষম্যমুক্ত পরিবেশে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারবে, ফলে সকলের জন্য আত্মবিকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে।