ক.
Anthropos গ্রিক শব্দ। যার অর্থ মানুষ।
খ.
সমাজবিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ Sociology এটি ল্যাটিন শব্দ Socious ও গ্রিক শব্দ Logos থেকে এসেছে। শব্দ দুটির অর্থ যথাক্রমে 'সমাজ' ও 'জ্ঞান'। সুতরাং উৎপত্তিগত অর্থে সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজের জ্ঞান। অর্থাৎ যে শাস্ত্রের মাধ্যমে সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ ও অধ্যয়ন করা হয় তাকেই সমাজবিজ্ঞান বলা হয়। এ বিজ্ঞানের প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে সমাজ। সংগত কারণেই সমাজবিজ্ঞানকে 'Science of Society' অর্থাৎ সমাজের বিজ্ঞান বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকের শাওনের ঐচ্ছিক বিষয়টি হলো মনোবিজ্ঞান।
মনোবিজ্ঞান এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Psychology। মনোবিজ্ঞান বলতে মন সম্পর্কীয় বিজ্ঞানকে বোঝায়। মূলত যে বিজ্ঞান মানুষ বা প্রাণীর মন তথা তার আচার-আচরণ নিয়ে আলোচনা করে তাকেই মনোবিজ্ঞান বলা হয়। মনোবিজ্ঞান মূলত সমাজ এবং সমাজের মানুষ অর্থাৎ ব্যক্তি, দল, সমষ্টি, সামাজিক পরিবেশ, রীতিনীতি, আদর্শ, মূল্যবোধ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে থাকে। এছাড়াও মানুষের সব রকম মানবিক গুণাবলি ও ক্ষমতা পরিমাপের প্রণালি উদ্ভাবন করাই মনোবিজ্ঞানের বিশেষ কাজ হিসেবে বিবেচিত। মনোবিজ্ঞান সম্পর্কে জন বি ওয়াটসন বলেন, মনোবিজ্ঞান হচ্ছে এমন একটি বিজ্ঞান, যা মানুষ ও প্রাণীর আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। জন এল ভোগেল এর মতে, মনোবিজ্ঞান হলো আচরণ ও অভিজ্ঞতার বিজ্ঞানসম্মত অনুধ্যান এবং মানুষের সমস্যার ক্ষেত্রে সেই জ্ঞানের প্রয়োগ।
সার্বিকভাবে তাই বলা যায় যে, মনোবিজ্ঞান হলো সমাজে মানুষ বা প্রাণীর সামগ্রিক আচার-আচরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যয়ন। অতএব দেখা যাচ্ছে শাওনের ঐচ্ছিক বিষয়টির আলোচ্য বিষয়বস্তুর সাথে মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় সম্পূর্ণভাবে মিলে যাচ্ছে। তাই তার ঐচ্ছিক বিষয়টি হবে মনোবিজ্ঞান।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয় দুটি হলো সমাজকর্ম ও মনোবিজ্ঞান। সমাজকর্মের সাথে মনোবিজ্ঞানের ব্যাপক সম্পর্ক বিদ্যমান।
প্রথমত, মনোবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয় হলো মানব আচরণ। অন্যদিকে, সমাজকর্মের মানুষের আচরণ বিশ্লেষণ করে তার বিভিন্ন চাহিদা ও সমস্যা সমাধান দিয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তির বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে থাকে। এ সকল সমস্যার পিছনে সাধারণত ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, আবেগ, বুদ্ধি, হতাশা, বিষয়বস্তু, প্রত্যক্ষণ করার ক্ষমতা প্রভৃতি বিশেষভাবে দায়ী। সমাজকর্মকে ব্যক্তির সমস্যা সমাধানের সময় এ বিশেষ দিকগুলোর প্রতি লক্ষ রাখতে হয়। তৃতীয়ত, আমরা জানি, সমাজকর্মে প্রয়োগকৃত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি বহুলাংশে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান নির্ভর। বিশেষ করে ব্যক্তি সমাজকর্মে ব্যক্তির সমস্যা সমাধান ও আচরণ সংশোধনের জন্য প্রয়োগকৃত জ্ঞান মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। চতুর্থত, ব্যক্তির মানসিক ক্ষমতা বা সুপ্ত প্রতিভা নির্ধারণের জন্য মনোবিজ্ঞানের কিছু নিজস্ব কৌশল ও প্রক্রিয়া আছে। সমাজকর্মে এ সকল কৌশল ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করে সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তির মানসিক ক্ষমতা নির্ণয় সাপেক্ষে প্রতিভার বিকাশ সাধন করা হয়। ফলে বিভিন্ন জটিল আর্থসামাজিক পরিবেশ ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সমাজকর্ম ব্যক্তিকে সামঞ্জস্যবিধানে সক্ষম করে তোলে। পঞ্চমত, মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সমাজকর্মের বিভিন্ন অনুশীলন ক্ষেত্রের সাথেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই সমাজকর্মে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানের বহুমুখী প্রয়োগ লক্ষ করা যায়।
অতএব বলতে হয়, মনোবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম গভীরভাবে সম্পর্কিত।