ক.
'Civis' শব্দের অর্থ 'নাগরিক'।
খ.
সুশাসন হচ্ছে এমন এক ধরনের শাসন কৌশল যার মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং প্রশাসনযন্ত্রের দুর্নীতি রোধ হয়। এ প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন বাস্তবায়ন হয়। ফলে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে নাগরিকগণ সুখে-শান্তিতে জীবন ভোগ করতে সক্ষম হয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত সোহানের পিতামাতা তাকে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি অধ্যয়নের কথা বলেছে।
উদ্দীপকে সোহানার পিতামাতা সোহানাকে এমন একটি বিষয় অধ্যয়ন করার কথা বলে যে বিষয়টির মাধ্যমে রাষ্ট্র, সরকার, নাগরিকের অধিকার ও কতর্ব্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে এবং তাকে - একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে। অর্থাৎ বিষয়টি পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা পৌরনীতি ও সুশাসনের বিস্তৃত পরিধি রাষ্ট্র, সরকার, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞানদান করে এবং সুনাগরিকত্ব হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।
পৌরনীতি ও সুশাসন একটি নাগরিকতা সম্পর্কিত বিজ্ঞান। এর সংজ্ঞাসমূহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে- নাগরিকের জীবন ও কার্যাবলি যতদূর বিস্তৃত পৌরনীতির আলোচ্য বিষয় ও পরিধি ততদূর প্রসারিত। নাগরিকতা ও সমাজজীবন পৌরনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু। নাগরিকতার উদ্ভব, ক্রমবিকাশ ও বিবর্তন, সুনাগরিকতা, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। আবার সমাজ, সামাজিক পরিবর্তন, সামাজিক মূল্যবোধ, রাষ্ট্রের উৎপত্তি ও বিকাশ, রাষ্ট্রের কার্যাবলি বিষয়ক আলোচনা 'পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধিভুক্ত। পৌরনীতি আইন, স্বাধীনতা, সাম্য ইত্যাদি বিষয়ক আলোচনা করে। নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিকসমূহ, বৈদেশিক সম্পর্কের নীতি, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ এগুলোর গঠন, উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা পৌরনীতির পরিধিভুক্ত। পৌরনীতি নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়াও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, সরকার, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের প্রকৃতি, সংবিধান, নির্বাচন ও নির্বাচকমণ্ডলী, রাজনৈতিক দল ও দলসমূহের কার্যাবলি ও ভূমিকা নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে। তাই এসব বিষয় পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধিভুক্ত।
পরিশেষে বলা যায়, সোহানার পিতামাতা তাকে 'পৌরনীতি ও সশাসন' অধ্যয়নের কথা বলেছে.।
ঘ.
যে "উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি অর্থাৎ 'পৌরনীতি ও নাগরিকতা' অধ্যয়ন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক"- কথাটির সাথে আমি একমত।
শাসন প্রক্রিয়ায় সুশৃঙ্খল ও কাঠামোবদ্ধ একটি রূপ সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য করণীয় ও বর্জনীয় সকল বিষয় সম্পর্কে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিশদভাবে আলোচনা করে। পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্রের নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সরকার ও আমলাতন্ত্র, রাষ্ট্রের উপাদান ও কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে সচেতন ও সুনাগরিক গঠনে সহায়তা করে। সুশাসন এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি দেশের সীমিত সম্পদকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে জনগণের অধিক কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। সুশাসনের অভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় যা দেশের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা কেবল 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি অধ্যয়নের মাধ্যমেই সম্ভব। কেননা সুশাসন বা 'Good governance' শব্দটির শাব্দিক ও প্রায়োগিক অর্থ এর সংজ্ঞা ও আলোচ্য বিষয় 'পৌরনীতি ও সুশাসনে' আলোচিত হয়েছে। পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে বিশদ ধারণা পাওয়া যায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয় পর্যালোচনা করে শাসনব্যবস্থার প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সকল সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার শিক্ষা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' প্রদান করে।
সুতরাং উপরিল্লিখিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টির অধ্যয়ন বিশেষভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।