Facebook Pixel

সোহাগ হোসেন একজন প্রান্তিক চাষি। তার জমিতে প্রতিবছর বারবার এক ফসল ফলানোর কারণে উৎপাদন কম হয়। ফলে তার পরিবারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। এমতাবস্থায় কৃষি ব্লক সুপারভাইজারের পরামর্শ নিয়ে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, গ্রাম্য মহাজনের নিকট ঋণ না নিয়ে ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ নেয় এবং একই জমিতে এখন তিন ফসল ফলায়। প্রথমে সরিষা, তারপর পাট অবশেষে ধান চাষ করে। এতে তার পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসে। ক. শস্য বহুমুখীকরণ কাকে বলে? খ. কৃষি খামার ও কৃষি জোত কি একই? গ. উদ্দীপকে সোহাগ হোসেনের কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর। ঘ. সোহাগ হোসেন ব্যাংক ছাড়া অন্য কোন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারত কি? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ বাংলাদেশের কৃষি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. শস্য বহুমুখীকরণ বা Multiculture হলো শুধু একটি ফসলের ওপর নির্ভর না করে বছরের বিভিন্ন সময় আবহাওয়া ও প্রযুক্তিগত সুবিধা বিবেচনা করে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন করা। খ. কৃষি খামার ও কৃষিজোত ধারণা দুটি কাছাকাছি অর্থে ব্যবহৃত হলেও উভয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। কোনো একজন কৃষক বা সংগঠকের অধীনে নির্দিষ্ট স্থানে বা বিভিন্ন স্থানে যে পরিমাণ জমি কৃষি উৎপাদনের আবাদযোগ্য তাকে কৃষিজোত বলে। পক্ষান্তরে কোনো কৃষিজোতে যখন চাষাবাদের পরিকল্পনা করা হয় তখন তাকে কৃষি খামার বলে। সুতরাং দেখা যায়, কৃষি খামার ও কৃষিজোত দুটি ভিন্ন ধারণা। গ. উদ্দীপকে সোহাগ হোসেনের কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম উৎপাদনের শস্য বহুমুখীকরণ ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ। কোনো একক ফসল বা একক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে ফসল বিন্যাস, মিশ্র ও সাথি ফসলের চাষ ও খামার যান্ত্রিকীকরণকে শস্য বহুমুখীকরণ বলা হয়। শস্য বহুমুখীকরণের ফলে একই জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করা যায়। যেমন- ধান চাষের পরে গমের চাষ করা। আবার গম চাষ শেষে আলু চাষ করা। তাহলে মাটির রাসায়নিক উপাদানসমূহের মান বজায় থাকে। এতে জমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। ফসলের ওপর থেকে অনেক প্রাকৃতিক বিরূপ প্রভাব হ্রাস পায়। উদ্দীপকের সোহাগ হোসেন একই জমিতে বছরে তিনটি ফসল চাষ করেন। প্রথমে সরিষা, তারপর পাট অবশেষে ধান উৎপাদন করেন। ফলে তার ফসল উৎপাদন অনেক বেশি হয়। যা শস্য বহুমুখীকরণকে নির্দেশ করে। অতএব উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সোহাগ হোসেন কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম উৎপাদনের শস্য বহুমুখীকরণ ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ। ঘ. হ্যাঁ, সোহাগ হোসেন ব্যাংক ছাড়া অন্য উৎস থেকেও ঋণ গ্রহণ করতে পারত। কারণ কৃষি ঋণের উৎস প্রধানত দুই ধরনের-প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণ। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক ছাড়াও নিম্নলিখিত উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করা সম্ভব: ১. অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণ: মহাজন, স্বর্ণকার, ধনী কৃষক, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া সম্ভব। ২. এনজিও ঋণ: গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা, বন্ধন ইত্যাদি ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান কৃষকদের ঋণ প্রদান করে। ৩. কৃষি সমবায় ঋণ: বিভিন্ন সমবায় প্রতিষ্ঠান কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করে। যদিও সোহাগ হোসেন এসব উৎস থেকে ঋণ নিতে পারতো, তবে অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ক্ষেত্রে উচ্চ সুদহার ও কঠোর পরিশোধের শর্ত থাকায় তা আর্থিক ঝুঁকির কারণ হতে পারতো। এনজিও ও সমবায় থেকে ঋণ নেওয়া সম্ভব হলেও অনেক ক্ষেত্রে ঋণের শর্ত কঠোর থাকে ও সময়মতো পরিশোধের চাপ থাকে। সুতরাং, সোহাগ হোসেন ব্যাংক ছাড়া অন্য উৎস থেকে ঋণ নিতে পারতো, তবে ব্যাংক ঋণের সুদহার তুলনামূলক কম এবং শর্ত তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এটি তার জন্য সর্বোত্তম বিকল্প ছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সোহাগ হোসেন একজন প্রান্তিক চাষি। তার জমিতে প্রতিবছর বারবার এক ফসল ফলানোর কারণে উৎপাদন কম হয়। ফলে তার পরিবারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। এমতাবস্থায় কৃষি ব্লক সুপারভাইজারের পরামর্শ নিয়ে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, গ্রাম্য মহাজনের নিকট ঋণ না নিয়ে ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ নেয় এবং একই জমিতে এখন তিন ফসল ফলায়। প্রথমে সরিষা, তারপর পাট অবশেষে ধান চাষ করে। এতে তার পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসে।

ক.

শস্য বহুমুখীকরণ কাকে বলে?

খ.

কৃষি খামার ও কৃষি জোত কি একই?

গ.

উদ্দীপকে সোহাগ হোসেনের কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

সোহাগ হোসেন ব্যাংক ছাড়া অন্য কোন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারত কি? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।