ক.
বিচ্যুতিমূলক আচরণ বলতে এমন আচরণকে বোঝায়, যা স্বাভাবিক ও কাঙ্ক্ষিত আচরণের পরিপন্থী।
খ.
আয়কর ফাঁকি দেওয়া ভদ্রবেশী অপরাধ।
সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ পেশাগত কাজের প্রক্রিয়ায় এমন কিছু অপরাধমূলক কাজ করে থাকে যা ভদ্রবেশী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত। যেমন আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, ট্রেডমার্ক নকল করা ইত্যাদি।
গ.
উদ্দীপকের সালমার ক্ষেত্রে সামাজিক অসমতার জেন্ডার উপাদানটি কার্যকর। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
জেন্ডার হচ্ছে নারী ও পুরুষের প্রভেদ। এই প্রভেদ সৃষ্টি করেছে মানুষ। শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে নারী বা পুরুষ হিসেবে আমাদের সামাজিক পরিচয় যে ভিন্ন সেটি বুঝানোর জন্যই জেন্ডার শব্দটি ব্যবহৃত হয়। মানুষের কাজকর্মের ক্ষেত্রে মানুষের জৈবিক কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকলেও এই সীমাবদ্ধতা বা পার্থক্য সৃষ্টি করেছে সমাজ। অর্থাৎ রান্নাবান্না, গৃহস্থালী কাজকর্ম, সন্তান ধারণ, সন্তানদের লালন পালন করা এগুলো নারীর জেন্ডার ভূমিকা। আর এই ধারণায় নারী ও পুরুষের মধ্যে যে পার্থক্য করা হয়ে থাকে তা সম্পূর্ণভাবে মানুষের তৈরি। আর এই ধারণার ফলে নারীরা বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে যেমন বিভিন্ন বাঁধার সম্মুখীন হয়। তেমনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, সালমা একজন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির কর্মী। কর্মপরিবেশে সে যেমন নারী ও পুরুষের পরিবেশে ভিন্নতা লক্ষ্য করে, তেমনি পারিবারিকভাবেও সে নারী-পুরুষের পরিবেশের ভিন্নতা লক্ষ্য করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ তার উপর বিভিন্ন বিধি নিশ্চয়ই ধারণ করা হলেও তার ভাইদের ক্ষেত্রে সেগুলো আরোপ করা হয় না। এগুলার মাধ্যমে জেন্ডারভিত্তিক অসমতা লক্ষ্য করা যায়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সালমার ক্ষেত্রে সামাজিক অসমতার জেন্ডার উপাদানটি কার্যকর।
ঘ.
উক্ত উপাদানটি তথা জেন্ডার বৈষম্যের প্রভাবে সামাজিক অগ্রগতি থেমে যায়। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলোঃ
দৈহিক পার্থক্যের উপর ভিত্তি করে নারী-পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্য গুলো সৃষ্টি করা হয়েছে সেগুলোর কারণে বিভিন্নভাবে নারীদের মেধা ও মননশীলতাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নারীরা সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে তেমনি এই সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আর এটি আত্মসামাজিক ও রাজনৈতিক অনুন্নয়নের অন্যতম কারণ। সাধারণত নারীদের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়া হয় না। এছাড়াও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে নারী অংশগ্রহণ নেই, তাই আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। এছাড়াও নারীদের উচ্চশিক্ষা নিরুৎসাহিত করার কারণে শিক্ষার দিক থেকেও নারীরা পিছিয়ে আছে। যার ফলে তারা সমাজে অবদান রাখতে পারছে না। অর্থাৎ সমাজের সকল স্তরেই তারা উপেক্ষিত হচ্ছে।
এছাড়াও এই সামাজিক বৈষম্যের ফলে পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রসহ সবক্ষেত্রে নারীরা লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশগুলো আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন দিক দিয়ে এখনো পিছিয়ে আছে। এছাড়াও কর্ম ক্ষেত্রে এখনো দেখা যায় বিভিন্ন কাজে নারীদের নিয়োগ দিতে নিয়োগকর্তারা অপছন্দ করেন। তাদের ভাবনা নারীরা এই কাজটি যথাযথভাবে করতে পারবেনা। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যায়, একই কাজ করে একজন পুরুষ যে পরিমাণ পারিশ্রমিক পায় একজন নারীকে তার তুলনায় কম পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এগুলো মূলত সামাজিক অগ্রগতির পথে অন্তরায় হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
তাই বলা যায়, জেন্ডার বৈষম্যের প্রভাবে সামাজিক অগ্রগতি থেমে যায় - উক্তিট যথার্থ।