ক.
যে অনুমানে দুই বা ততোধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে মাধ্যম অনুমান বলে।
খ.
অমাধ্যম অনুমানের সিদ্ধান্তে নতুনত্ব না থাকার কারণে অমাধ্যম অনুমানকে প্রকৃত অনুমান বলা যায় না।
যে অবরোহ অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমিত হ তাকে অমাধ্যম অনুমান বলে। অমাধ্যম অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যেরই পরিবর্তিত একটি রূপ। এখানে জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে উত্তরণের কোনো বিষয় থাকে না। এ কারণে অমাধ্যম অনুমানের সিদ্ধান্তে কোনো নতুনত্ব থাকে না। এসব দিক বিবেচনা করে অমাধ্যম অনুমানকে প্রকৃত অনুমান বলা যায় না।
গ.
সিরাজ স্যারের কাজটি অমাধ্যম অনুমানের আবর্তন প্রকারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
যে অমাধ্যম অনুমানে বিধিসংগতভাবে একটি প্রদত্তবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের স্থান পরিবর্তন করে একটি নতুন সিদ্ধান্ত গঠন করা হয় তাকে আবর্তন বলে। আবর্তন একটি অমাধ্যম অনুমান। এখানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা হয়। অর্থাৎ বিশেষ কয়েকটি নিয়ম অনুসরণ করে একটি প্রদত্তবাক্যের উদ্দেশ্যের স্থানে বিধেয়কে এবং বিধেয়ের স্থানে উদ্দেশ্যকে বসিয়ে সিদ্ধান্তটি গঠন করা হয়। আবর্তনের আশ্রয়বাক্যকে বলা হয় আবর্তনীয় এবং সিদ্ধান্তকে বলা হয় আবর্তিত। যেমন- কোনো মানুষ নয় নিখুঁত। অতএব, কোনো নিখুঁত জীব নয় মানুষ। এ যুক্তিতে 'কোনো মানুষ নয় নিখুঁত' হচ্ছে আশ্রয়বাক্য এবং ‘কোনো নিখুঁত জীব নয় মানুষ' হচ্ছে সিদ্ধান্ত। আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের স্থান বিধিসম্মতভাবে পরিবর্তন করে সিদ্ধান্তটি স্থাপন করা হয়েছে। সুতরাং এ অনুমানটি একটি আবর্তন।
উদ্দীপকের সিরাজ স্যার একটি বেঞ্চের দুই মাথায় ইকরাম ও শিহাবকে বসতে বলেন। কিন্তু পরে পাঠদানের সুবিধার জন্য, ইকরামকে শিহাবের জায়গায় এবং শিহাবকে ইকরামের জায়গায় স্থানান্তর করেন। যা অমাধ্যম অনুমানের আবর্তনকে নির্দেশ করে।
ঘ.
উক্ত অনুমানটি তথা আবর্তনের নিয়মের সঠিক প্রয়োগ না ঘটলে A- যুক্তিবাক্যের অবৈধ সরল আবর্তন ও O-যুক্তিবাক্যের অবৈধ আবর্তন জনিত অনুপপত্তি ঘটতে পারে।
আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারে না। আর আবর্তনে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ পরস্পর পরিবর্তন করায় A যুক্তিবাক্যের অবাপ্য বিধেয় পদ সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহারের কারণে ব্যাপ্য হয়ে যায়। ফলে যুক্তিতে A যুক্তিবাক্যের অবৈধ সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি ঘটে। যেমন- A-সকল গরু হয় চতুষ্পদ। অতএব, A-সকল চতুষ্পদ জীব হয় গরু। এখানে আবর্তনীয়ের অব্যাপ্য বিধেয় পদটি আবর্তিতে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে ব্যাপ্য হয়েছে বিধায় এ আবর্তনটি অবৈধ। কাজেই A-যুক্তিবাক্যের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে আবর্তন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করতে চাইলে আবর্তন করতে হবে O-যুক্তিবাক্যে।
আবার, আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী O যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব হয় না। কেননা O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন করতে গেলে অব্যাপ্য উদ্দেশ্য পদ বিধেয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং ব্যাপ্য হয়ে যায়, যা আবর্তনের চতুর্থ নিয়ম বিরোধী। এই নিয়ম অনুসারে আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারবে না। তাই নিয়ম লঙ্ঘন করে O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন করলে তা অবৈধ হয় বা অনুপপত্তি ঘটে। যেমন- O-কিছু মানুষ নয় হিংস্র। অতএব, O-কিছু হিংস্র জীব নয় মানুষ। এখানে আবর্তনীয়র ব্যাপ্য বিধেয় পদটি আবর্তিতে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে অব্যাপ্য হয়েছে বিধায় এ আবর্তনটি অবৈধ।
আলোচনা শেষে বলা যায়, আবর্তনের নিয়মের সঠিক প্রয়োগ না ঘটলে A-যুক্তিবাক্যের অবৈধ সরল আবর্তন ও O যুক্তিবাক্যের অবৈধ আবর্তন জনিত অনুপপত্তি ঘটতে পারে।