(ক)
সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত অধিকার ভোগ করার জন্য নাগরিককে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাকে কর্তব্য বলে।
(খ)
রাষ্ট্রের বিধানাবলি মানা সাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো বিষয়ে নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে তথ্য অধিকার বলে। আইনানুগ কোনো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা কর্তৃপক্ষের গঠন, উদ্দেশ্য, কার্যাবলি, কর্মসূচি, দাপ্তরিক নথিপত্র, আর্থিক সম্পদের বিবরণ ইত্যাদিকে তথ্য বলা হয়। প্রত্যেক নাগরিকেরই তথ্য জানার এবং জানানোর অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল 'তথ্য অধিকার আইন- ২০০৯' পাস করে। এই আইনটি সাংবাদিক, গবেষক, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর, যা রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
(গ)
উদ্দীপকে মানবাধিকার বিষয়টি লঙ্ঘিত হয়েছে।
মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির যেসব অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা প্রাপ্য তাকে মানবাধিকার বলে। এটি মানুষের জন্মগত অধিকারের সমষ্টি, যা সব ধরনের বঞ্চনা, বৈষম্য ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা দিতে বিকাশ লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক শান্তিসংস্থা জাতিসংঘের মতে, মানুষ তার জীবনে যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের দাবিদার এবং যেগুলো ব্যতীত ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় না, সেগুলোই মানবাধিকার। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৫ নং ধারায় বলা হয়েছে, 'প্রত্যেকেরই জাতীয়তার অধিকার থাকবে।'
উদ্দীপকের পরিবারটি সিরিয়া থেকে বিতাড়িত হয়ে ইউরোপের পথে যাত্রা করে। এর অর্থ হলো, পরিবারটি তাদের জাতীয়তা বা নাগরিকতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং জীবন ও নিরাপত্তার চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাতীয়তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং নৌকাডুবিতে শিশু সন্তানের মৃত্যু হওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের পরিবারটি নাগরিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার মাধ্যমে তাদের মৌলিক মানবাধিকার হারিয়েছে।
(ঘ)
আমি মনে করি, সুশাসনের মাধ্যমে উক্ত বিষয়টি তথা মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।
মানবাধিকার ও সুশাসন পরস্পর সম্পৃক্ত। মানবাধিকার বাস্তবায়নে সুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম। সুশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো যেমন- আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সাম্য এবং গণতন্ত্রের মাধ্যমেই মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।
প্রথমত, মানবাধিকার বাস্তবায়নের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। আইনের শাসনে সবার জন্য আইন সমভাবে প্রযোজ্য হয় এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকে না, ফলে অন্যায়ভাবে কাউকে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব হয় না। দ্বিতীয়ত, সুশাসনের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, যার ফলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়বদ্ধ থাকে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রবণতা হ্রাস পায়। তৃতীয়ত, সুশাসন বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো প্রকাশ করতে এবং প্রতিকার পেতে সাহায্য করে। চতুর্থত, সুশাসন সাম্য ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করে, বিধায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগের সুযোগ পায়।
পরিশেষে বলা যায়, সুশাসনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে সর্বজনীন মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।