Facebook Pixel

সম্প্রতি আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষণীয়। এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত হয় একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। আন্তঃরাষ্ট্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ বহুবিধ সহযোগিতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্য নিয়ে এই সংস্থার জন্ম হয়। অবশ্য বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে সংস্থাটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। ক. OIC-এর পূর্ণরূপ কী? খ. ‘ভাগ কর ও শাসন কর’ নীতি বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থাটি তোমার পঠিত কোন আঞ্চলিক সংস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত সংস্থা গঠনে বাংলাদেশের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৯ঃ বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি

উৎস: Board Exam Question BB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) OIC-এর পূর্ণরূপ হলো Organisation of Islamic Cooperation। (খ) ‘ভাগ কর ও শাসন কর’ নীতি বলতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের একটি কূটকৌশলকে বোঝায়। ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের শাসন দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে এই নীতি গ্রহণ করেছিল। তারা ভারতবর্ষের প্রধান দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়, হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করে। এই বিভাজনমূলক নীতির অন্যতম উদাহরণ হলো ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল এবং ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করার জন্যই তারা এই নীতি প্রয়োগ করেছিল। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থাটি হলো দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক (SAARC)। সার্ক ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এটি গঠিত হয়। উদ্দীপকে এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সংস্থার কথা বলা হয়েছে, যা আন্তঃরাষ্ট্রিক অর্থনৈতিক ও বহুবিধ সহযোগিতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে কাজ করে। সার্কের মূল লক্ষ্যও ঠিক একই। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা থেকেই সার্কের জন্ম। উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে সার্কের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। (ঘ) সার্ক গঠনে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অগ্রগণ্য। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন প্রথম বাংলাদেশই দেখেছিল। বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেন। তাঁর এই উদ্যোগের ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। ১৯৮১ সালে কলম্বোতে এবং ১৯৮৩ সালে নতুন দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের মাধ্যমে সার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। অবশেষে ১৯৮৫ সালের ৭-৮ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং ৮ ডিসেম্বর সার্ক সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংস্থার যাত্রা শুরু হয়। পরিশেষে বলা যায়, সার্কের ধারণা প্রদান, এর রূপরেখা তৈরি এবং এর সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সক্রিয় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেই সার্কের জন্ম হওয়ায় এবং এর প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে সার্ক গঠনে বাংলাদেশের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2019)

সম্প্রতি আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষণীয়। এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত হয় একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। আন্তঃরাষ্ট্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ বহুবিধ সহযোগিতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্য নিয়ে এই সংস্থার জন্ম হয়। অবশ্য বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে সংস্থাটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে।

ক. OIC-এর পূর্ণরূপ কী?

খ. ‘ভাগ কর ও শাসন কর’ নীতি বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থাটি তোমার পঠিত কোন আঞ্চলিক সংস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উক্ত সংস্থা গঠনে বাংলাদেশের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।