ক.
'Ancient Society' বইটির লেখক লুইস হেনরি মর্গান।
খ.
বিবাহ একটি প্রতিষ্ঠান যা সামাজিকভাবে স্বীকৃত। বিবাহের মাধ্যমে নারী-পুরুষ পারিবারিক জীবনে প্রবেশ করে এবং সমাজ স্বীকৃতভাবে সন্তান জন্মদানের অধিকার লাভ করে। পারিবারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিবাহ হলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সামাজিক নানা রীতিনীতি, ধর্ম, আচারের মাধ্যমে নারী-পুরুষের এ সম্পর্ক স্থাপন ও রক্ষা করা হয়। যে কারণে সামাজিক ক্ষেত্রে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম।
গ.
উদ্দীপকে সরোরেট বিবাহের চিত্র ফুটে উঠেছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
পাত্র-পাত্রীর পরিচয় এর ভিত্তিতে বিবাহের অন্যতম একটি উদাহরণ হল সরোরেট বিবাহ। এই প্রথায় কোন ব্যক্তির স্ত্রী মৃত্যু বরণ করলে তিনি মৃত স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করেন। সাধারণত কোন মৃত নারী সন্তান রেখে গেলে তার লালন-পালন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখার কথা চিন্তা করে এই ধরনের বিবাহ সংঘটিত হয়। শ্যালিকাকে বিবাহ করা হয় বলে এই ধরনের প্রথাকে শ্যালিকা বিবাহ রীতিও বলা হয়।
উদ্দীপকের চিত্রেও ধরনের বিষয়কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সিমার বড় বোন সাহানা গত মাসে মারা গিয়েছে। সাহানার দুটি সন্তান আছে। আর তাই সাহানার সন্তানদের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে সিমার বাবা-মা সাহানার স্বামীর সাথে সিমার বিয়ে দিতে চান এবং সিমাও তাদের কথাটি মেনে বিয়ে করতে রাজি হয়। অর্থাৎ উদ্দীপকে ও শালিকাকে বিয়ে করার বিষয়টিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সরোরেট বিবাহের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঘ.
উদ্দীপকের উক্ত বিবাহের ধরণ তথা সরোরেট বিবাহ ছাড়াও আমাদের সমাজে আরো বিভিন্ন ধরনের বিবাহের দেখা যায়। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচলিত বিবাহ ব্যবস্থা হচ্ছে একক বিবাহ। একক বিবাহে একজন মহিলা ও একজন পুরুষের মধ্যে বিবাহ হয়। তবে একজন পুরুষের যদি একাধিক মহিলার সাথে বিবাহ হয় তবে তাকে বহু স্ত্রী বিবাহ বলে।
উদ্দীপকে সরোরেট বিবাহের কথা বলা হয়েছে। যে প্রথায় কোন ব্যক্তির স্ত্রী মারা গেলে তার শালিকার সাথে তার বিবাহ হয়। আবার যদি কোন মহিলার স্বামী মারা যায় সেক্ষেত্রে স্বামীর ভাইয়ের সাথে উক্ত মহিলার বিবাহ হয়। যাকে লেভিরেট বিবাহ বা ভ্রাতৃবিবাহও বলা হয়। এছাড়াও চাচাতো ভাই বোনের মধ্যে ও খালাতো ভাই বোনের মধ্যে বিবাহ হলে তাকে সমান্তরাল কাজিনবিবাহ এবং মামাতো ভাই বোন ও ফুফাতো ভাই বোনের মধ্যে বিবাহ হলে তাকে বিষম বিবাহ বলে। এই ধরনের বিবাহ আমাদের দেশে মুসলমান সমাজে বহুল প্রচলিত।
আবার পাত্র পাত্রীর বর্ণের হিসাবে বিবাহ দুই প্রকার - অনুলোম বিবাহ এবং প্রতিলোম বিবাহ। সাধারণত হিন্দু সমাজে এরূপ বিবাহ পরিলক্ষিত হয়। যখন উঁচু বর্ণের পাত্রের সাথে নিচু বর্ণের পাত্রীর বিবাহ হয় তখন তাকে অনুলোম বিবাহ বলে। আবার অন্যদিকে যখন নিচু বর্ণের পাত্রের সাথে উঁচু বর্ণের পাত্রের বিবাহ হয় তখন তাকে প্রতিলোম বিবাহ বলে। তবে বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত বিবাহ হচ্ছে স্থিরকৃত বিবাহ। এই ধরনের বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর অভিভাবকরাই পাত্র-পাত্রীর মনোনয়ন করে বিবাহের সম্বন্ধ স্থির করে। এছাড়াও আরেক ধরনের বিশেষ বিবাহ প্রচলিত রয়েছে সেটি হল প্রেম গঠিত বিবাহ বা রোমান্টিক বিবাহ। এই ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর নিজের ইচ্ছায়ই বিবাহ সম্পাদিত হয়