ক.
অটিজম হলো মস্তিষ্কজাত এক স্নায়বিক সমস্যা, যা মস্তিষ্কের সাধারণ কর্মক্ষমতাকে ব্যাহত করে।
খ.
UNDP-এর দুটি উদ্দেশ্য হলো-
১. নারীর ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নে নারীর অংশীদারিত্ব বাড়ানো।
২. বিশ্ব্যব্যাপী মানবাধিকার সংরক্ষণ করা।
গ.
উদ্দীপকে সিমরান আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন যুদ্ধাক্রান্ত দেশের শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ সবরাহের জন্য ১৯৪৬ সালে আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তী বিশ্বের অনুন্নত, স্বল্প উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টিসহ সার্বিক কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তাদানের লক্ষ্যে ইউনিসেফ কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৫৩ সালে এ সংস্থাটি জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এর সদরদপ্তর অবস্থিত। ইউনিসেফ নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের প্রতি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সাধন করে পুরুষের পাশাপাশি সম-অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মীনা কার্টুন প্রবর্তন করে। এর মাধ্যমে নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ক্ষেত্রে বঞ্চনাকে কার্টুন, ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে তুলে ধরে তা প্রতিরোধ, প্রতিকার বা উন্নয়নে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সিমরানের উল্লিখিত সংস্থাটি মূলত ইউনিসেফ। কারণ মীনা কার্টুন তাদের সৃষ্টি।
ঘ.
বাংলাদেশের নারী ও শিশুদের উন্নয়নে ইউনিসেফের বহুমুখী কার্যক্রম রয়েছে।
নারী উন্নয়নে নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিসেফ মেয়েদের- স্কুলে উপস্থিতির হার বৃদ্ধির জন্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে। ইউনিসেফ বরাবরই মেয়েদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকৌশল গ্রহণে সরকারকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তাসহ এনজিওগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দান করে যাচ্ছে। আবার, নারী উন্নয়নে মহিলাদের আর্থসামজিক উন্নয়ন ও উপার্জনক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইউনিসেফ বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করে। সেলাই মেশিন, বুননযন্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করে। দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনেও কার্যক্রম পরিচালনা করে।
শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিয়ে ইউনিসেফের একটি কর্মসূচি হলো স্বাস্থ্য সুরক্ষা। শিশু ও প্রসূতি মৃত্যুহার রোধ ও তাদের অবস্থার উন্নতি এবং সংক্রামক ব্যাধির নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করে। যেমন- বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বিনামূল্যে নলকূপ স্থাপন, সুষ্ঠু স্যানিটেশন ব্যবস্থা, মাতৃমলাল ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন, সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলে টিকা সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচারকার্য পরিচালনা প্রভৃতি। আবার পুষ্টির উন্নয়নের জন্য ইউনিসেফ সরকারের সাথে কাজ করছে। যেমন- পুষ্টি বিষয়ে জরিপ পরিচালনা, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন, সচেতনতা তৈরি প্রভৃতি। শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করতে মীনা ইনিশিয়েটিভ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও আর্সেনিক মোকাবিলায় উদ্যোগের পাশাপাশি এইচআইভি/ এইডস বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে। শিশুশ্রম প্রতিরোধ, শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও কাজ করে ইউনিসেফ। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকাশনার দ্বারা প্রারম্ভিক স্বাস্থ্যসেবা, হাত ধোয়া, বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি, শিশু সুরক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে সকলের সামনে তুলে ধরে।
মোটকথা, বাংলাদেশের নারী ও শিশুদের উন্নয়নে ইউনিসেফের কার্যক্রম ব্যাপক ও প্রশংসনীয়।