Facebook Pixel

সম্রাট শেরশাহ ভারতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একজন অন্যতম পথ প্রদর্শক। তার শাসনামলে তিনি নিজস্ব চিন্তা-চেতনার মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন। প্রচলিত পদ্ধতিকে বাতিল করে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন আদলে তিনি এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় গতিশীলতা আসে এবং সাম্রাজ্যের রাজস্ব আয় অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। তার এ নীতি প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রজাদের দুর্দশা লাঘব। এ নীতিটি এতই উন্নত ছিল যে, পরবর্তীতে মুঘল সম্রাটগণ এমনকি ইংরেজরাও এ নীতি অনুসরণ করেছিলেন। [সকল বোর্ড ২০১৫] ক. কোন সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিওয়ানি লাভ করে? খ. ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত কোন ব্যবস্থার মিল আছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উল্লিখিত ব্যবস্থা ভারতে ইংরেজ কোম্পানির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়ক হয়েছিল? তুমি কি এর সাথে একমত? যুক্তি দাও।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনঃ কোম্পানি আমল

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৭৬৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিওয়ানি লাভ করে। খ. ১১৭৬ বঙ্গাব্দে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ফলে সমগ্র বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা যায় যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। আবার দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলায় যে অরাজকতা প্রচলিত হয়েছিল তাতে দরিদ্র মানুষের অবস্থা আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ শাসনব্যবস্থায় দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। যার ফলে বাংলায় এক-তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়। বাংলা ১১৭৬ সালে এ দুর্ভিক্ষ হওয়ায় এটাকে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বা 'মহাদুর্ভিক্ষ' বলা হয়। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার মিল আছে। উদ্দীপকে হতে জানা যায়, সম্রাট শেরশাহ ভারতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একজন অন্যতম পথপ্রদর্শক। তার শাসনামলে তিনি নিজস্ব চিন্তা চেতনার মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন। এ নীতি এতই উন্নত ছিল যে, পরবর্তীতে মুঘল সম্রাটগণ এমনকি ইংরেজরাও এ নীতি অনুসরণ করেছিলেন। অপরদিকে পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, লর্ড কর্নওয়ালিশ ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ২২ মার্চ ভূমি ব্যবস্থায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তন করেন। এ ব্যবস্থায় জমিদারগণ জমির স্থায়ী মালিক হন এবং তাদের রাজস্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্দিষ্ট হয়। যথাসময়ে নির্দিষ্ট কর প্রদান করে জমিদাররা পুরুষানুক্রমে জমিদারি ভোগ করার অধিকার পান। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের ফলে জমিদারদের আয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হয়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দ্বারা জমিদারদের দেয় রাজস্বের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হওয়ায় বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন ও বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ লাভ করে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এদেশের জমিদার শ্রেণিকে বিত্তবান করেছিল এবং এসব বিত্তবান জমিদারেরা এদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট যে, উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার মিল রয়েছে। ঘ. উল্লিখিত ব্যবস্থা অর্থাৎ লর্ড কর্নওয়ালিশের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ভারতে ইংরেজ কোম্পানির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়ক ছিল- উক্তিটির সাথে আমি একমত। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় কৃষিকার্য সম্প্রসারিত হয় এবং জমিদারদের আয় বৃদ্ধি পায়। সরকারি রাজস্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় জমিদারগণ জমিতে অতিরিক্ত শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করে ভূমির উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহিত হন। তারা জঙ্গলাকীর্ণ ও পতিত জমি চাষাবাদের ব্যবস্থা করেন। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হয়। আর জমিদারদের' দেয় রাজস্বের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হওয়ায় কোম্পানি তার আয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট হয়। এতে বার্ষিক বাজেট প্রণয়নের সুবিধা হয় এবং কোম্পানি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ লাভ করে। অস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে উদ্ভূত কুফলগুলো কোম্পানি এ ব্যবস্থা দ্বারা দূর করতে সমর্থ হয়। এ বন্দোবস্ত প্রবর্তনের ফলে যে জমিদার শ্রেণির উদ্ভব ঘটে তারা স্বভাবতই কোম্পানির নির্ভরযোগ্য সমর্থক শ্রেণিতে পরিণত হয়। এ রাজভক্ত জমিদার শ্রেণি এদেশে কোম্পানি তথা ব্রিটিশ শক্তিকে সুদৃঢ় করতে সহায়তা করেছিল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এদেশে কোম্পানির অনুগত জমিদার শ্রেণিকে বিত্তবান করেছিল। এসব বিত্তবান জমিদারেরা এদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। এ সময় কোম্পানির শাসনে জমিদারগণ প্রজাদের মঙ্গলার্থে পুষ্করিণী খনন, বিদ্যালয়, চিকিৎসালয় প্রভৃতি স্থাপনের জন্য প্রচুর অর্থ দান করেছেন। নানাবিধ জনকল্যাণকর কার্যাবলি গ্রামীণ জীবনকে যথেষ্ট সচল করেছিল। সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ভারতে ইংরেজ কোম্পানির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়ক হয়েছিল- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সম্রাট শেরশাহ ভারতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একজন অন্যতম পথ প্রদর্শক। তার শাসনামলে তিনি নিজস্ব চিন্তা-চেতনার মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন। প্রচলিত পদ্ধতিকে বাতিল করে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন আদলে তিনি এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় গতিশীলতা আসে এবং সাম্রাজ্যের রাজস্ব আয় অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। তার এ নীতি প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রজাদের দুর্দশা লাঘব। এ নীতিটি এতই উন্নত ছিল যে, পরবর্তীতে মুঘল সম্রাটগণ এমনকি ইংরেজরাও এ নীতি অনুসরণ করেছিলেন।

[সকল বোর্ড ২০১৫]

ক.

কোন সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিওয়ানি লাভ করে?

খ.

ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত কোন ব্যবস্থার মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উল্লিখিত ব্যবস্থা ভারতে ইংরেজ কোম্পানির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়ক হয়েছিল? তুমি কি এর সাথে একমত? যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Z' একটি বড় রাজ্যের শাসন ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর আশেপাশের ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর দিকে দৃষ্টি দেন। তিনি দেখেন যে পরস্পর বিবদম...

অধীনতামূলক নীতি গ্রহণের ফলে ভারতীয় রাজ্যগুলোর পরিণতি কী হয়েছিল?

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি প্রয়োগ করেন কে?

'অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি' বলতে কোনটি বোঝায়?

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির কয়টি শর্ত ছিল?

. অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির জন্য প্রাণ দিতে হয় কাকে?

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির প্রবস্তা কে ছিলেন?

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির লক্ষ্য কী?

অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রথম কোথায় প্রয়োগ করা হয়?

অধ্যাপক মোঃ মোজাম্মেল হক সবার সাথে বসে টিভিতে 'The Sword of Tipu Sultan' চলচ্চিত্রটি দেখছিলেন। পরিবারের সবার এটি পছন্দের...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।