ক.
Sociology শব্দটি সর্বপ্রথম 'Positive Philosophy' গ্রন্থে ব্যবহৃত হয়।
খ.
মানুষের কর্মকান্ড ও তৎপরতার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য খোঁজার কাঠামো বা জ্ঞানগত টুল হলো কাঠামোবাদ। কাঠামোবাদ অনুযায়ী সামাজিক প্রপঞ্চসমূহ একটির সাথে অন্যটি পারস্পরিক কার্যকারণসূত্রে আবদ্ধ যা বস্তুত একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামোর রূপ পরিগ্রহ করে। অর্থাৎ সমাজ বিশ্লেষণ করাই হচ্ছে সামাজিক কাঠামোকে বিশ্লেষণ করা। সমাজবিজ্ঞানী স্পেন্সার, ডুর্খেইম প্রমুখ মনে করেন, সমাজ বিশ্লেষণে সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি, পরিবার, দল ইত্যাদির ভূমিকা, কার্যাবলি এবং একটির সাথে অন্যটির কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ই হচ্ছে কাঠামোবাদ।
গ.
উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নের গুরুত্বের যে দিকসমূহ ফুটে উঠেছে তা হলো সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করার প্রয়োজনীয়তা। সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সচেতনতা জাগ্রতকরণ এবং সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা যায়।
সমাজবিজ্ঞান আমাদেরকে আত্মসচেতন, শ্রেণি সচেতন, সমাজ সচেতন এবং সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে সাহায্য করে। অর্থাৎ ব্যক্তি হিসেবে আমাদের পরিচয় কী, সামাজিক অবস্থান এবং কোন সামাজিক পরিবেশে আমরা 'সমাজজীবন অতিবাহিত করি তা জানতে ও বুঝতে সমাজবিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামাজিক অধিকারই কেবল নয়, সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্যও সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। আর সে কারণেই বিভিন্ন সামাজিক
সমস্যা সমাধানে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা, সমস্যাবলির গভীরতা অনুধাবন করা এবং সমাধানের দিক নির্দেশনা দেওয়া সমাজবিজ্ঞান পাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উদ্দীপকে খুলনা এলাকার তরুণরা পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিমূলক এক প্রচারাভিযান কর্মসূচি গ্রহণ করে। তরুণরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পথচারীদের রাস্তা পারাপারে করণীয় দিকগুলো সম্পর্কে অভিহিত করার মধ্য দিয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে।
পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের জন্য সমাজবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত সচেতনতা জাগ্রতকরণ এবং সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য অনুধাবন ছাড়াও সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নের আরও অনেক গুরুত্ব রয়েছে। সমাজবিজ্ঞান হলো বাস্তবসম্মত বিজ্ঞান। তাই সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। যে সমাজে আমরা বাস করি সে সমাজ সম্পর্কে বাস্তব তথা পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান ছাড়া আমাদের সামাজিক জীবন অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ থেকে যাবে।
উদ্দীপকে একদল তরুণকে স্বেচ্ছায় সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এটি সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞানকে কাজে লাগানোর উপায়। তবে এর বাইরেও আরও অনেক বিষয় আছে যা সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নে জানা যায়। সমাজবিজ্ঞান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পদ এবং সুযোগ-সুবিধার বণ্টন সম্পর্কে জ্ঞানদান করে। সমাজের উৎপাদন যন্ত্রের সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর সম্পর্ক কী, কে, কতটা উৎপাদনে অবদান রাখছে, কারা, কতটা ভোগ করছে এবং কারা বঞ্চিত হচ্ছে প্রভৃতি বিষয়ে আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারি সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে। আর্থসামাজিক এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনা প্রণয়নে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে হলে সে পরিকল্পনা সামাজিক সমস্যার আলোকে হতে হবে। সমাজ কোন ধারায় পরিবর্তিত হচ্ছে, ব্যক্তি, শ্রেণি ও জাতি হিসেবে আমাদের কোন পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞান আমাদেরকে পথ নির্দেশনা দিতে পারে।
সমাজবিজ্ঞান বিশ্বের বিভিন্ন সমাজ ও জাতির মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সমাজবিজ্ঞান পাঠে আমরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সমাজ, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠী সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারি। এতে পারস্পরিক ভাবের আদান-প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। উক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান ব্যাপক পরিসরে সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে।