ক.
সাহায্যের প্রকৃতি ও তহবিলের উৎস অনুসারে সংস্থাকে দুইভাগে ভাগ করা যায়।
খ.
সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলতে কতগুলো সুনির্দিষ্ট আচার-আচরণ এবং কার্যপ্রণালীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন— বিবাহ, পরিবার, ধর্ম ইত্যাদি।
সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমাজ অনুমোদিত কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে মানুষের বহুমুখী মানবিক প্রয়োজন পূরণ করে। এর মাধ্যমে সমাজ নির্ধারিত এবং রাষ্ট্র প্রবর্তিত কিছু নিয়ম-নীতি বা পদ্ধতি সমাজের মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা রয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলতে ঐসব সংস্থাকে বোঝায়, যারা দেশে বিদ্যমান আইনসমূহ নাগরিকদের কল্যাণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে। এ সংস্থার সদস্যরা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োগের জন্য নিবেদিত প্রাণ। এর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে পুলিশের বিভিন্ন বাহিনী ও র্যাব। বৃহৎ অর্থে বিচার বিভাগের কাজও এর আওতাভুক্ত বলে বিবেচিত হয়। তবে সাধারণত পুলিশ বিভাগই আইন প্রয়োগের মূল সংস্থার দাবিদার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জনগণের বন্ধু বা জনগণের সেবকও বলা হয়। জনগণ যাতে আইনের সুফল পায় এবং দেশের আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে সে লক্ষ্যে এ সংস্থাগুলো ভূমিকা রাখে । উদ্দীপকে একটি জেলায় দুই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, এ ঘটনায় সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। উদ্দীপকের এই ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেমন; পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ফৌজদারি আদালত প্রভৃতি ভূমিকা পালন করতে পারে। উদ্দীপকে জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পুলিশের সহযোগিতায় উক্ত এলাকায় সংঘর্ষ যেনো না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। একইভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সংঘর্ষ রোধে ভূমিকা পালন করতে পারেন। আবার উক্ত ঘটনার সঠিক বিচারের মাধ্যমে আদালত ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আদালত প্রভৃতি সংস্থার ভূমিকা রয়েছে।
ঘ.
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সামাজিক দায়িত্বশীলতা আনয়নে সমাজকর্মী ভূমিকা পালন করতে পারেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রচলিত আইনের প্রয়োগ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তাবিধানের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলা হয়। সমাজকর্মী হলেন পেশাদার সমাজকর্মে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, দক্ষ, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টিকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেন। এক্ষেত্রে সমাজকর্মীর ভূমিকা হচ্ছে সক্ষমকারী, সমন্বয়কারী, সহায়তাকারী, পরিচালক প্রভৃতি। পেশাদার সমাজকর্মীগণ অন্যান্য পেশার মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তাদের কাজে সহায়তা করে থাকে । সমাজকর্মী আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার মাঝে সামাজিক দায়িত্বশীলতা আনয়নে ভূমিকা পালন করতে পারেন। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী পুলিশ প্রশাসন, নির্বাহী প্রশাসন ও বিচার বিভাগের সাথে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বিভিন্ন অপরাধ বিশেষ করে সামাজিক অপরাধ দমনে আলোচনা সভা আয়োজন করতে পারে। এর মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি হবে। স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশের সাথে সমন্বয় করে সামাজিক বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে উঠান বৈঠক; মতবিনিময় সভা প্রভৃতি আয়োজন করতে পারেন। বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া অপরাধ, অপরাধীদের পুনর্বাসন, হাজতীদের 'মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাঝে অপরাধ দমনে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে কখনো যেনো নিরঅপরাধ ব্যক্তি যেনো হেনস্থার শিকার না হয় সে বিষয়ে সমাজকর্মী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাঝে 'দায়িত্বশীলতা জাগ্রত করবেন। সর্বোপরি অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীর শাস্তি, নিশ্চিতকরণ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও বিচারের সম্মুখীন হাজতীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মাঝে সামাজিক দায়িত্বশীলতা আনয়নে সমাজকর্মী ভূমিকা পালন করতে পারেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সামাজিক দায়িত্বশীলতা আনয়নে সমাজকর্মীর অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।