ক.
CEDAW এর পূর্ণরূপ Convention on the Elimination of all froms of Discrimination Against Women.
খ.
বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী অগবার্ন ও নিমকফ সামজিক স্তরবিন্যাসকে নিয়ন্ত্রিত অসাম্য বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সামাজিক ভূমিকা ও কার্যাবলির ভিত্তিতে জনগোষ্ঠী উঁচুনীচু স্তরে সংগঠিত। তাদের মতে, স্তরবিন্যাস হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজে ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীকে মোটামুটি স্থায়িভাবে উঁচুনীচু মর্যাদার ক্রমানুসারে সাজানো হয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে সামাজিক অসমতা।
সামাজিক অসমতা মানে হচ্ছে সমাজের কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো অসম বণ্টন। সমাজ তার দুর্লভ, কাঙ্ক্ষিত ও মূল্যবান বিষয়বস্তু বা সম্পদ বিভিন্ন উপাদানের ভিত্তিতে অসমভাবে বণ্টন করে। উদ্দীপকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে। বিশ্বের মাত্র ৯৮ জন মানুষ পৃথিবীর অর্ধেক সম্পত্তির মালিক। তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ কোনো কোনো রাষ্ট্রের সম্পত্তি থেকেও বেশি। উল্লিখিত বিষয়গুলো সামাজিক অসমতাকেই নির্দেশ করে।
সমাজে বিভিন্ন প্রকার অসমতা দেখা যায়। যেমন- লিঙ্গ ভিত্তিক, বয়সভিত্তিক, ক্ষমতাভিত্তিক ইত্যাদি। লিঙ্গ সামাজিক অসমতার অন্যতম নির্ধারক। পুরুষ ও নারীর লিঙ্গ ভেদাভেদের দোহাই দিয়ে সমাজ নারী-পুরুষের সম্পর্কে অসমতা সৃষ্টি করেছে। বয়সভেদেও সামাজিক অসমতা তৈরি হয়। বয়সভিত্তিক অসমতা প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট মনে হলেও এর পিছনে শক্তিশালী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারণা রয়েছে। আবার ক্ষমতা, সম্পত্তি, মালিকানা, প্রতিপত্তি, মর্যাদা ইত্যাদি ভিত্তিতেও সামাজিক অসমতা তৈরি হয়। ক্ষমতার মাত্রার ওপর মানুষ বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত হয়।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে সামাজিক অসমতা, যার সাথে লিঙ্গ বৈষম্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
সামাজিক অসমতা হচ্ছে সেই ব্যবস্থা যেখানে মর্যাদার দিক থেকে সব মানুষ সমান অধিকার পায় না। অর্থাৎ, সামাজিক অসমতা বলতে আমরা বুঝি কাঙ্ক্ষিত বিষয়বস্তুতে অসম অধিকার। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, বিশ্বের মাত্র ৯৮ জন মানুষ পৃথিবীর অর্ধেক সম্পত্তির মালিক। তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ/সম্পত্তি কোনো কোনো রাষ্ট্রের সম্পত্তি থেকেও বেশি। উল্লিখিত বিষয়গুলো সামাজিক অসমতাকেই নির্দেশ করে।
সমাজে বিভিন্ন প্রকার সামাজিক অসমতা দেখা যায়। তার মধ্যে লিঙ্গ সামাজিক অসমতার অন্যতম নির্ধারক। নারী ও পুরুষের মাঝে জীববিজ্ঞানের নিয়মে যে পার্থক্য তাকে লিঙ্গ বলে চিহ্নিত করা হয়। এই লিঙ্গ পার্থক্যের জন্যই মানবজাতি দুটি অংশে বিভক্ত। প্রাকৃতিক কারণে লিঙ্গভিত্তিক অসমতার উদ্ভব হলেও সমাজজীবনে এর একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। সম্পদের অসম বণ্টন যে লিঙ্গ বৈষম্যের সাথে সম্পর্কিত তা আমাদের সমাজব্যবস্থার প্রতি দৃষ্টি দিলেই স্পষ্ট হওয়া যায়। যেমন- ইসলাম ধর্মে লিঙ্গভেদে সম্পদ বন্টন করা হয়েছে। একটি ছেলে তার পিতার সম্পত্তিতে যে অংশ পায় একটি মেয়ে পায় তার অর্ধেক। আবার হিন্দুধর্মে মেয়েদের পিতার সম্পত্তির থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনিভাবে সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় নেমেও মেয়েরা পিছিয়ে পড়ে বা পুরুষ শাসিত সমাজ তাদের পিছিয়ে রাখে। যেমন: একটি কারখানায় পুরুষ শ্রমিক ও মেয়ে শ্রমিক সমান কাজ করলেও পারিশ্রমিকের বেলায় পুরুষ শ্রমিককে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে বলা যায় যে, অসমতার সাথে লিঙ্গ বৈষম্য সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।