Facebook Pixel

সাম্প্রতিককালে সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সে জন্য এসব খাতের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এসব ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার অনেক সময় দেশের জনগণ, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে। তাছাড়া সরকার বৈদেশিক সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও ঋণ নেয়। ক. সরকারি অর্থব্যবস্থা কাকে বলে? খ. মূল্য সংযোজন করকে পরোক্ষ কর বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে যে দুই ধরনের সরকারি ঋণের কথা বলা হয়েছে তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো। বাংলাদেশের জন্য কোন ধরনের ঋণ উত্তম বলে তুমি মনে কর?

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৯ঃ সরকারি অর্থব্যবস্থা

উৎস: Board Exam Question BB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. অর্থনৈতিক বিষয়ের যে শাখা সরকারের আয়-ব্যয় ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে। খ. পরোক্ষ কর বলতে ঐ করকে বোঝায় যে করের করঘাত ও করপাত ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ওপর পড়ে। অন্যকথায়, পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে যার ওপর কর ধার্য করা হয় সে প্রাথমিকভাবে তা প্রদান করলেও পরে বর্ধিত দামের মাধ্যমে তা ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে নিতে পারে। মূল্য সংযোজন করের ক্ষেত্রে করদাতা তার ওপর আরোপিত কর প্রদান করলেও পরে বর্ধিত দামের মাধ্যমে তা ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে। এ জন্য এ করকে পরোক্ষ কর বলা হয়। গ. অতীতের তুলনায় বর্তমানে সরকারের অর্থনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড যথেষ্ট বেড়ে যাওয়ায় সরকারি ব্যয়ও অতীতের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আজকাল সরকার বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন, দেশ পরিচালনা ইত্যাদি কাজের জন্য অর্থ ব্যয় করে। নিচে উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ব্যাখ্যা করা হলো। ১. শিক্ষা: শিক্ষা মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটিয়ে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে সহায়তা করে বলে এ খাতে সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। সরকারি উদ্যোগে সময়ের প্রয়োজনানুযায়ী বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও সেগুলো পরিচালনা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান, শিক্ষা খাতে অনুদান প্রভৃতি বাবদ সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। সাম্প্রতিক সময়ে সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীর বৃত্তি প্রদান, শিক্ষা উপকরণ ক্রয় বাবদ অনুদান, স্কুল ঝরে-পড়া রোধে মাসিক ভাতা প্রদান ইত্যাদির দরুন এ খাতে সরকারি ব্যয় বেড়েই চলেছে। ২. প্রতিরক্ষা: চিরাচরিতভাবেই সরকারি ব্যয়ের অন্যতম প্রধান খাত হলো প্রতিরক্ষা। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা প্রত্যেক দেশেরই সরকারের দায়িত্ব। দেশ-রক্ষার জন্য আধুনিক যুদ্ধের উপযোগী সাজ- সরঞ্জাম ক্রয়, একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলা ও তা পরিচালনা করা প্রভৃতি বাবদ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো এ দেশের সরকার একটি বিরাট অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে। ৩. সামাজিক নিরাপত্তা: সামাজিক নিরাপত্তা বিধান বর্তমানকালের সরকারি ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত, কর্মরত চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ব্যবস্থা, কর্মহীনদের জন্য বেকার ভাতা, দুর্ঘটনার শিকার এমন লোকদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান ইত্যাদির জন্য সরকারকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। বর্তমান সময়ে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রসারিত করায় এ খাতের ব্যয় উত্তরোত্তর বাড়ছে। ঘ. উদ্দীপকে যে দুধরনের সরকারি ঋণের কথা বলা হয়েছে তা হলো: অভ্যন্তরীণ ঋণ ও বৈদেশিক ঋণ। এ দু ধরনের ঋণের কিছু সুবিধা- অসুবিধা রয়েছে। নিচে এ উৎস দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো: সরকারের পক্ষে অভ্যন্তরীণ উৎসগুলো থেকে ঋণ গ্রহণ করা সহজ; কারণ সরকার জনগণকে বিভিন্ন প্রবোচনা দানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করে বা বাধ্য করে খান গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু ঋণের বৈদেশিক উৎসগুলোকে ঋণ প্রদানের জন্য প্ররোচিত বা বাধ্য করা যায় না। এ দৃষ্টিকোণ থেকে অভ্যন্তরীণ বৈদেশিক ঋণের চেয়ে সুবিধাজনক। অভ্যন্তরীণ ঋণ নিতে গেলে সরকারকে কোনো শর্তের মোকাবিলা করতে হয় না। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করলে তা বিদেশিদের বেঁধে দেওয়া শর্ত পূরণ করেই ব্যবহার করা যায়। ঋণের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগৃহীত ঋণ পরিশোধে সরকার নতুন নোট ছাপিয়ে বা অধিক হারে কর ধার্য করে তা পরিশোধ করতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে স্বর্ণ ও রৌপ্য আবশ্যক হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, অভ্যন্তরীণ উৎস ঋণ গ্রহণ সুবিধাজনক। উপরিউল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে দেখা দরকার বাংলাদেশের জন্য কোন শ্রেণির ঋণ উত্তম। অভ্যন্তরীণ সরকারি ঋণ দেশে বিনিয়োগ, নিয়োগ, উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি করে। এ বর্দ্ধিত আয় দ্বারাই পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ করা যেতে পারে। কিন্তু বিদেশি ঋণ সুদা-আসলসহ পরিশোধ করতে হয় যা দেশের বাইরে চলে যায় ও আয় সৃষ্টিতে অবদান রাখে না। এটি আসলে জাতীয় আয় হ্রাস করে। তাই বাংলাদেশের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ করাই উত্তম বলে মত দেওয়া যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2017)

সাম্প্রতিককালে সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সে জন্য এসব খাতের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এসব ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার অনেক সময় দেশের জনগণ, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে। তাছাড়া সরকার বৈদেশিক সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও ঋণ নেয়।

ক.

সরকারি অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?

খ.

মূল্য সংযোজন করকে পরোক্ষ কর বলা হয় কেন?

গ.

উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকে যে দুই ধরনের সরকারি ঋণের কথা বলা হয়েছে তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো। বাংলাদেশের জন্য কোন ধরনের ঋণ উত্তম বলে তুমি মনে কর?

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' দেশের সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য অর্থ ব্যয় করে। সরকার এ সমস্ত ব্যয় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং স্থানীয় কর্ত...

'B' দেশের সরকার মেট্রোরেল , উড়াল সড়ক , টানেল এরূপ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ বিশ্বব্যাংক ...

“B” দেশের সরকারের আয়ের উৎস সমূহ : “B” দেশের সরকার জাতীয় আয় বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছর ১-৩০ নভেম্বর জাতীয় আয়কর মেলা আয়োজ...

'D' দেশের সরকার দেশের দীর্ঘতম নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রথমে বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও বিভিন্ন দেশের সরকার...

'D' দেশের সরকারের আয়ের উৎসসমূহ নিম্নরূপ- উৎস ২০১৯ - ২০ আয় ( কোটি টাকা ) আয়কর ৭০ , ৫০১ . ৪৯ মূল্য সংযোজন কর ৮৬ , ০৯৭ . ৩৩...

NBR নিয়ন্ত্রিত কর হলো- i. আয় ও মুনাফার উপর কর ii. সম্পত্তি ও সম্পদ কর iii. যানবাহন কর নিচের কোনটি সঠিক?

NBR নিয়ন্ত্রিত কর হলো- i. আয় ও মুনাফার ওপর কর ii. সম্পত্তি ও সম্পদ কর iii. যানবাহন কর নিচের কোনটি সঠিক?

S ফার্মাসিটিক্যালস্ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উৎপাদন করে তার ওপর সরকারকে ২০ কোটি টাকা কর দিল। এটি কোন ধরনের কর?

VAT এর পূর্ণরূপ কোনটি?

VAT কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।