ক.
সুমেরীয় সভ্যতার লিখন পদ্ধতি নাম কিউনিফর্ম।
খ.
প্রাক-ইসলামি আরবের একেশ্বরবাদী সম্প্রদায় হানিফ সম্প্রদায় নামে পরিচিত ছিল। ধর্মীয় কুসংস্কার ও অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগেও আরবে এক শ্রেণির লোক একেশ্বরবাদ বিশ্বাস করত। যারা হানিফ সুম্প্রদায় নামে পরিচিত ছিল। তারা আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে এবং এককভাবে তাঁর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করত। তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করত না এবং মূর্তিপূজা থেকে দূরে থাকত। এ সম্প্রদায়ের মধ্যে উমাইয়া-বিন-আবি সালাত, ওরাকা-বিন-নওফেল, আবু বকর প্রমুখ অন্যতম ছিলেন।
গ.
উদ্দীপকে সুমেরীয় সভ্যতার কথা আলোচিত হয়েছে।
উদ্দীপকের সামিত এটি প্রাচীন সভ্যতার বর্ণনা পড়ছিল। সে জানতে পারল উক্ত সভ্যতা মেসোপটেমীয় অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল প্রায় ৪০০০ খ্রিষ্টপূর্বের দিকে। তাদের একজন রাজা স্থানীয় আইনগুলো সংগ্রহ করে একটি বিধিবদ্ধ আইন প্রণয়ন করেছিলেন। এই সভ্যতার মানুষরা জিগুরাত নামক মন্দিরে উপাসনা করত। যা সুমেরীয় সভ্যতাকে নির্দেশ করে। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে আধুনিক ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকায় পর্যায়ক্রমে কয়েকটি সভ্যতার উন্মেষ হয়। মেসোপটেমীয় ভূখণ্ডে যে সভ্যতাগুলো গড়ে উঠেছিল সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাসিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা। একদল ঐতিহাসিকের মতে, সুমেরীয়দের একটি দল ৪০০০ খ্রিষ্টপূর্বান্দের দিকে মেসোপটেমিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষত এলেমের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে এসে দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার নিম্নাঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। তাদের নামানুসারে এ সভ্যতাটি সুমেরীয় নামে পরিচিত হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দে কৃষি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ সুমের জাতি এ অঞ্চলে প্রাচীন ও সভ্যতার উন্মেষ ঘটিয়েছিল। কয়েকটি নগরকে কেন্দ্র করে সুমেরীয়রা সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছিল। সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবি ছিল 'পাতেজি'। ক্ষমতাধর পাতেজিরা ছিলেন একাধারে ধর্মযাজক, সমরনেতা ও সেচব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক। সুমেরীয়দের আয়ের মূল উৎস ছিল কৃষি। কৃষি ও বাণিজ্য ছাড়াও বাড়িঘর নির্মাণ, শিল্প, মাটির আসবাবপত্র তৈরি, নৌকা তৈরি ইত্যাদি কর্মমুখী পেশায়ও সুমেরীয়রা নিয়োজিত ছিল। সুমেরীয় রাজা ডুঙ্গি প্রথম বিধিবদ্ধ আইন প্রণয়ন করেন। সুমেরীয়রা জিগুরাত মন্দিরে পূজা করত।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত সভ্যতাটি হলো মেসোপটেমীয় সভ্যতা, বিশেষ করে সুমেরীয় ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা। বর্তমান ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী উর্বর অঞ্চলে প্রায় ৪০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এই সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়। মানব ইতিহাসের প্রাচীনতম এই সভ্যতা বিশ্বসভ্যতার বিকাশে অসামান্য অবদান রেখেছে।
এই সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান হলো আইনের ভিত্তি প্রণয়ন। ব্যাবিলনের প্রখ্যাত রাজা হাম্মুরাবি বিক্ষিপ্ত স্থানীয় আইনগুলোকে একত্রিত করে একটি সুশৃঙ্খল ও বিধিবদ্ধ আইন সংকলন তৈরি করেন, যা 'হাম্মুরাবির আইন সংহিতা' নামে সর্বত্র পরিচিত। এই কঠোর আইন ব্যবস্থা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমনে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল। স্থাপত্য ও ধর্মীয় ক্ষেত্রেও তাদের অবদান ছিল অভাবনীয়। তারা 'জিগুরাত' নামক সুউচ্চ মন্দির নির্মাণ করত, যা তাদের অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী ও ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিচয় বহন করে। উপাসনার পাশাপাশি এই মন্দিরগুলো শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। পোড়ানো ইট দিয়ে তারা মজবুত নগর ও বাসগৃহ তৈরি করত।
বিজ্ঞান ও লিপির উদ্ভাবনেও তাদের অবদান অনস্বীকার্য। সুমেরীয়রা 'কিউনিফর্ম' লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে। জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিতশাস্ত্রে তারা অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করে। বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রিতে বিভক্ত করা এবং পঞ্জিকার ব্যবহার তারাই শুরু করে। পরিশেষে বলা যায়, মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে মেসোপটেমীয় সভ্যতার বহুমুখী অবদানসমূহ চিরস্মরণীয়।