ক.
যে সংস্থা নাগরিক স্বার্থের অনুকূলে দেশে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ করে তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
খ.
সামাজিক সমস্যাসমূহ সমাজ থেকে উৎপন্ন হয়। সমাজের পরিসরের মধ্যে, সমাজকে কেন্দ্র করে এসব সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং বিস্তার লাভ করে। তবে সমাজ গতিশীল। তাই এর সমস্যাও পরিবর্তনশীল। সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে সামাজিক সমস্যার স্বরূপ ও প্রকৃতিতেও পরিবর্তন সাধিত হয়। তাই বলা যায়, সামাজিক সমস্যা সমাজ থেকে উদ্ভূত।
গ.
উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণমাধ্যমকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। গণমাধ্যম হলো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম। গণমাধ্যমের সহায়তার, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে তথ্য, খবর, শিক্ষা এবং বিনোদন পৌঁছে দেওয়া হয়। গণমাধ্যম জনমত গঠন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক অসংগতি তুলে ধরা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গণমাধ্যমের কাজী হচ্ছে রাজনীতি, অর্থনীতি, পরিবেশ সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের খবর প্রচার করা। গণমাধ্যমে দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতির খবরও প্রচার করা হয়। গণমাধ্যমে শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কর্মসূচি নিয়মিত প্রচার করা হয়। 'গণমাধ্যমের কল্যাণে সামাজিক সংযোগও স্থাপন করা সম্ভব হয়। গণমাধ্যম জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে কাজ করলে এর নেতিবাচক প্রভাবও সমাজে পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকে আলোচিত সামাজিক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানেও গণমাধ্যমের অনেক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
সুতরাং উদ্দীপক সামাজিক প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব রোধে সমাজকর্মী শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেন।
বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের ফলে গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। সর্বস্তরের মানুষের কাছে গণমাধ্যম পৌঁছে গিয়েছে। সংগতকারণে মানুষ এর সুফল যেমন লাভ করছে, তেমনি এর ক্ষতিকর প্রভাবের বাইরেও মানুষ থাকছে না। নানান ক্ষতিকর, অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর, উস্কানিমূলক এবং অসত্য তথ্য ও দ্রুত জনগণের কাছে ছড়িয়ে পড়ছে। আর গণমাধ্যমের একটা অংশই এর জন্য দায়ী। তাই গণমাধ্যমের এসব নেতিবাচক প্রভাব থেকে জনগণকে রক্ষা করতে সমাজকর্মীরা অবদান রাখতে পারেন। প্রথমত, মিডিয়া লিটারেসি প্রোগ্রাম বা মিডিয়া ব্যবহার সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচির পরিচালনা করার মাধ্যমে সমাজকর্মীরা ভূমিকা পালন করতে পারেন। এর মাধ্যমে সমাজকর্মীরা স্কুল, কলেজ এবং কমিউনিটিতে গণমাধ্যম ব্যবহার শীর্ষক প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, অনলাইনে ভুল তথ্য, ঘৃণা বা নেতিবাচক বার্তা ছড়ানো থেকে বিরত রাখতে পারে। তৃতীয়ত, সমাজে মিডিয়া সৃষ্ট, উদ্বেগ, হতাশা বা আত্মশ্বিাসের অভাবের মতো সমস্যাগুলোর জন্য কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা।
চতুর্থত, গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করে নৈতিকতা, জনস্বার্থ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করা।
প্রঞ্চমত, মিডিয়া হাউসগুলোর সাথে আলোচনায় অংশগ্রহণ, ইতিবাচক কনটেন্ট সম্প্রচার নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে পরামর্শ প্রদান এবং সীমাবদ্ধতার জায়গাগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা।
ষষ্ঠত, গবেষণা ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের নিমিত্তে গণমাধ্যমের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা এবং গণমাধ্যমে উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নে তৎপর থাকা, প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব পেশ করা।
সর্বোপরি সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে, অসংগতি তুলে ধরতে, ন্যায়বিচার ও জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মিডিয়ার সাথে কাজ করা সমাজকর্মীর দায়িত্ব। আর এভাবেই সমাজকর্মীরা গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব পরিহারে ভূমিকা পালন করতে পারেন।