ক.
ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে পৃথিবীর সব দেশের সব মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রযুক্তিক ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য ও একাত্মতার ধারণাই হলো বিশ্বায়ন।
খ.
কর্তব্য হলো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে গতিশীল, সচল, ন্যায়ানুগ ও প্রাণবন্ত করার জন্য নাগরিকের বিশেষ দায়িত্ব।
অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশকিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। এসব দায়িত্বকেই নাগরিকের কর্তব্য বলা হয়। অর্থাৎ কর্তব্য বলতে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য কোনো কিছু করা বা না করার দায়িত্বকে বোঝায়। যেমন- আইন মেনে চলা, নিয়মিত কর প্রদান করা, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট প্রদান করা, অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট প্রদান না করা, সন্তানকে শিক্ষাদান করা ইত্যাদি নাগরিকের কর্তব্য।
গ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত নারী-পুরুষের বৈষম্য সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে সমাজকর্মী শায়লা তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে নারী-পুরুষে বিদ্যমান বৈষম্যের কথা উল্লেখ করেছেন। এ বৈষম্য বিভিন্ন অধিকারের ক্ষেত্রেই লক্ষ করা যায়। যেমন- সামাজিক অধিকারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষালাভের অধিকার এবং চলাফেরার অধিকারের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে বৈষম্য বিদ্যমান। পুরুষরা শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে নারীদের তুলনায় অগ্রাধিকার পায়। জাতিসংঘ স্বীকৃত মানবাধিকারের ধারা ২৬-এ সবার শিক্ষা লাভের অধিকার স্বীকৃত হলেও তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের নারীরা এ অধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এছাড়া চলাফেরার অধিকারের ক্ষেত্রেও নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হয়। রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার এবং ভোট প্রদানের অধিকার সব নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের নারীরা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না। এমনকি নির্বাচিত হওয়ার অধিকারের ক্ষেত্রেও তারা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হয়।
অর্থনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রেও তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের নারীরা বৈষম্যের শিকার। যেমন- উপযুক্ত পারিশ্রমিকের অধিকার সব নাগরিকের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত অধিকার। জাতিসংঘ স্বীকৃত মানবাধিকারের ধারা ২৩-এ অর্থনৈতিক অধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের নারীরাই পুরুষের সমান কাজ করেও পুরুষের তুলনায় কম মজুরি পায়। অর্থাৎ তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে এখনও সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বৈষম্য লক্ষ করা যায়।
ঘ.
উদ্দীপকে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে বিদ্যমান বৈষম্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আমার বেশকিছু করণীয় রয়েছে।
অধিকার সমাজ কর্তৃক সৃষ্ট, রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত ও সংরক্ষিত এক ধরনের ক্ষমতা বা দাবি, যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক। তাই পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যাতে তাদের ব্যক্তিত্বের সঠিক বিকাশ ঘটানোর জন্য সমঅধিকার ভোগ করতে পারে সেজন্য আমি জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করব। শিক্ষার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সবাই যেন সমান সুযোগ পায়, এ লক্ষ্যে শিক্ষার সুফল সম্পর্কে পরিবারের সদস্য, সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রতিবেশীদের সচেতন করে তোলার জন্য আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরণ ইত্যাদি কাজ করে যাব। পাশাপাশি নারীদের চলাফেরার স্বাধীনতা প্রদানের বিষয়েও সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করব। মানুষকে নারী-পুরুষ ভেদে নয়, মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করার কথা বলব। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকেও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেমন- নারীদের চলাফেরার সুবিধার জন্য আলাদা পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। সেই সাথে দেশের জনগণকেও সচেতন হতে হবে। নারীরা যাতে স্বাধীনভাবে তাদের ভোট প্রদান করতে পারে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে পরিবার, রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীরা যাতে ন্যায্য মজুরি পায়, রাষ্ট্রকে সে নিশ্চয়তা দিতে হবে। এক্ষেত্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংবলিত সংবিধানের ধারাগুলো উল্লেখপূর্বক সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে আমি কাজ করব। আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত দেশসমূহে বিদ্যমান নারী- পুরুষের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।