Facebook Pixel

সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে এমন একটি পদ্ধতি রয়েছে যাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। এর একটি অংশ এলাকার অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অপর অংশটি সমাজকর্ম অনুশীলনের এমন একটি প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য সমষ্টির জনগণের প্রতিনিধিদের যৌথ প্রচেষ্টায় সমাজকল্যাণ চাহিদা নির্ধারণ, সেগুলো প্রণের উপায় সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালানো। ক. ব্যক্তি সমাজকর্মের উপাদান কয়টি? খ. Rapport বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লিখিত সমাজকর্মের পদ্ধতিটি যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে তার মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত সমাজকর্ম পদ্ধতিটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।

বিষয়: সমাজকর্ম ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ সমাজকর্মের পদ্ধতি

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ব্যক্তি সমাজকর্মের উপাদান ৫টি। (যথা: ১. ব্যক্তি বা textPerson, ২. সমস্যা বা textProblem, ৩. স্থান বা textPlace, ৪. পেশাদার প্রতিনিধি বা textProfessional Representative এবং ৫. সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া বা textProcess)। খ. textRapport (র‍্যাপো) একটি ফরাসি শব্দ, যার অর্থ হলো হৃদ্যতা বা পেশাগত সম্পর্ক। সমাজকর্মে, বিশেষ করে ব্যক্তি সমাজকর্মে সাহায্যার্থী এবং সমাজকর্মীর মধ্যে যে পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা, সহানুভূতি ও উদ্দেশ্যপূর্ণ পেশাগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাকেই textRapport বা র‍্যাপো বলা হয়। এর মাধ্যমেই সাহায্যার্থী নির্দ্বিধায় তার গোপন ও জটিল সমস্যার কথা সমাজকর্মীর কাছে খুলে বলতে পারে, যা সমস্যা সমাধানের জন্য অপরিহার্য। গ. উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লিখিত সমাজকর্মের পদ্ধতিটি হলো 'সমষ্টি উন্নয়ন' text(Community Development)। এটি সমষ্টি সমাজকর্মের একটি অন্যতম শাখা। সমষ্টি উন্নয়ন সাধারণত গ্রামীণ বা অনুন্নত এলাকার অপেক্ষাকৃত পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য পরিচালিত হয়। এই প্রক্রিয়াটি যেসব মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. জনগণের অংশগ্রহণ: স্থানীয় জনগণকে সচেতন করে উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে (পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত) তাদের স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এই প্রক্রিয়ার অন্যতম মূল বিষয়। ২. স্বনির্ভরতা অর্জন: বাইরের সাহায্য বা ত্রাণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থানীয় মানুষকে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী করে তোলা এর প্রধান লক্ষ্য। ৩. স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার: সমষ্টির নিজস্ব বস্তুগত (যেমন: অর্থ, ভূমি) এবং অবস্তুগত (যেমন: মানুষের দক্ষতা, শ্রম) সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। ৪. সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন: কেবল অর্থনৈতিক আয় বৃদ্ধি নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, যোগাযোগসহ গ্রামীণ মানুষের সার্বিক জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন করাই সমষ্টি উন্নয়নের মূল ফোকাস। অর্থাৎ, স্থানীয় জনগণের নিজস্ব উদ্যোগ এবং সরকারি সহায়তার সমন্বয়ের মাধ্যমেই সমষ্টি উন্নয়ন প্রক্রিয়াটি তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত সমাজকর্ম পদ্ধতিটি হলো 'সমষ্টি সংগঠন' text(Community Organization)। এটিও সমষ্টি সমাজকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যা মূলত উন্নত, শহর বা সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার সামাজিক সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়। চাহিদা নির্ধারণ ও তা পূরণে সমষ্টি সংগঠন পদ্ধতিটির কার্যকারিতা নিচে মূল্যায়ন করা হলো: ১. চাহিদা ও সম্পদের সমন্বয়: একটি এলাকায় অনেক সমস্যা বা প্রয়োজন থাকতে পারে, কিন্তু সম্পদ সর্বদা সীমিত। সমষ্টি সংগঠন এলাকার মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এবং প্রাপ্ত সম্পদের সাথে চাহিদার কার্যকর সমন্বয় সাধন করে। ২. যৌথ প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা: এটি সমাজের বিভিন্ন সমাজকল্যাণ সংস্থা, স্থানীয় নেতা ও জনগণের প্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও কাজের দ্বৈততা দূর করে একটি সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে। উদ্দীপকেও প্রতিনিধিদের যৌথ প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে। ৩. সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন: এলাকার মানুষের কোন সমস্যাটি আগে সমাধান করা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে বিজ্ঞানভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণে এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। ৪. নেতৃত্ব সৃষ্টি ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: সমষ্টির প্রতিনিধিরা যৌথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলে তাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনাবোধ জাগ্রত হয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক ও পরিবর্তনশীল সমাজের জটিল সমস্যা মোকাবিলা এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে 'সমষ্টি সংগঠন' পদ্ধতিটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর হাতিয়ার।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে এমন একটি পদ্ধতি রয়েছে যাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। এর একটি অংশ এলাকার অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অপর অংশটি সমাজকর্ম অনুশীলনের এমন একটি প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য সমষ্টির জনগণের প্রতিনিধিদের যৌথ প্রচেষ্টায় সমাজকল্যাণ চাহিদা নির্ধারণ, সেগুলো প্রণের উপায় সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালানো।

ক.

ব্যক্তি সমাজকর্মের উপাদান কয়টি?

খ.

Rapport বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লিখিত সমাজকর্মের পদ্ধতিটি যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে তার মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত সমাজকর্ম পদ্ধতিটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।