Facebook Pixel

সমগ্র সৃষ্টিরাজির মধ্যে মানুষ আলাদা। কারণ তার রয়েছে জীববৃত্তি ক্ষমতার পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা। বুদ্ধির কারণেই মানুষ চিন্তা করতে পারে। চিন্তাশক্তি বিকশিত হওয়ায় জ্ঞানচর্চার একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে মানুষ পদ্ধতিগতভাবে যুক্তি প্রদান ও যুক্তি মূল্যায়ন শুরু করে। ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর পূর্বে বিষয়টির সূচনা হয়েছে। ক. যুক্তিবিদ্যা কাকে বলে? খ. যুক্তিবিদ্যা কেন আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান? বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি সম্পর্কে এরিস্টটলের ধারণা ব্যাখ্যা কর। ঘ. তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির পরিধি বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ যুক্তিবিদ্যা পরিচিতি

উৎস: Board Exam Question DiB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যে আদর্শনিষ্ঠ ব্যবহারিক বিজ্ঞান সত্যকে অর্জন ও মিথ্যাকে বর্জন করার উদ্দেশ্যে অনুমান ও তার সহায়ক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে তাকেই যুক্তিবিদ্যা বলে। খ. যে বিজ্ঞান আদর্শ বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে নিজস্ব বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যা আদর্শ বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে নিজস্ব বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে। যুক্তিবিদ্যার এই আদর্শ হলো সত্যের আদর্শ। সত্যের আদর্শ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যা বৈধ যুক্তিপদ্ধতির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে এবং এই নিয়মাবলির আলোকে সেগুলোর মূল্য নিরূপণ করে। তাই যুক্তিবিদ্যা আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। গ. উদ্দীপকে যুক্তিবিদ্যার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে নিচে এরিস্টটলের ধারণা ব্যাখ্যা করা হলো- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে সর্বপ্রথম যৌক্তিক চিন্তাধারার ওপর আলোকপাত শুরু করেন। আমরা জানি, যুক্তিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে অনুমান বা যুক্তি। আর অনুমানের দুটি দিক আছে। আকারগত দিক ও বিষয়গত দিক। এরিস্টটলই সর্বপ্রথম অনুমানের আকারগত দিকের আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা নামক একটি নতুন শাস্ত্রের সূচনা ঘটান এবং যুক্তিবিদ্যার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবদান রাখেন। যুক্তিবিদ্যার অনুমানের ক্ষেত্রে তার শ্রেষ্ঠ অবদান হচ্ছে সহানুমান সম্পর্কে ধারণা প্রবর্তন। সহানুমান প্রক্রিয়া প্রবর্তন করতে গিয়ে তিনি এর সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয় যেমন পদ, সংযোজক, যুক্তিবাক্য, যুক্তিবাক্যের বিরোধিতা, বিধেয়ক, সংজ্ঞা, অভেদ নিয়ম, বিরোধ নিয়ম ইত্যাদিবিষয়ে ধারণা দেন। যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে এরিস্টটল যে ধারণা দিয়েছেন সেটা প্রাচীন যুগ ও মধ্য যুগব্যাপী বিদ্যমান ছিল। সেজন্যই যুক্তিবিদ্যায় এরিস্টটলের অবদান অসামান্য ও অনস্বীকার্য। ঘ. উদ্দীপকে যুক্তিবিদ্যা বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। যার পরিধি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- ১. যুক্তিবিদ্যা অনুমান বা যুক্তিপদ্ধতি, অবরোহ, আরোহ, যুক্তির উপাদান, যুক্তির গঠনকৌশল ও যুক্তি মূল্যায়নের কলাকৌশল সংক্রান্ত শিক্ষা প্রদান করে। ২. যুক্তিবিদ্যা শব্দের অর্থ সুস্পষ্টকরণের উদ্দেশ্যে যৌক্তিক সংজ্ঞা, যৌক্তিক বিভাগ, শ্রেণিকরণ, ব্যাখ্যা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। ৩ যুক্তিবিদ্যা কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কারণ, কার্য, প্রকল্প, সম্ভাব্যতা, পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করে। ৪. এছাড়াও যুক্তিবিদ্যা বিধেয়ক, প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা এগুলো নিয়ে আলোচনা করে। তাই বলা যায় যে, যুক্তিবিদ্যার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2023)

সমগ্র সৃষ্টিরাজির মধ্যে মানুষ আলাদা। কারণ তার রয়েছে জীববৃত্তি ক্ষমতার পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা। বুদ্ধির কারণেই মানুষ চিন্তা করতে পারে। চিন্তাশক্তি বিকশিত হওয়ায় জ্ঞানচর্চার একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে মানুষ পদ্ধতিগতভাবে যুক্তি প্রদান ও যুক্তি মূল্যায়ন শুরু করে। ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর পূর্বে বিষয়টির সূচনা হয়েছে।

ক.

যুক্তিবিদ্যা কাকে বলে?

খ.

যুক্তিবিদ্যা কেন আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান? বুঝিয়ে লেখ।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি সম্পর্কে এরিস্টটলের ধারণা ব্যাখ্যা কর। 

ঘ.

তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির পরিধি বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।