Facebook Pixel

সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমগ্র পৃথিবীকে দুটি গোলার্ধে বা যুদ্ধ শিবিরে বিভক্ত করলে 'না যুদ্ধ, না শান্তি' অবস্থা বিরাজ করে। ক. NATO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. উদ্দীপকের 'না যুদ্ধ, না শান্তি', বলতে কী বোঝানো হয়েছে? গ. তৎকালীন বিশ্বে উক্ত যুদ্ধের প্রভাব আলোচনা কর। ঘ. উক্ত যুদ্ধের অবসানের কারণসমূহ আলোচনা কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল NATO প্রতিষ্ঠিত হয়। খ. উদ্দীপকে 'না যুদ্ধ, না শান্তি' বলতে Cold War বা স্নায়ুযুদ্ধকে বোঝানো হয়েছে। Cold War বা স্নায়ুযুদ্ধ মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ যা দুটি বিরোধী মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ভূত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর দুটি পরস্পরবিরোধী রাষ্ট্র জোট প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ না হয়ে পরস্পরের প্রতি যে যুদ্ধভাব বিরাজ করছিল বা সংগ্রামে লিপ্ত ছিল তাকেই স্নায়ুযুদ্ধ' বা Cold War বলে অভিহিত করা হয়। মূলত যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়' সাধারণত এ ধরনের সম্পর্ককে স্নায়ুযুদ্ধ বলে। গ. তৎকালীন বিশ্বে উক্ত যুদ্ধ অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বশান্তিকে এক নাজুক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়েরর রাজধানী বার্লিন তথা পুরো জার্মানি মিত্রপক্ষ ভাগ করে নেয়। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন পায় পূর্ব জার্মানি। আর পুঁজিবাদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা লাভকরে পশ্চিম জার্মানি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপের রাজনৈতিক ময়দানে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান সোভিয়েত ইউনিয়ন কখনো সহজভাবে মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর আধিপত্য বিস্তারের উদ্যোগ নেয়। ঠান্ডা লড়াইয়ে প্রাধান্য অর্জনের জন্য দুই দেশই ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্রসহ সমরসম্ভার সমৃদ্ধ করে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট হয়। তারা বিভিন্ন সময়ে কোরীয় উপদ্বীপ, ভিয়েতনাম, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ, আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে ছায়া যুদ্ধে (Proxy War) জড়িয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে চলা এসব যুদ্ধে অকল্পনীয় মাত্রায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট। ১৯৬২ সালের ১১ অক্টোবর সোভিয়েত সরকার ঘোষণা করে যে, কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে তারা সে দেশে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষা কিউবায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনা থেকে বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়েছিল বলে অনেকে ধারণা করে। উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, তৎকালীন বিশ্ব রাজনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে স্নায়ুযুদ্ধ প্রভাব বিস্তার করেছিল। ঘ. ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান' হয়। এছাড়াও স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পিছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে। উত্তেজনা প্রশমন এবং বোঝাপড়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি পরিবেশ হলো দাঁতাত। দাঁতাত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উভয় দেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আসে এবং অস্ত্র সীমিত করণে মত দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক পরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আঞ্চলিকতাবাদের সূচনা হয়। ফলে দুই পরাশক্তির শিবিরভুক্ত হওয়ার পরিবর্তে আঞ্চলিকতাবাদে উদ্বুদ্ধ করে যা স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে যথেষ্ট সাহায্য করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের পূর্ব পর্যন্ত বিশ্ব দুই মেরুতে বিভক্ত ছিল। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ায় শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান করে। ফলে স্নায়ুযুদ্ধের প্রবণতা একেবারেই হ্রাস পায়। বিশ্বে শান্তির বাতাস প্রবাহিত হতে দেখা যায়। ১৯৮০ দশকে দুই পরাশক্তি সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও শক্তি প্রয়োগ না করে বরং সংযম দেখাতে শুরু করে। যেমন উদাহরণ হিসেবে SALT-1 এর কথা উল্লেখ করা যায়। ১৯৭৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান আক্রমণ করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো সৈন্য পাঠায়নি। তাই সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অবশেষে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধের চুড়ান্ত অবসান হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমগ্র পৃথিবীকে দুটি গোলার্ধে বা যুদ্ধ শিবিরে বিভক্ত করলে 'না যুদ্ধ, না শান্তি' অবস্থা বিরাজ করে।

ক.

NATO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ.

উদ্দীপকের 'না যুদ্ধ, না শান্তি', বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ.

তৎকালীন বিশ্বে উক্ত যুদ্ধের প্রভাব আলোচনা কর।

ঘ.

উক্ত যুদ্ধের অবসানের কারণসমূহ আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।