Facebook Pixel

সুভাষের দেশটি একটি ঔপনিবেশিক শক্তির শাসনাধীন ছিল। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে তার দেশের প্রথম রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ দলটি ঔপনিবেশিক শাসকদের কাছে এ অঞ্চলের মানুষের দাবি তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিল। কিন্তু তার দেশের অন্য একটি বৃহৎ সম্প্রদায়ের মানুষ পশ্চাৎপদ অবস্থানে ছিল। ফলশ্রুতিতে তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে উপমহাদেশের দ্বিতীয় রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। ক. ভারতের সর্বশেষ ইংরেজ গভর্নর জেনারেল কে? খ. খিলাফত আন্দোলন কেন হয়েছিল? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় রাজনৈতিক দলটি মুসলিম জাতীয়তাবাদকে বিকশিত করে- মূল্যায়ন কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ভারতের সর্বশেষ ইংরেজ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন। খ. খিলাফত আন্দোলন ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ আন্দোলনের ফলে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে এবং তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা পায়। তৎকালে তুরস্কের বিপ্লবী নেতা কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের ক্ষমতা দখল করে এবং খিলাফত তথা 'তুরস্ক সালতানাতকে' বাতিল ঘোষণা করেন। ফলে ১৯২৪ সালে ভারতে উক্ত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম রাজনৈতিক দলটি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে নির্দেশ করে যা ভারতীয়দের মাঝে জাতীয়তাবোধ জাগ্রতকরণসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিক্রমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তখন ভারত ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্য স্বীকার করে ভারতীয়দের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা ও তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করা। এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায় ও এক প্ল্যাটফর্মের অধীনে এসে দাবি আদায়ের সংগ্রামে যুক্ত হয়। দলটির মাধ্যমে ভারতীয়দের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জাতীয়তাবোধের বিকাশ হতে থাকে। জনগণের পক্ষে বিভিন্ন আন্দোলনে তারা নেতৃত্ব দিতে থাকে। ভারতীয়দের মাঝে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে দলটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। ঔপনিবেশিক ভারতের প্রথম দিকের অধিকাংশ নেতার নেতৃত্ব বিকাশের প্ল্যাটফর্ম ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। দলটির মাধ্যমে ভারত গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটে। উদ্দীপকের দলটিও ঔপনিবেশিক শাসনামলে প্রতিষ্ঠা হয় ও শাসকদের কাছে অঞ্চলের মানুষের দাবি তুলে ধরে যা ভারতীয় কংগ্রেসকে প্রতিনিধিত্ব করে। ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় রাজনৈতিক দলটি মুসলিম লীগ যা ভারতে মুসলিম জাতীয়তাবাদকে বিকশিত করেছিল। ১৮৮৫ সালে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হলেও তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যর্থ হয়। ফলে মুসলিম সমাজের নেতারা একটি বিকল্প রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা বোধ করে যা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পার। এই বোধ থেকে ১৯০৬ সালে উপমহাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মুসলিম লীগ উপমহাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মুসলিম জাতীয়তাবাদ বিকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। প্রথমত, মুসলিম লীগের জন্মের পর মুসলিমরা নিজেদেরকে অন্য জাতি হিসেবে ভাবতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, মুসলিম লীগ মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন পদ্ধতির দাবি জানায়। তারা মনে করত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই তারা মুসলিমদের জন্য আলাদা নির্বাচকমণ্ডলী ও প্রতিনিধিত্বের দাবি জানায় যা পরবর্তীতে ১৯০৯ সালে স্বীকৃত হয়। তৃতীয়ত, বঙ্গভঙ্গ হলে মুসলিম সম্প্রদায় উৎফুল্ল হয়। হিন্দুদের স্বার্থে আঘাত লাগায় হিন্দুরা এর বিরোধিতা করতে থাকে ও সফল হয়। এসময় মুসলিম লীগ বঙ্গভঙ্গের পক্ষে প্রচারণা চালাতে থাকে। এভাবে মুসলিমদের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, তারা হিন্দু সম্প্রদায় থেকে আলাদা একটি জাতি এবং তাদের নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রয়েছে। এই উপলব্ধি থেকে জিন্নাহ বিখ্যাত 'দ্বিজাতি তত্ত্বের' ঘোষণা দেন যেখানে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের চূড়ান্ত সূচনা হয়। দ্বিজাতি তত্ত্ব পরবর্তীতে হিন্দুরাও মেনে নেয় এবং ধর্মের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। উদ্দীপকে প্রথম দলটি একটি বৃহৎ সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেনি। ফলে দ্বিতীয় দলের জন্ম হয় যা মুসলিম লীগকে প্রতিনিধিত্ব করে। মুসলিম লীগের রাজনীতিতে উপমহাদেশে মুসলিম জাতীয়তাবাদের বিকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সুভাষের দেশটি একটি ঔপনিবেশিক শক্তির শাসনাধীন ছিল। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে তার দেশের প্রথম রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ দলটি ঔপনিবেশিক শাসকদের কাছে এ অঞ্চলের মানুষের দাবি তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিল। কিন্তু তার দেশের অন্য একটি বৃহৎ সম্প্রদায়ের মানুষ পশ্চাৎপদ অবস্থানে ছিল। ফলশ্রুতিতে তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে উপমহাদেশের দ্বিতীয় রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়।

ক.

ভারতের সর্বশেষ ইংরেজ গভর্নর জেনারেল কে?

খ.

খিলাফত আন্দোলন কেন হয়েছিল?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব বর্ণনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের দ্বিতীয় রাজনৈতিক দলটি মুসলিম জাতীয়তাবাদকে বিকশিত করে- মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নির্যাতনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে নির্বাচনে পরাজিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দল জোটভুক্ত ...

'A' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে রাষ্ট্রের একাংশের একটি রাজনৈতিক দ...

P নামক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের একটি নির্বাচনে শাসক দলের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণ কর...

"Six Point demand was the Demand for the Survival of the Bangalis." -উক্তিটি কার?

'The Politics of Development the case study of Pakistan' গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

'X' উপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে...

'X' নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতা লাভের প্রায় দুই যুগ পর একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীর শা...

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নতি সাধন হবে। কিন্তু তারা শাসকশ্...

'Z' নামক রাষ্ট্রটি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে স্বাধীনতা লাভ করে। ওই রাষ্ট্রে বহু ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী বসবাস করে। স্বাধীনত...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।