(ক)
নৈতিকতা হলো সমাজের বিবেকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কতগুলো ধ্যান-ধারণা ও আদর্শের সমষ্টি বা সমাজ স্বীকৃত আচরণবিধি।
(খ)
দেশের প্রতি মমত্ববোধ, অকৃত্রিম ভালোবাসা, আবেগ ও অনুভূতিকেই দেশপ্রেম বলা হয়।
দেশের মানুষ, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং মাটি, সম্পদ, পরিবেশ ও প্রতিবেশের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা দেশপ্রেমের অংশ। জন্মভূমির প্রতি এই গভীর ভালোবাসার কারণে একজন নাগরিক দেশের জন্য প্রাণ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। দেশের মাটি ও মানুষকে আপন করে ভাবার এই অনুভূতিই হলো দেশপ্রেম বা স্বদেশপ্রেম।
(গ)
উদ্দীপকে জনাব 'M' এর কর্মকাণ্ডে নাগরিকতার জাতীয় দিক ফুটে উঠেছে।
পৌরনীতি ও সুশাসনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো নাগরিকতার জাতীয় দিক। প্রত্যেক ব্যক্তিই কোনো না কোনো রাষ্ট্রের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য প্রকাশ, সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করা, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা এবং নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া, এই সবকিছুই নাগরিকতার জাতীয় দিকের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া নাগরিকতা সম্পর্কিত জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ, যেমন, আইনসভা, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র প্রভৃতি নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব 'M' একজন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তিনি সরকারের নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন এবং জাতীয় সংসদে নানা বিষয়ে আইন প্রণয়ন করেন। এর থেকে বোঝা যায়, জনাব 'M' নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ তথা আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। যেহেতু নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান আইনসভার সাথে সম্পৃক্ত থাকা নাগরিকতার জাতীয় দিকের অন্তর্ভুক্ত, সেহেতু বলা যায়, উদ্দীপকে জনাব 'M' এর কর্মকাণ্ডে নাগরিকতার জাতীয় দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
(ঘ)
সবুজের পঠিত বিষয় অর্থাৎ পৌরনীতি ও সুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম।
পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ নাগরিকদের আত্মসংযম, বিবেক ও বুদ্ধিমত্তার মতো গুণাবলি শিক্ষা দেয় এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। সামাজিক পরিবেশের সাথে নাগরিক জীবনকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার শিক্ষা এই পাঠের মাধ্যমে অর্জন করা যায়। তাই উন্নত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন গঠন করার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসনের শিক্ষা অত্যাবশ্যক।
পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের অধিকার এবং দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে। এই বিষয়টি সুনাগরিক সৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিশ্বশান্তির পথকেও নিশ্চিত করার শিক্ষা দেয়। এর মাধ্যমে নাগরিকরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করে। এছাড়া এই পাঠ জাতিকে সুযোগ্য নেতৃত্ব গঠনে সহায়তা করে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের পৌরনীতি ও সুশাসন সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
উদ্দীপকে বর্ণিত সবুজ তার পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ তথা আইনসভার জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পেরেছে। যেহেতু আইন বিভাগের কার্যাবলি পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়, সেহেতু বলা যায়, সবুজের পঠিত বিষয়টি হলো পৌরনীতি ও সুশাসন। একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হলে এই বিষয়টি পাঠের গুরুত্ব অনেক।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হলে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেক নাগরিকেরই পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান থাকা আবশ্যক।