Facebook Pixel

স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের অধিকারী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন গুণাবলির অধিকারী হলেও তার মধ্যে প্রবল সন্দেহপ্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। আসলে ইরাকের জটিল রাজনৈতিক, জাতিগত বিদ্বেষ, বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের আত্মকলহ তাকে কঠোর হতে বাধ্য করেছিল। সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন কৌশলে শতধাবিভক্ত ইরাকিদের একত্রিত করে দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েম করতে সক্ষম হন। ক. কার নামানুসারে আব্বাসি খিলাফতের নামকরণ করা হয়? খ. বাইতুল হিকমার অনুবাদ কার্যাবলি কীরূপ ছিল? গ. উদ্দীপকে প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ আব্বাসীয় কোন খলিফার কর্মকাণ্ডের অনুরূপ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. “দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েমে সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে উক্ত খলিফা আরও দূরদর্শী ছিলেন"- উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ স্পেনে উমাইয়া শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মহানবি (সা.)-এর চাচা আল-আব্বাসের নামানুসারে আব্বাসি খিলাফতের নামকরণ করা হয়। খ. খলিফা মামুন বায়তুল হিকমাহর অনুবাদ দপ্তরে গ্রিক, সিরীয়, পারসিক, সংস্কৃত ভাষায় লিখিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন মৌলিক গ্রন্থ সংগ্রহ করে সেগুলো আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। এ সময় যেসব লেখকের গ্রন্থ আরবিতে অনূদিত হয় তার মধ্যে ছিলেন প্লেটো, এরিস্টটল, লিউক, কোস্টার, গ্যারেন, ইউক্লিড, টলেমি প্রমুখ। এছাড়া মানকাহ ও দুবান নামক পণ্ডিতের ওপর সংস্কৃত ভাষায় লিখিত ভারতীয় গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার প্রস্তুক এবং ঈসা, বিন ইয়াহিয়া, মুসা বিন খালিদের ওপর বিভিন্ন পারসিক আকর গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদের ভার দেন। গ. উদ্দীপকে প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ খলিফা আল মনসুর কর্তৃক আবু মুসলিমকে হত্যাকাণ্ডের অনুরূপ। উদ্দীপকের সাদ্দাম হোসেন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে ফেলেন। প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের এ আচরণের সাথে খলিফা আল মনসূরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি আবু মুসলিমকে হত্যা করার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। আবু মুসলিম একজন বিখ্যাত কূটনীতিবিদ, সংগঠক, রণকৌশলী এবং জনপ্রিয় সেনাপতি ছিলেন। তিনি নিজ মেধা ও সাংগঠনিক শক্তিকে আব্বাসি রাজবংশকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রভৃত ভূমিকা রেখেছিলেন। আবু - মুসলিমের জনপ্রিয়তা আবু জাফর আল মানসুর নিজের জন্য বিপজ্জনক মনে করলেন। আবু মুসলিমের জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিত্ব ও আব্বাসি বংশের প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা ইত্যাদি কারণে আবু জাফর আল মনুসর তাকে বশে রাখা চ্যালেঞ্জ মনে করে হত্যা করার কৌশল গ্রহণ করেন। তাই আবু মুসলিমের জনপ্রিয়তার ঘাঁটি খোরাসান থেকে তাকে দূরে রাখার জন্য মিশর কিংবা সিরিয়ার গভর্নর হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় আবু মুসলিমকে খলিফার সাথে সাক্ষাতের জন্য রাজদরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথম দিনে আবু মুসলিমকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরের দিন তার বিরুদ্ধে কতকগুলো অভিযোগ আনা হয়। অতপর বিদায়ের মুহূর্তে ৭৫৫ খ্রি. আবু মুসলিমকে তরবারির আঘাতে হত্যা করা হয়। সুতরাং আব্বাসি খিলাফতের প্রতিষ্ঠার নেপথ্য নায়ক আবু মুসলিমকে হত্যা করার মাধ্যমে খলিফা আল মনসুরের যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে, অনুরূপ বৈশিষ্ট্য প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের মধ্যেও দেখা যায়। ঘ. দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েমে সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে আল মনসুর আরও দূরদর্শী ছিলেন- উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও তিনি তা স্থায়ী করতে পারেননি। বরং আমেরিকার আক্রমণে নিজ ক্ষমতা হারান। পক্ষান্তরে, খলিফা আল মনসুর নিজে খিলাফতে অধিষ্ঠিতই ছিলেন না, বরং তা স্থায়ীকরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তার অনবদ্য ভূমিকার কারণেই ১২৫৮ সাল পর্যন্ত আব্বাসি খিলাফতে টিকেছিল। আল মনসুর আব্বাসি বংশের প্রথম শাসক না হয়েও এ বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। এ রাজপরিবারের স্থায়িত্ব, খলিফাগণের অপ্রতিহত ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রাধান্য লোপের পরও এদেশ প্রকৃত প্রতিপত্তি লাভ তারই দূরদর্শিতার গুণে সম্ভব হয়েছিল। আল মনসুর আব্বাসি বংশকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিষ্ঠুর আচরণ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক মনসুর বলেন, "তার সব সদগুণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বাসঘাতক ও নিষ্ঠুর হিসেবে ইতিহাসের রায় তার বিরুদ্ধেই যাবে। সানাবাদের বিদ্রোহ, রাওয়ান্দিয়া বিদ্রোহ, খোরাসান ও তারাবিস্তানের বিদ্রোহ, হিরাতের শাসনকর্তার বিদ্রোহ, বার্বার ও খারিজির বিদ্রোহ দমন করে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। এমনকি যে আলী বংশীয়দের সমর্থন এবং যে আব্দুল্লাহ আবু মুসলিমের বাহুবলে আব্বাসি বংশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাদের প্রতিও তিনি নৃশংস আচরণ করেছেন। এত কিছু সত্ত্বেও তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ, মিতব্যয়ী, কর্মতৎপর ও প্রজাবৎসল শাসক হিসেবে সুপরিচিত লাভ করেছেন। সকল প্রকার বিপদ অবসানের পর তিনি নতুন রাজধানী স্থাপনের জন্য বাগদাদ গ্রামকে নির্বাচন করেন। দজলা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এ স্থানে তিনি একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন, যা ইতিহাসখ্যাত বাগদাদ নগরী নামে পরিচিত। এ সমস্ত কারণে আব্বাসি বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। সুতরাং বলা যায়, আল মনসুর দীর্ঘমেয়াদি শাসন করেছে অবশ্যই প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে অধিক দূরদর্শী ছিলেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের অধিকারী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন
গুণাবলির অধিকারী হলেও তার মধ্যে প্রবল সন্দেহপ্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। আসলে ইরাকের জটিল রাজনৈতিক, জাতিগত বিদ্বেষ, বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের আত্মকলহ তাকে কঠোর হতে বাধ্য করেছিল। সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন কৌশলে শতধাবিভক্ত ইরাকিদের একত্রিত করে দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েম করতে সক্ষম হন। 

ক.

কার নামানুসারে আব্বাসি খিলাফতের নামকরণ করা হয়?

খ.

বাইতুল হিকমার অনুবাদ কার্যাবলি কীরূপ ছিল?

গ.

উদ্দীপকে প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ আব্বাসীয় কোন খলিফার কর্মকাণ্ডের অনুরূপ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

“দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েমে সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে উক্ত খলিফা আরও দূরদর্শী ছিলেন"- উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।