ক.
বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন তিতুমীর।
খ.
ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্ধারিত তারিখে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভূমি নিলামে তুলে বকেয়া আদায়ের যে কঠোর আইন ছিল, তাকে সূর্যাস্ত আইন বলে।
১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী জমিদারদের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো। যেসব জমিদার ঐ সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হতেন, তাদের জমিদারি নিলামে তোলা হতো। সূর্যাস্ত আইনের কবলে পড়ে বাংলার অসংখ্য জমিদার, বিশেষ করে মুসলমান ভূস্বামীরা তাদের জমিদারি হারান।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'প্রথা সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত। এই প্রথা বিলোপের সাথে জড়িত গভর্নর হলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক তার শাসনামলে ভারতীয় সমাজে কিছু সামাজিক সংস্কার সাধন করেন। যা তৎকালীন ভারতীয় সমাজে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে। তার সামাজিক সংস্কারমূলক কাজের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য 'সতীদাহ প্রথা' রহিতকরণ। প্রাচীনকাল থেকেই এদেশের হিন্দু সমাজে 'সহমরণ' এবং 'অনুমরণ' প্রথা প্রচলিত ছিল। অনেক সময় অনেক বিধবার অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও সামাজিকতা রক্ষার খাতিরে জোরপূর্বক তাদের এ প্রথা মানতে বাধ্য করা হতো। লর্ড বেন্টিংক রাজা রামমোহন রায় ও দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় ১৮২৯ সালে এ অমানবিক প্রথা রহিত করেন। এছাড়া তিনি কন্যাশিশু হত্যা ও প্রথম সন্তানকে গঙ্গায় বলি দেবার প্রথা রহিত করেন। তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক সংস্কার ছিল 'ঠগী দমন'। কর্নেল স্লিম্যান এর সহায়তায় ১৮৩০ সালে তাদের কঠোরভাবে দমন ও শাস্তি প্রদান করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুবর্ণ গ্রামে লিটু দাস মারা গেলে তার স্ত্রীকেও শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় দাহ করার জন্য। যা সতীদাহ প্রথাকে নির্দেশ করে। এ প্রথার সাথে জড়িত গভর্নর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের সামাজিক সংস্কারসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসক অর্থাৎ লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক-এর শাসনামল "শান্তি ও সংস্কারের জন্য ছিল এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়"- উক্তিটি যথার্থ।
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের গর্ভনর জেনারেলের দায়িত্বকালীন সময় (১৮২৮-১৮৩৫ সাল) কিছু উল্লেখযোগ্য সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেন যার ফলাফল ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি ১৮২৯ সালে রাজা রামমোহন রায়ের সহায়তায় 'সতীদাহ প্রথা' রহিত করেন ও ১৮৩০ সালে হেনরি স্লিম্যানের সহায়তায় ঠগী দস্যুদের দমন করেন। এর ফলে একদিকে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসে অন্যদিকে সেখানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তিনি শিশু হত্যার মত ঘৃণিত প্রথাও সমাজ থেকে তুলে দেন। তার একান্ত প্রচেষ্টায় ভারতে অনেক বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও ফারসি ও সংস্কৃত ভাষার স্থলে ইংরেজি সরকারি ভাষারূপে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে ভারতবাসী পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের সুফল ভোগ করতে সক্ষম হয়।
এছাড়া প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রদবদলের পাশাপাশি এদেশীয় বিচারক ও কর্মচারীদের বেতন স্কেল ও পদমর্যাদা বাড়ানো হয়। লর্ড মেকলের সহায়তায় তিনি আইন কমিশন গঠন করে 'ইন্ডিয়ান পেনাল কোড' তৈরি করেন যা মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আজও গাইড বুক হিসেবে স্বীকৃত। কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সংস্কারের পাশাপাশি তিনি দেশের অভ্যন্তরে মালামাল চলাচলের ওপর থেকে শুল্ক উঠিয়ে নেন। দেশীয় সেনাবাহিনীকে বেত্রাঘাত করে শাস্তিদানের যে নিয়ম ছিল তিনি তা রহিত করেন।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের প্রবর্তিত উদারনৈতিক শাসনব্যবস্থা তার শাসনামলকে গৌরবোজ্জ্বল করে রেখেছে।