Facebook Pixel

স্বামী স্ত্রী দুজনই সরকারি চাকরিজীবী। সারাদিন অফিস শেষ করে স্ত্রী বাসায় এসে সন্তানদের দেখাশোনাসহ সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন। স্বামী অফিস থেকে এসে ক্লাবে যান, মোবাইল বা টিভি দেখেন। স্বামী মনে করেন সংসারে এসব দায়িত্ব পালন করা তার কাজ নয়। সংসার ও অফিসের সকল দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্ত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ক. সামাজিক অসমতা কী? খ. দাসরা ছিল প্রভুর সম্পত্তি - বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপকে সামাজিক অসমতার কোন ধরণটি লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অবস্থা সমাজের প্রগতির অন্তরায় - তোমার সুচিন্তিত মতামত দাও।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ সামাজিক স্তরবিন্যাস ও অসমতা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বহুবিবাহ বলতে একজন পুরুষের সাথে একাধিক মহিলা কিংবা একজন মহিলার সাথে একাধিক পুরুষের বিবাহকে বুঝায়। খ. দাস হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে আইন ও প্রথা অনুসারে তার মনিব বা প্রভূর সম্পত্তি। দাসপ্রথা হলো এমন এক অসম সামাজিক প্রথা যাতে কিছু লোক সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে অধিকারী ও অন্যের অবস্থার সম্পত্তি। এই প্রথা অনুযায়ী একজন দাস তার মনিবের সম্পত্তি এবং মনিবের আদেশ মানতে বাধ্য। মনির চাইলেই অন্যান্য সম্পত্তির মত দাসদেরকেও বিক্রি করতে পারতো। বস্তুত দাসদের কোনো অর্থনৈতিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক অধিকার ছিল না। সমাজে তাদের অস্তিত্ব ছিলো কেবলই প্রভূর সম্পত্তি হিসেবে। গ. উদ্দীপকে সামাজিক জেন্ডারভিত্তিক অসমতা লক্ষণীয়। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো : নারী ও পুরুষের মধ্যে শারীরিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে যে পার্থক্য তাকে লিঙ্গ বলে চিহ্নিত করা হয়। এই লিঙ্গ পার্থক্যর জন্যই মানবজাতির দুই অংশে একটি পুরুষ অপরটি নারী। আর জেন্ডার হচ্ছে সামাজিকভাবে গড়ে ওঠা নারী পুরুষের পরিচয়, সামাজিকভাবে নির্ধারিত নারী পুরুষের মধ্যকার সম্পর্ক এবং সমাজ কতৃক ও আরোপিত নারী পুরুষের ভূমিকা। প্রাকৃতিক কারণে এ অসমতার উদ্ভব হলেও সমাজ জীবনে এর সুদূরপ্রসারী অভাব রয়েছে। সুদূর অতীতের শিকারি সমাজে সন্তানধারণ, প্রতিপালন, গৃহস্থালির কাজ যদি সম্প্রদান ইত্যাদি কাজের সাথে নারীরা অধিকভাবে যুক্ত হয়ে পড়ায় এগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নারীর কাজ হিসেবে ধরে নিয়ে নারীকে গৃহবন্দী করে ফেলা হয়। সময়ের ধারাক্রমে শিকার, পশু পালন, জমি চাষ, যুদ্ধ প্রভৃতি কাজে পুরুষ প্রাধান্য সৃষ্টি হওয়ায় নারীরা পুরুষের অধস্তন করে পড়ে যা পুরুষ শাসিত সমাজে জন্ম দেয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বামী স্ত্রী দুজনে চাকরিজীবী হলেও অফিস শেষ করে বাসায় এসে সন্তানদের দেখাশোনাসহ সংসারে যাবতীয় দায়িত্ব স্ত্রী পালন করেন। এসময় স্বামী ক্লাবে যান, মোবাইল বা টিভি দেখেন। তিনি মনে করেন সংসারের এসব দায়িত্ব পালন করা তার কাজ নয়। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর এই রূপ ধারণার পোষন করা পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের পরিচালক। একই সাথে জেন্ডারভিত্তিক অসমতাকে নির্দেশ করে। কার্যত পুরুষ ও নারীর লিঙ্গ ভেদাভেদে দোহাই দিয়ে সমাজ নারী এবং পুরুষের সম্পর্কের মধ্যে নানারকম অসমতা সৃষ্টি করেছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত সামাজিক জেন্ডারভিত্তিক অসমতা লক্ষণীয়। ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অবস্থা তথা জেন্ডার বৈষম্য সমাজের প্রগতির অন্তরায়। নিম্নে এই বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হলোঃ দৈহিক পার্থক্যের উপর ভিত্তি করে নারী-পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্য গুলো সৃষ্টি করা হয়েছে সেগুলোর কারণে বিভিন্নভাবে নারীদের মেধা ও মননশীলতাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নারীরা সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে তেমনি এই সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আর এটি আত্মসামাজিক ও রাজনৈতিক অনুন্নয়নের অন্যতম কারণ। সাধারণত নারীদের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়া হয় না। এছাড়াও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে নারী অংশগ্রহণ নেই, তাই আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। এছাড়াও নারীদের উচ্চশিক্ষা নিরুৎসাহিত করার কারণে শিক্ষার দিক থেকেও নারীরা পিছিয়ে আছে। যার ফলে তারা সমাজে অবদান রাখতে পারছে না। অর্থাৎ সমাজের সকল স্তরেই তারা উপেক্ষিত হচ্ছে। এছাড়াও এই সামাজিক বৈষম্যের ফলে পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রসহ সবক্ষেত্রে নারীরা লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশগুলো আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন দিক দিয়ে এখনো পিছিয়ে আছে। এছাড়াও কর্ম ক্ষেত্রে এখনো দেখা যায় বিভিন্ন কাজে নারীদের নিয়োগ দিতে নিয়োগকর্তারা অপছন্দ করেন। তাদের ভাবনা নারীরা এই কাজটি যথাযথভাবে করতে পারবেনা। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যায়, একই কাজ করে একজন পুরুষ যে পরিমাণ পারিশ্রমিক পায় একজন নারীকে তার তুলনায় কম পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এগুলো মূলত সামাজিক অগ্রগতির পথে অন্তরায় হিসেবে ভূমিকা পালন করে। তাই বলা যায়, জেন্ডার বৈষম্য সমাজের প্রগতির অন্তরায় - উক্তিটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

স্বামী স্ত্রী দুজনই সরকারি চাকরিজীবী। সারাদিন অফিস শেষ করে স্ত্রী বাসায় এসে সন্তানদের দেখাশোনাসহ সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন। স্বামী অফিস থেকে এসে ক্লাবে যান, মোবাইল বা টিভি দেখেন। স্বামী মনে করেন সংসারে এসব দায়িত্ব পালন করা তার কাজ নয়। সংসার ও অফিসের সকল দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্ত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

ক.

সামাজিক অসমতা কী?

খ.

দাসরা ছিল প্রভুর সম্পত্তি - বুঝিয়ে লেখ।

গ.

উদ্দীপকে সামাজিক অসমতার কোন ধরণটি লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত অবস্থা সমাজের প্রগতির অন্তরায় - তোমার সুচিন্তিত মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।