ক.
'SAFTA' এর পূর্ণরূপ হলো-South Asian Free Trade Area.
খ.
জাতিসংঘের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সকল অরাজকতা ও আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ দূর করে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিভিন্ন জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক ভিত্তিতে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সমস্যাগুলো সমাধান করাও জাতিসংঘের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মৌলিক মানবাধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করা, দারিদ্র্য, রোগ ও অশিক্ষা দূরীকরণের জন্য প্রচেষ্টা চালানো জাতিসংঘের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্তর্জাতিক মুসলিম সংস্থাটি হলো ওআইসি (Organisation of Islamic Cooporation)। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে এটি গঠিত হয়েছে।
ওআইসি-র প্রধান লক্ষ্য হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইসলামি সংহতি বৃদ্ধি করা এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সুদৃঢ় করা। এছাড়া বর্ণবৈষম্য ও উপনিবেশবাদ বিলোপ করা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও এই সংস্থার অন্যতম লক্ষ্য। ওআইসি মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা রক্ষা এবং পবিত্র স্থানসমূহ (যেমন: আল-আকসা মসজিদ) সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এই সংস্থাটি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা নিশ্চিত করে। ওআইসি-র লক্ষ্যসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে কাজ করা। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করাই এই সংস্থার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
ঘ.
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে ওআইসি-র উদ্দেশ্যসমূহ অত্যন্ত কার্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো 'সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়', যা ওআইসি-র ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১৯৭৪ সালে ওআইসি-র সদস্যপদ লাভের পর থেকে বাংলাদেশ এই সংস্থার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের সাথে গভীর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ওআইসি-র লক্ষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ সর্বদা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার থেকেছে।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, বাংলাদেশ ফিলিস্তিন ইস্যুতে ওআইসি-র মাধ্যমে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সাহায্য লাভ এবং কারিগরি সহযোগিতা প্রাপ্তিতে ওআইসি একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ওআইসি-র সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ওআইসি-র উদ্দেশ্যসমূহ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মুসলিম দেশগুলোর সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার বৈদেশিক নীতির লক্ষ্যসমূহ সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে, যা দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।