ক.
'মূল্যবোধ' শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Values' |
খ.
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো কাজ করাকে বোঝায়। কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা বলতে এ ধরনের অবাধ স্বাধীনতাকে বোঝায় না।
পৌরনীতি ও সুশাসনে স্বাধীনতা ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করাই হলো স্বাধীনতা। অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো এমন সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ, যেখানে কেউ কারও ক্ষতি না করে সবাই নিজের অধিকার ভোগ করে। স্বাধীনতা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে এবং অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে বাধা অপসারণ করে।
গ.
হাদিউল সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।
সামাজিক সাম্য বলতে সামাজিক ক্ষেত্রে সকল মানুষ সমান এবং সকলের সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে বোঝায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ, অর্থ ইত্যাদির ভিত্তিতে যখন মানুষের সাথে মানুষের কোনো পার্থক্য করা হয় না, তখন তাকে সামাজিক সাম্য বলা হয়। সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা পেলে সমাজে কোনো প্রকার অশান্তি, অন্যায়, বিশৃঙ্খলা থাকবে না। সামাজিক সাম্যই কেবল মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে সক্ষম। যে সমাজে সামাজিক সাম্য বিদ্যমান সেখানে কে ধনী কে গরিব, কে কোন ধর্মের অধিকারী, কে কোন বংশের অধিকারী এগুলো গৌণ বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয় এবং যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যক্তি তার সম্মান ও মর্যাদা লাভ করে। উদ্দীপকের হাদিউলের কর্মকাণ্ডেও এ ধরনের সাম্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সমাজকর্মী হাদিউল এমন একটি সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছেন যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে কোনো পার্থক্য থাকবে না। অর্থাৎ তার কাজের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মধ্যে সকল ভেদাভেদ দূর হবে এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার দ্বারা সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেহেতু জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করতে পারে সেহেতু হাদিউলের কর্মকাণ্ড সামাজিক সাম্যের আওতায় পড়ে।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্য তথা সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে সকলেই সমভাবে আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে- এ মন্তব্যের সাথে আমি একমত।
জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য নেই। সমাজে বসবাস করার মাধ্যমে মানুষ যেমন সভ্য হয়েছে, তেমনি মানুষের মধ্যে পার্থক্যও সৃষ্টি হয়েছে। সমাজে সাধারণত বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও পেশার লোক বসবাস করে। সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে যদি অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে সমতা না থাকে তাহলে সমাজে আর সাম্য থাকবে না। কেননা সাম্য হলো জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষ সকলকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থা একটি সমাজকে স্বাভাবিকভাবে চলতে এবং সমাজের উন্নয়নের পাশপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে। সমাজে যদি জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও পেশাগত কারণে মানুষে মানুষে পার্থক্য সৃষ্টি না হয় তাহলে সমাজের সকলেই সমভাবে আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে।
সমাজে অসাম্য বিরাজ করলে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়। কারণ এরূপ পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষেরা মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। সাম্যহীন সমাজে আয় ও সম্পদের চরম বৈষম্য বিরাজ করে। ফলে দরিদ্র মানুষের পক্ষে সমাজে আত্মবিকাশের পথ বন্ধ হয়ে যায়। সাম্যের উপস্থিতিই কেবল একটি সমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করতে পারে।
সুতরাং সাম্যের গুরুত্ব বিশ্লেষণে বলা যায়, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সাম্যের উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে সকলেই সমভাবে আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে।