ক.
UNDP এর পূর্ণরূপ হলো- United Nations Development Programme |
খ.
ইউনিসেফের দুটি উদ্দেশ্য হলো- শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং মা ও শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা।
প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী অসহায় শিশুদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংস্থাটি বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। তাছাড়া মা ও শিশুদেরকে পুষ্টিহীনতা থেকে বাঁচাতে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের জন্যও ইউনিসেফ কাজ করে।
গ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত কর্মসূচিটি ইউনিসেফের।
ইউনিসেফ হলো জাতিসংঘ কর্তৃক পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা সারা বিশ্বের শিশুদের কল্যাণে কাজ করে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শিশুদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে ১৯৪৬ সালের ১১ ডিসেম্বর সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত। বিশ্বব্যাপী নারী ও শিশু কল্যাণে এ সংস্থাটির অবদান সর্বজনস্বীকৃত।
ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী শিশুদের সার্বিক কল্যাণে নানা ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি কার্যক্রম হলো- ১. উন্নয়শীল ও অনুন্নত দেশের শিশুদের অকাল মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে মাতৃসদন ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন; ২. গ্রামাঞ্চলে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পয়ঃপ্রণালি ব্যবস্থা, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ার প্রতিকার ও প্রতিরোধে নানা কর্মসূচি গ্রহণ; ৩. পুষ্টিহীনতা মোকাবিলায় সংস্থাটি পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ, পুষ্টি সংক্রান্ত জ্ঞানদান, দুর্যোগ পরবর্তী খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ নানা ধরনের পুষ্টি বিষয়ক কার্যক্রম গ্রহণ; ৪. মহিলাদের কর্মোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য ইউনিসেফ নানা ধরনের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি 'প্রদান এবং ৫. এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের জন্য সহায়তামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, শিশুর জন্ম পরিচয়কে নিশ্চিত করার জন্য জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম, মাতৃমৃত্যু হ্রাসকরণ প্রভৃতি কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচি অর্থাৎ মিনা কার্টুন ইউনিসেফের একটি কর্মসূচির অংশ। জেন্ডার বৈষম্য নিরসনে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এর ভূমিকা অপরিসীম। ইউনিসেফ হলো জাতিসংঘের একটি অঙ্গসংস্থা। এটি সারা বিশ্বের শিশুদের সার্বিক কল্যাণ সাধনে নিয়োজিত। সংস্থাটি মিনা কার্টুন প্রচারের মাধ্যমে নারী ও শিশুর প্রতি সমাজবাসীর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে সবুজের মায়ের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সংস্থাটি নারী ও শিশুর শিক্ষা ও উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদেশে শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পুরনো প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দান, দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আবার নারী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ইউনিসেফ মেয়েদের স্কুলে উপস্থিতির হার বৃদ্ধির জন্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। সংস্থাটি মেয়েদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকৌশল গ্রহণে সরকারকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তাসহ এনজিওগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দান করে যাচ্ছে। পাশাপাশি মিনা ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচির মাধ্যমে নারী ও শিশুর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করছে। এই কার্যক্রম নারী ও পুরুষের সমতা নিশ্চিত করে জেন্ডার বৈষম্য নিরসনে ভূমিকা রাখছে। তাছাড়া নারীদের উন্নয়নের জন্য ইউনিসেফ মহিলাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান; সেলাই মেশিন, বুনন যন্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে সবুজের মায়ের বক্তব্যে নির্দেশিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ পরিচালিত কর্মসূচি জেন্ডার বৈষম্য নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।