ক.
গণতন্ত্র সম্পর্কে আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত সংজ্ঞাটি হলো- ‘গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।'
খ.
ইতিহাস এবং পৌরনীতি ও সুশাসন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
পৌরনীতি হচ্ছে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান, আর ইতিহাস মানবজাতির সামগ্রিক ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। তাই এ দু'টি বিষয়ের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচিত বিষয় যেমন- পরিবার, রাষ্ট্র, সমাজ প্রভৃতি অতীতে কীরূপ ছিল এবং কীভাবে বর্তমানের রূপ লাভ করল তা ইতিহাস থেকে জানা যায়। ঐতিহাসিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্য ব্যতীত যেমন পৌরনীতি ও সুশাসন অসম্পূর্ণ, তেমনি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষিত না হলে ইতিহাসের আলোচনাও নিরর্থক হয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, ইতিহাস এবং পৌরনীতি ও সুশাসন পরস্পরের পরিপূরক।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের ধারণা নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের জ্ঞানার্জন প্রয়োজন।
পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। পৌরনীতি ও সুশাসনের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করা। এছাড়া রাষ্ট্র সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় যেমন- আইন, স্বাধীনতা, সাম্য, মূল্যবোধ, আমলাতন্ত্র প্রভৃতি বিষয় নিয়েও পৌরনীতি ও সুশাসন পর্যালোচনা করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিক্ষক সফিক সাহেব তার শিক্ষার্থীদের নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, স্বাধীনতা ও আইন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিতে একটি বিষয়ের জ্ঞানার্জনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন । সফিক সাহেবের বর্ণিত এ বিষয়গুলো নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিক সম্পর্কেও পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে থাকে। অর্থাৎ, রাষ্ট্র ও নাগরিক সংক্রান্ত সামগ্রিক বিষয় পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়সমূহের ধারণা নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের জ্ঞানার্জন করা প্রয়োজন।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয় তথা পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান বিশ্বসভ্যতার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে— এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত ।
পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। এছাড়াও আন্তর্জাতিক নাগরিকতা, বিশ্বগ্রাম, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয়ের জ্ঞান পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে লাভ করা যায়, যা বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতিতে অবদান রাখে ।
উদ্দীপকের শিক্ষক সফিক সাহেব তার শিক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞানার্জনের পরামর্শ দেন এবং বলেন প্রত্যেকেরই নিজ রাষ্ট্রের উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বসভ্যতার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বস্তুত রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে একজন নাগরিক বিশ্বসমাজেরও সদস্য। আধুনিক যুগে নাগরিকের ভূমিকা স্থানীয় ও জাতীয় সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রবেশ করেছে। তাই আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নাগরিকের ভূমিকা কী হতে পারে তা পৌরনীতি ও সুশাসনে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। নাগরিকের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার উদ্ভব, বিকাশ, উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ করলে ভালোভাবে জানা যায়। আর বিশ্বনাগরিক হিসেবে ব্যক্তি যখন তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জানতে পারে তখনই সে বিশ্বসভ্যতার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে ।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন বিশ্বনাগরিক হিসেবে একজন নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে পর্যালোচনা করে, যা বিশ্বসভ্যতার উন্নয়নের জন্য আবশ্যক। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের জ্ঞান অর্থাৎ পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান বিশ্বসভ্যতার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে ।