ক.
জিব্রাল্টার প্রণালি ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর- এ দুটি জলরাশিকে যুক্ত করেছে।
খ.
তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদের একজন বিখ্যাত সেনাপতি। তিনিই প্রথম স্পেন জয় করেন। ৭১১ সালে তিনি তার মাত্র ১২,০০০ সৈন্য নিয়ে স্পেনের অত্যাচারী রাজা রডারিকের ১২০,০০০ সৈন্যের বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করেন। ইউরোপে তিনিই প্রথম ইসলামের পতাকাকে উড্ডীন করেন। আর এজন্য তিনি ইসলামের ইতিহাসে বেশ খ্যাতিলাভ করেন।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত চারজন বিখ্যাত ব্যক্তির পরিচয় পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তুলে ধরা হলো-
১. সুলতানা তারুব: অপরূপ সুন্দরী সুলতানা তারুব ছিলেন দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের স্ত্রী। দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের আরও তিন জন স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সুলতান তারুব তার স্বামীর ওপর দারুণ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। তিনি ছিলেন একজন শৌখিন, চতুর, ষড়যন্ত্রকারী ও উচ্চভিলাষী নারী। গহনার প্রতি তার লোভ ছিল প্রচন্ড। তিনি তার নিজ পুত্রকে সিংহাসনে বসানোর জন্য শাহাজাদা মুহাম্মদকে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে এ ষড়যন্ত্র ফাঁস হলে তার ক্ষমতা খর্ব করা হয়।
২. খোজা নাসের খোজা নাসের দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের প্রধান সচিব ছিলেন। তিনি একজন অনারব ক্রীতদাস ছিলেন। অসাধারণ প্রতিভার বলে তিনি আমির আব্দুর রহমানের আস্থাভাজন হন ও প্রধান সচিবের পদ লাভ করেন। তিনি রাজদরবারের দেখাশুনার দায়িত্বে ছিলেন। তিনিও সুলতানা তুরাবার সাথে ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। পরে ধরা পড়ার কারণে তাকে হত্যা করা হয়।
৩. ইয়াহিয়া-বিন-ইয়াহিয়া মুসলিম স্পেনে মানেকী মাযহাব প্রবর্তনে ইয়াহিয়া বিন ইয়াহিয়ার অবদান অপরিসীম। দ্বিতীয় আব্দুর রহমান তাকে সমাদরের সাথে গ্রহণ করে দরবারের শ্রেষ্ঠ আসন দান করেন। আব্দুর রহমান তার যেকোনো সুপারিশ গ্রহণ করতেন। দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের অন্তঃকরণে তিনি বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেন।
৪. জিরিয়াব: দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন সংগীতজ্ঞ জিরিয়ার। তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। বিভিন্ন ছন্দ ও সুরে তার এক হাজার সংগীত কণ্ঠস্থ করেন। শুধু সংগীতজ্ঞ নয় স্পেনের ইতিহাসেও তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। আমির আব্দুর রহমান তার ওপর এতটাই প্রীত হয়েছিলেন যে প্রায়ই খাবারের সময় তাকে ডাকতেন। তাই পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণিত উপরিউক্ত চার জন ব্যক্তি দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের দরবারে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হন।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনক্ষেত্রে ব্যাপক কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। স্পেনের উমাইয়া আমিরাতের শাসক দ্বিতীয় আব্দুর রহমান।
দ্বিতীয় আব্দুর রহমান একজন দক্ষ, যোগ্য ও সুশাসক ছিলেন। তার রাজ্যসভায় চারজন ব্যক্তি স্ত্রী সুলতানা তারুব, খোজা নাসের, ইয়াহিয়া বিন ইয়াহিয়া, জিরিয়াব বিশেষ প্রভাব রাখতেন। তিনি তার প্রশাসনকে ঢেলে সাজান। সিংহাসনে আরোহণ করেই সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন করেন। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রেও তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি তাদমির বিদ্রোহ, মেরিদায় বিদ্রোহ, টলেডো বিদ্রোহ, খ্রিষ্টানদের সাথে শান্তি স্থাপন, নর্ম্যান আক্রমণ প্রতিহত করেন। বাইজানটাইনদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নসহ বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রশাসনকে সুদক্ষভাবে পরিচালনার জন্য কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন। সামরিক ক্ষেত্রেও তার দক্ষতার কমতি ছিল না। তিনি বেতনভোগী একটি বিমানবাহিনী গঠন করেন। তিনি দেহরক্ষীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেন। উন্নত যুদ্ধাস্ত্র সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন। তিনি সেভিলে জাহাজ নির্মাণ কারখানা স্থাপন করেন। স্থাপত্যশিল্পেও তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি অসংখ্য হাম্মামখানা, মসজিদ, মার্বেল পাথরের তৈরি রাস্তা ও ঝরনা তৈরি করে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেন। তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার শাসনামলে কর্ডোভার লাইব্রেরি মুসলিম বিশ্বের সমৃদ্ধশালী লাইব্রেরিরূপে গড়ে ওঠে। তিনি গরিব ও দরিদ্র মানুষের জন্য দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
তাই উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, স্পেনের আমির দ্বিতীয় আব্দুর রহমান তার কৃতিত্বপূর্ণ কার্যাবলির দ্বারা বিশ্ববিখ্যাত হয়ে আছেন।