Facebook Pixel

সিন্ধু সভ্যতা প্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম। এটি একটি নগরভিত্তিক সভ্যতা। এদের লিখন পদ্ধতি ছিল চিত্রভিত্তিক। সিন্ধু সভ্যতা নগরভিত্তিক হলেও তাদের ছিল উন্নত কৃষি ব্যবস্থা। যব, গম, তুলাসহ নানা রকম ফসল তারা উৎপন্ন করত। উন্নত ফসল উৎপাদনের জন্য তারা জমিতে বাঁধ দিত। বন্যার পানিকে সংরক্ষণ করে কাজে লাগাতো। আবার নালা কেটে জল সেচের মাধ্যমে পানি এনে ফসলের মাঠে সরবরাহ করত। ক. ইতিহাসের জনক কে? খ. জাজিরাতুল আরব বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের সিন্ধু সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার লেখনীর মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. "সিন্ধু সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থা উক্ত সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি"-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ প্রাক-ইসলামি আরব

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস। খ. জাজিরাতুল আরব অর্থ আরব উপদ্বীপ। জাজিরাতুল আরব বলতে আরব ভূখণ্ডকে বোঝায়। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আরব দেশ বিশ্বের সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে এর তিন দিক বিশাল জলরাশি দ্বারা বেষ্টিত এবং একদিক মরু প্রান্তর ও অনুচ্চ পর্বতমালা দ্বারা এশিয়ার মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত। আরব অঞ্চলের আকৃতি ত্রিভুজের মতো। এর তিনদিকে জল এবং মাত্র একদিকে স্থল রয়েছে। এ কারণেই আরবি ভাষায় আরব দেশকে 'জাজিরাতুল আরব' বলা হয়। গ. উদ্দীপকের সিন্ধু সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকের সিন্ধু সভ্যতার লিখন পদ্ধতি ছিল চিত্রভিত্তিক। তেমনি প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতিও ছিল চিত্রভিত্তিক। মিশরীয় লিখন পদ্ধতিতে নানারকমের দ্রব্য, প্রকৃতি ও বিষয় ইত্যাদির ছবি আঁকা থাকত। তা থেকে ওইসব জিনিসের পরিচয় ও নাম জানা যেত। প্রায় ৭৫০টি চিত্রলিপির চিহ্ন দিয়ে এ প্রাচীন মিশরীয় লিপি পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল। এ লিপি প্রথমে তৈজসপত্র, ফলক এবং কবরের গায়ে খোদাই করা হতো। পরে প্যাপিরাস নামক কাগজ আবিষ্কৃত হলে তাতে এ লিপি উৎকীর্ণ করা হয়। অবশ্য খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে প্রাচীন রাজবংশের যুগে মিশরীয়রা ২৪টি হায়ারোগ্লিফিক চিহ্ন বা বর্ণমালার ব্যবহার শুরু করে। প্রতিটি চিহ্ন একটি বিশেষ অর্থ নির্দেশ করত। এসব চিহ্ন পাশাপাশি খোদাই করে শব্দ বা বাক্য গঠন করা হতো। এ বর্ণমালা চারিত্রিক বিন্যাসের দিক থেকে তিনটি রূপলাভ করে। যথা- ১. চিত্রভিত্তিক (Pictographic), ২. অক্ষরভিত্তিক (Syllabic) ও ৩. বর্ণভিত্তিক (Alphabetic)। বর্ণগুলো কখনো ডান থেকে বামে আবার কখনো বাম থেকে ডানে লেখা হতো। ব্যবসায় বাণিজ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনে দ্রুত লিখনের জন্য প্রথমে হায়ারেটিক (Hieratic) এবং পরে ডেমোটিক (Demotic) লিপির উদ্ভব 'ঘটে, যা হায়ারোগ্লিফিক লিপিরই অপভ্রংশ। উদ্দীপকে উল্লিখিত সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরাও চিত্রভিত্তিক লিপি উদ্ভাবন করেছে। অর্থাৎ চিত্রের মাধ্যমে এ লিপিতে তার প্রকাশিত হয়। আর এ দিক থেকেই মিশর ও সিন্ধু সভ্যতার লিখন পদ্ধতি একই প্রকৃতির। ঘ. পদ্ধতিগত দিক থেকে উদ্দীপকে বর্ণিত সিন্ধু সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থার মিশরীয় কৃষি ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি। উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। সিন্ধু সভ্যতায় উন্নত কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। যব, গম, তুলাসহ নানা প্রকার ফসল তারা উৎপন্ন করত। ফলন বৃদ্ধির জন্য জমিতে জলসেচ করত ও বাঁধ দিত। বন্যার পানিকে সংরক্ষণ করে কাজে লাগত। সিন্ধু সভ্যতার অনুরূপ অবস্থা প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায়ও লক্ষ করা যায়। মূলত নীলনদকে ঘিরেই প্রাচীন মিশরীয়, সভ্যতার উন্মেষ হয় এবং নীলনদের উপকূলীয় অঞ্চলেই প্রথম কৃষির সূচনা হয়। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালের শুরুতে আফ্রিকার মধ্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট প্লাবনে নীলনদের দুকূল ছাপিয়ে যেত। এসময় পাহাড়ি মাটি, বরফগলা পানি ও অজস্র জলজ উদ্ভিদ আবাদি জমিতে এসে পড়ত। ৪ মাস স্থায়ী এ বন্যার সময় গাছ-গাছড়া পচে গিয়ে এবং এর সাথে জলধারায় পাহাড়ি লাল পাথুরে মাটি মিশে এক উর্বর পলিমাটির সৃষ্টি হতো। প্লাবন শেষে বন্যার উর্বর পলিমাটিতে নীলনদের উভয় তীর দৈর্ঘ্যে ৬০০ মাইল এবং প্রস্থে ১০ মাইল পর্যন্ত ভরে যেত। এরূপে সঞ্চিত পলিমাটির গুণে উভয় ভূভাগ অত্যন্ত উর্বর হয়। ফলে প্রচুর শস্য, তুলা প্রভৃতি উৎপন্ন হওয়ায় মিশর একটি সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হয়েছে। নীলনদের তীরে সিনাই পাহাড় ও অন্যান্য পর্বতমালা এবং চুনা পাথরের পাহাড়গুলো বিদ্যমান থাকায় শিল্পদ্রব্য ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করার জন্য মিশরবাসীকে বিভিন্ন প্রকার ধাতু সরবরাহ করেছে। মিশরের সমৃদ্ধি, আড়ম্বর ও প্রগতি এসব দ্রব্যসামগ্রী এবং উল্লিখিত সুযোগ-সুবিধার জন্য সম্ভব হয়েছে। এককথায়, গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও নীলনদের দানের ফলে মিশরেই বিশ্বের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সভ্যতার উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে। উপরিউক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় সিন্ধু সভ্যতার কৃষিব্যবস্থা, মিশরীয় সভ্যতার কৃষিব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সিন্ধু সভ্যতা প্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম। এটি একটি নগরভিত্তিক সভ্যতা। এদের লিখন পদ্ধতি ছিল চিত্রভিত্তিক। সিন্ধু সভ্যতা নগরভিত্তিক হলেও তাদের ছিল উন্নত কৃষি ব্যবস্থা। যব, গম, তুলাসহ নানা রকম ফসল তারা উৎপন্ন করত। উন্নত ফসল উৎপাদনের জন্য তারা জমিতে বাঁধ দিত। বন্যার পানিকে সংরক্ষণ করে কাজে লাগাতো। আবার নালা কেটে জল সেচের মাধ্যমে পানি এনে ফসলের মাঠে সরবরাহ করত।

ক.

ইতিহাসের জনক কে?

খ.

জাজিরাতুল আরব বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকের সিন্ধু সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার লেখনীর মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

"সিন্ধু সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থা উক্ত সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি"-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আইয়্যামে জাহেলিয়া শব্দের অর্থ কী?

‘আরব’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

অথৈদের সমাজে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণের ক্ষমতা নারীর জন্য সংরক্ষিত। পুরুষদের সুনির্দিষ্ট অধিকার থাকলেও ...

অলিম্পিক খেলা প্রচলিত হয়েছিল কেন?

আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে বোঝায়- i. অজ্ঞতার যুগ ii. বর্বরতার যুগ iii. অন্ধকার যুগ নিচের কোনটি সঠিক?

'আইয়ামে জাহেলিয়া' বলতে বোঝায়— i. অজ্ঞতার যুগ ii. তমসার যুগ iii. অন্ধকারের যুগ নিচের কোনটি সঠিক?

আইয়্যামে জাহিলিয়া যুগে আরবদের কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল— 1. নারী ii. বংশ গৌৱৰ ii. যুদ্ধ নিচের কোনটি সঠিক?

আইয়ামে জাহিলিয়া যুগের আরবে রাজনৈতিক ব্যবস্থা কোনটি?

আইয়ামে জাহিলিয়ায় কোন প্রথা ব্যাপক ছিল?

আইয়‍্যামে জাহেলিয়া যুগে আরবদের কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল- i. নারী ii. বংশ গৌরব iii. যুদ্ধ নিচের কোনটি সঠিক?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।