Facebook Pixel

সিন্ধু নদের তীরে প্রাচীনকালে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তাই সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা। নগরের ঘরবাড়ি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার চিহ্ন দেখে অনুমান করা হয় এই সভ্যতার নাগরিকরা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে ধারণা রাখত না। সুখ-সমৃদ্ধ পার্থিব জীবনই তাদের আরাধ্য ছিল। ক. হিলফুল ফুজুল অর্থ কী? খ. হায়ারোগ্লিফিক কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের জনসাধারণের সাথে উক্ত সভ্যতার জনসাধারণের জীবন প্রণালির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ প্রাক-ইসলামি আরব

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. 'হিলফুল ফুযুল' অর্থ শান্তিসংঘ। খ. মিসরীয়দের উদ্ভাবিত লিখন পদ্ধতি 'হায়ারোগ্লিফিক' নামে পরিচিত। 'হায়ারোগ্লিফিক' একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ পবিত্র লিপি। 'হায়ারোগ্লিফিক লিখন পদ্ধতিতে নানা প্রকার দ্রব্যের ছবি আঁকা থাকত। এ থেকে জিনিসগুলোর পরিচয় ও নাম জানা সম্ভব হতো। হায়ারোগ্লিফিক লিপি প্রথমে তৈজসপত্রে, “ফলক এবং কবরে মৃতের পরিচয়ের ফলক আকারে গায়ে খোদাই করা হতো। পরে প্যাপিরাস কাগজ আবিষ্কৃত হলে এতে এ লিপি উৎকীর্ণ করা হয়। প্রায় ৭৫০টি চিত্রলিপির চিহ্ন দিয়ে এ প্রাচীন মিসরীয় লিপি পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল । আর এসব চিত্রলিপিই হায়ারোগ্লিফিক নামে পরিচিত। গ. উদ্দীপকের সাথে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার মিল রয়েছে। প্রকৃতির অপার দান নদ-নদীর বদৌলতে পৃথিবীতে অনেক সভ্যতার উত্থান ঘটেছে এবং বিকশিত হয়েছে। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এসব সভ্যতা কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতার মাধ্যমে উন্নত নাগরিক জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত সিন্ধু সভ্যতা এবং মিসরীয় সভ্যতা এ রকমই দুটি নদীকেন্দ্রিক সভ্যতার উদাহরণ। সিন্ধুনদকে কেন্দ্র করে প্রাচীনকালে একটি সভ্যতা গড়ে উঠেছিল যেটি সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত। আর এটি ছিল কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতা। অনুরূপভাবে মিসরের নীল নদকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর প্রথম সভ্যতা হিসেবে মিসরীয় সভ্যতার অগ্রযাত্রা শুরু হয়। মিসরীয়রা নীল নদের পানিকে সেচের জন্য ব্যবহার করে কৃষিতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করে। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারীরা পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন ও পশুপালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা প্রভৃতি বিষয়কে মাথায় রেখে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে। কৃষিকে কেন্দ্র করে তারা ধীরে ধীরে সেচ ব্যবস্থায় বাঁধ নির্মাণ কৌশল উদ্ভাবন করে। তাছাড়া বন্যায় নীল নদের উভয় তীর প্লাবিত হয়ে পলি মাটিতে ভরে যেত, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল। এভাবে মিসরীয়রা কৃষির ব্যাপক অগ্রগতির মাধ্যমে একটি কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতা গড়ে তোলে। তাই বলা যায়, নদীকেন্দ্রিক ও কৃষিভিত্তিক সভ্যতা হিসেবে সিন্ধু ও মিসরীয় সভ্যতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. উদ্দীপকের জনগোষ্ঠীর সাথে প্রাচীন মিসরীয়দের জীবন প্রণালীর সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য উভয়ই পরিলক্ষিত হয়। মিসরীয় সভ্যতা প্রাচীন সভ্যতাসমূহের অন্যতম। নীলনদকে কেন্দ্র করে এবং কৃষির ওপর ভিত্তি করে এ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, যেমনটি সিন্ধু সভ্যতার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। বিশ্বাসের দিক দিয়ে মিসরীয়রা প্রাকৃতিক শক্তিকে দেবতা বলে পূজা করত। সূর্য ছিল তাদের প্রধান দেবতা। এছাড়া তারা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। কিন্তু সিন্ধু সভ্যতায় মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মিসরীয় সভ্যতার বিপরীত চিত্র চোখে পড়ে। উদ্দীপকে সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা হয়েছে। এটি ছিল একটি কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতা। অনুরূপভাবে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা নীল নদের তীরে গড়ে ওঠেছিল। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারীরা পানির প্রাপ্যতা, কৃষির উৎপাদন ও পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করে। এভাবে তারা একটি কৃষিভিত্তিক সভ্যতার । গোড়াপত্তন করে যা সিন্ধু সভ্যতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে আরও বলা হয়েছে যে, সিন্ধু সভ্যতার লোকেরা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে ধারণা রাখত না। পার্থিব জীবনের সুখ-শান্তি তাদের আরাধ্য ছিল। অপরদিকে প্রাচীন মিসরীয়রা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখত । তারা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। তারা বিশ্বাস করত মৃত মানুষ কবরে গেলে তার দেহে আবার আত্মা ফিরে আসে। পৃথিবীতে তারা যে পাপ বা পুণ্য করছে দেবতা ওসিরিসের সামনে এর জবাবদিহি করতে হবে। এ সময় কৃতকর্মের বিচারের মাধ্যমে পুণ্যবানকে সুখময় স্থানে এবং পাপীকে অন্ধকার ঘরে নিক্ষেপ করা হবে। সূর্য দেবতা ‘রে’ তীব্র রশ্মি দিয়ে পাপীর দেহ ঝলসে দেবেন। মিসরীয়দের এরূপ ধর্মীয় বিশ্বাস সিন্ধু সভ্যতার লোকদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, নদীকেন্দ্রিকতা এবং কৃষির দিক দিয়ে সিন্ধু সভ্যতা ও মিসরীয় সভ্যতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও ধর্মীয় ক্ষেত্রে এ দুই সভ্যতার মানুষের বিশ্বাস পুরোপুরি ভিন্ন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সিন্ধু নদের তীরে প্রাচীনকালে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তাই সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা। নগরের ঘরবাড়ি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার চিহ্ন দেখে অনুমান করা হয় এই সভ্যতার নাগরিকরা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে ধারণা রাখত না। সুখ-সমৃদ্ধ পার্থিব জীবনই তাদের আরাধ্য ছিল।

ক.

হিলফুল ফুজুল অর্থ কী?

খ.

হায়ারোগ্লিফিক কী? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের জনসাধারণের সাথে উক্ত সভ্যতার জনসাধারণের জীবন প্রণালির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আইয়্যামে জাহেলিয়া শব্দের অর্থ কী?

‘আরব’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

অথৈদের সমাজে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণের ক্ষমতা নারীর জন্য সংরক্ষিত। পুরুষদের সুনির্দিষ্ট অধিকার থাকলেও ...

অলিম্পিক খেলা প্রচলিত হয়েছিল কেন?

আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে বোঝায়- i. অজ্ঞতার যুগ ii. বর্বরতার যুগ iii. অন্ধকার যুগ নিচের কোনটি সঠিক?

'আইয়ামে জাহেলিয়া' বলতে বোঝায়— i. অজ্ঞতার যুগ ii. তমসার যুগ iii. অন্ধকারের যুগ নিচের কোনটি সঠিক?

আইয়্যামে জাহিলিয়া যুগে আরবদের কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল— 1. নারী ii. বংশ গৌৱৰ ii. যুদ্ধ নিচের কোনটি সঠিক?

আইয়ামে জাহিলিয়া যুগের আরবে রাজনৈতিক ব্যবস্থা কোনটি?

আইয়ামে জাহিলিয়ায় কোন প্রথা ব্যাপক ছিল?

আইয়‍্যামে জাহেলিয়া যুগে আরবদের কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল- i. নারী ii. বংশ গৌরব iii. যুদ্ধ নিচের কোনটি সঠিক?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।