ক.
ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাসগত ব্যাপার, যাতে স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করার জন্য নানা ক্রিয়াকলাপ সংঘটিত হয়।
খ.
সাধারণ অর্থে গণমাধ্যম বলতে জনগণের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমকে বোঝায়। মানুষের চিন্তাচেতনা, আবেগ, বিশ্বাস, আগ্রহ-অনাগ্রহসহ বিভিন্ন তথ্য কোনো মাধ্যমে অধিক সংখ্যক লোকের কাছে পৌঁছানোর বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে গণমাধ্যম বলা হয়। যেমন- রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র প্রভৃতি।
গ.
উদ্দীপকে শিশুটির আচরণ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিবার ভূমিকা রাখছে।
পরিবার হচ্ছে মানবসমাজের আদিমতম মৌলিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। যা বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে গঠিত হয়। তবে সন্তান ছাড়াও পরিবার হতে পারে। আবার স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা এবং আত্মীয়দের সাথে নিয়েও পরিবার হতে পারে। মেয়ার এফ নিমকফ বলেন, পরিবার হচ্ছে স্বামী ও স্ত্রী কর্তৃক সৃষ্ট মোটামুটি স্থায়ী সংগঠন, যেখানে সন্তান-সন্ততি থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। সুতরাং উদ্দীপীকে পরশের দাদা, ভাই-বোন সবাই এ পরিবারের অংশ। তাদের আচরণ শেখানোও পরিবারের ভূমিকার মধ্যে পড়ে। কারণ সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেন, পরিবার হচ্ছে এমন একটি গোষ্ঠী, যাকে সুস্পষ্ট জৈবিক সম্পর্কের দ্বারা সুনির্দিষ্ট করা যায় এবং এটি সন্তান-সন্ততির জন্মদান ও তাদের লালন-পালনের একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। আচারণ শেখানো সন্তান লালন-পালনের অংশ। এছাড়া আরও যে কার্যাবলি রয়েছে তা হলো- জৈবিক চাহিদা মিটানো; অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চত করা; বিনোদনের ব্যবস্থা করা; নেরাপত্তা দান; উত্তরাধিকার নির্ধারণ; ধর্মীয় আচার শেখানো, মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ প্রভৃতি।
ঘ.
সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সামাজিক সমস্যা যেহেতু সমাজ থেকেই উদ্ভব, তাই পরিবার সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ সমাজ আর কিছুই নয় বরং কতকগুলো পরিবারের সমষ্টি। পরিবার তার সদস্যদের যথাযথ সামাজিকীকরণের মাধ্যমে গড়ে তুললে সমাজ থেকে সব ধরনের সমস্যা দূর হয়ে যায়। যেমন- যৌতুক সমস্যা নির্মূলে পরিবারই নৈতিকভাবে তার ছেলে বা মেয়েকে নৈতিকভাবে জাগ্রত করতে পারে। যৌতুকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে পারে। আবার বাল্যবিবাহ সমস্যার সমাধান একমাত্র পরিবার থেকেই সম্ভব। কারণ সন্তান-সন্ততির বিবাহ প্রধানত পরিবার থেকেই দেওয়া হয়। মা-বাবা কিংবা পরিবারের অভিভাবকত্ব বাল্যবিবাহের ব্যাপারে সচেতন হলে কোনো আইনের প্রয়োজন হয় না। আবার যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন হ্রাসে পরিবার ব্যক্তির যেমন জৈবিক চাহিদা মেটানোর বৈধ উপায় করে দেয়, তেমনি যথাযথ শিক্ষার মাধ্যমে হীন কাজ থেকে সবাইকে বিরত রাখে। ব্যক্তির মানসিক সমস্যার প্রধান কারণ নিহিত থাকে পরিবারের মধ্যে। পারিবারিক পরিবেশ সুন্দর হলে ব্যক্তির মন-মানসিকতা সুস্থ থাকে; অন্যদিকে পরিবারিক কোন্দল কিংবা সম্পর্কের ঘাটতি মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে। পরিবার তার সদস্যদের যথাযর্থ নৈতিক শিক্ষা দিলে ব্যক্তি কোনো অপরাধের সাথে যুক্ত হয় না। সেটা জঙ্গিবাদ হোক কিংবা নারী নির্যাতন হোক।
মোটকথা, সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় পরিবারের ভূমিকা প্রধান।