ক.
মহাত্মা গান্ধী ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি উগ্র হিন্দুত্ববাদী নাথুরাম গডসের গুলিতে নিহত হন।
খ.
মহাত্মা গান্ধী 'দি ব্ল্যাক অ্যাক্ট' এর বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তা ইতিহাসে সত্যাগ্রহ আন্দোলন নামে পরিচিত। সত্যাগ্রহ আন্দোলনের দুটি দিক লক্ষ করা যায়। যথা- ১. সত্যের প্রতি অনুরাগ ও বিশ্বাস এবং ২. অহিংস উপায়ে সত্যের পথ অনুসরণ। এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল শ্বেতাঙ্গ সরকারের বর্ণবাদী ও স্বতন্ত্র অবস্থান নীতির অবসান করা।
গ.
উদ্দীপকটি আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত বর্ণবৈষম্যের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
দৈহিক গঠন, ত্বকের রং, ধর্ম, বংশ পরিচয়, আবাসস্থল প্রভৃতির বিচারে কাউকে উঁচু বা নীচু শ্রেণিভুক্ত করার মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে তারতম্য করাই বর্ণবাদ। মূলত বাহ্যিক দৈহিক পার্থক্যকে ভিত্তি করে যুগে যুগে পৃথিবীর অনেক সমাজে মানুষকে উন্নততর বা। নিম্নতর জাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এভাবে এক দল আরেক দলকে পদানত করে শোষণ ও নির্যাতন করেছে। এ 'বর্ণবাদী' ব্যবস্থায় বিশেষ করে আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গরা একসময় শ্বেতাঙ্গদের মাধ্যমে শোষিত হয়েছে। আফ্রিকা ও আমেরিকার উপবেশগুলোতে সাদা চামড়ার মানুষেরা কালো চামড়ার মানুষদের অধস্তন হিসেবে চিহ্নিত করে অন্যায়ভাবে শোষণ-নির্যাতন করেছে। অনেক শ্বেতাঙ্গ মানুষের বন্ধমূল ধারণা ছিল যে, কৃষ্ণাঙ্গরা সবাই জন্মগতভাবেই ক্রীতদাস, অনেক মৌলিক অধিকার পাওয়ার যোগ্যতাই তাদের নেই। এরূপ পরিস্থিতিতে বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদী শোষণ ও বিভাজন চরমে উঠলে বিংশ শতাব্দীতে নেলসন ম্যান্ডেলা, ডেসমন্ড টুটু, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র প্রমুখ ব্যক্তির নেতৃত্বে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে। উল্লিখিত উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, সাদা-কালো দ্বন্দ্ব-সংঘাত অনেক পুরোনো। এ সংঘাতে কালোরাই সবচেয়ে বেশি শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত হয়েছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়টি আমার পঠিত বর্ণবৈষম্য ও বর্ণবাদের ধারণাকেই প্রকাশ করে।
ঘ.
উল্লিখিত উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ের বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার কর্মকান্ড আলোচিত হয়েছে।
বিশ্বের সাম্প্রতিক ইতিহাসে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কালো মানুষের কাছে জাতীয় নেতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর শ্বেতাঙ্গ শাসকদের শোষণ, বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি প্রকট আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ আন্দোলনের একটি সশস্ত্র দিকও ছিল। সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের কারণে এবং কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ে গঠিত দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা হওয়ায় বারবার তিনি 1 গ্রেফতার ও কারাবন্দি হন। কুখ্যাত রিভোনিয়া ট্রায়ালে সরকারবিরোধী অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা এবং সরকার উৎখাতের অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। তারপরও তার দুর্বার আন্দোলন থেমে থাকেনি।
বর্ণবাদী ব্যবস্থার অবসানের পর মোট ২৭ বছর কারাবাস শেষে ১৯৯০ সালে মুক্তি লাভ করেন ম্যান্ডেলা। ১৯৯৪ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।তিনি দীর্ঘদিনের নিপীড়ক শ্বেতাকাদের প্রতি প্রতিশোধমূলক নীতি গ্রহণ না করে জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পথ অনুসরণ করেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত জেমস-এর ক্ষেত্রে নেলসন ম্যান্ডেলার মতো একই দৃষ্টান্ত দেখতে পাওয়া যায়। তাই তো আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, নেলসন ম্যান্ডেলার আজীবন সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বদৌলতেই দক্ষিণ আফ্রিকা আজ বর্ণবাদমুক্ত। তার শান্তি ও সমঝোতার আদর্শ বিশ্বের জন্য দীর্ঘদিন অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।