ক.
‘Civitas' শব্দের অর্থ হলো নগররাষ্ট্র।
খ.
সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
সুশাসন হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে সরকার ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সুশাসনের মাধ্যমেই নাগরিকগণ তাদের আগ্রহ বা আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করতে পারে, অধিকার ভোগ করতে পারে এবং চাহিদাগুলো মেটাতে পারে। সুতরাং বলা যায়, রাষ্ট্র ও নাগরিকের উন্নয়নের জন্য পরিচালিত ব্যবস্থাই হচ্ছে সুশাসন।
গ.
উদ্দীপকে রনি সুনাগরিক হওয়ার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ্যবিষয়টি বেছে নিয়েছে, যার বিষয়বস্তু ব্যাপক ও বিস্তৃত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রনি একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্র। সে দু'টি লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে দু'টি বিষয় নির্বাচন করেছে। প্রথম লক্ষ্য হলো সুনাগরিক ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়াদি জানা, যা পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তুকে নির্দেশ করে। আর দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় আয়-ব্যয় ও সম্পদের সুষম বণ্টন সম্পর্কে জানা, যা অর্থনীতির বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। উল্লিখিত দু'টি বিষয়ের মধ্যে পৌরনীতি ও সুশাসন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার যাবতীয় দিক সম্পর্কে আলোচনা করে বিধায় রনি সুনাগরিক হওয়ার জন্য এ বিষয়টি বেছে নিয়েছে।
মানুষ যেসব প্রতিষ্ঠান, অভ্যাস ও কার্যাবলি এবং চেতনার মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে, পৌরনীতি ও সুশাসন সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বিশ্বায়নের যুগে পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। আগের মতো এর বিষয়বস্তু শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, বরং নাগরিকের কল্যাণসংশ্লিষ্ট সবদিকে বিস্তৃত হয়েছে। সুনাগরিকের গুণাবলি এবং নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য পৌরনীতি ও সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গঠন, কার্যাবলি ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করে। নাগরিকের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিক নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন পর্যালোচনা করে। সর্বোপরি নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয় পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত।
ঘ.
হ্যাঁ, সাদের মতো আমিও মনে করি, উল্লিখিত বিষয়টি তথা পৌরনীতি ও সুশাসন সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ নাগরিকদের আত্মসংযম, বিবেক, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি গুণাবলি শিক্ষা দেয় এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। সামাজিক পরিবেশের সাথে নাগরিক জীবনকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার শিক্ষা পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে অর্জন করা যায়। তাই উন্নত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন গঠন করার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসনের শিক্ষা অত্যাবশ্যক।
উদ্দীপকে সাদ পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই পাঠ্যবিষয় হিসেবে এ বিষয়টি পড়তে চায় । কেননা পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের অধিকার এবং দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে। এ বিষয়টি সুনাগরিক সৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিশ্বশান্তির পথকেও নিশ্চিত করার শিক্ষা দিয়ে থাকে। পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, মূল্যবোধ প্রভৃতি সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করে। এছাড়া পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের পাঠ জাতিকে সুযোগ্য নেতৃত্ব গঠনে সহায়তা করে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের পৌরনীতি ও সুশাসন সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হলে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের কোনো বিকল্প নেই। তাই সাদের মতো আমিও মনে করি, প্রত্যেক নাগরিকেরই পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান থাকা আবশ্যক।