ক.
১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সার্ক গঠিত হয়।
খ.
সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ে ঘুষ, বল প্রয়োগ বা ভীতি প্রদর্শন বা ব্যক্তি বিশেষের অবৈধ ও অসংগত সুবিধা গ্রহণ এবং নীতিবিরুদ্ধ সকল কাজকেই দুর্নীতি বলা হয়। দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধি ও এক ধরনের সামাজিক অপরাধ। মানব সভ্যতার শুরু থেকে আজ অবধি সকল সমাজ ও সকল রাষ্ট্রেই কোনো না কোনো ক্ষেত্রে এর প্রকোপ ও প্রসার পরিলক্ষিত হয়।'
গ.
উদ্দীপকে সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
বিশ্বের প্রায় প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য অপর রাষ্ট্রের সাথে সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক মেনে চলতে হয়। আর এ সম্পর্কের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার বৈদেশিক নীতির ওপর। উদ্দীপকে রাষ্ট্রের নেতা রহমান তার ঘোষণায় যে কথাগুলো উল্লেখ করেছেন তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলো বৈদেশিক নীতির সাথে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ তার ঘোষণায় স্বাধীন রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির চিত্রই ফুটে ওঠে। আমরা বৈদেশিক নীতির স্বরূপ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হবে। মূলত বৈদেশিক নীতি হলো কোনো দেশের জাতীয় নীতির সেই অংশ, যা বহির্বিশ্বের সাথে সম্পর্কযুক্ত। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন, সর্বোপরি বিশ্বে সম্মানজনক অবস্থান সৃষ্টির জন্য বৈদেশিক নীতি রাষ্ট্রীয় নীতিরই অনুসঙ্গ। বৈদেশিক নীতির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো নিজ রাষ্ট্রের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য অন্য সকল দেশের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখা, অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন। শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে যুগোপযোগী নীতি গ্রহণ। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বদা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করা, ইত্যাদি। বৈদেশিক নীতি স্বরূপ বিশ্লেষণ করলে আমরা একথা বলতে পারি, উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাধীন রাষ্ট্রের নেতা রহমানের ঘোষণায় বৈদেশিক নীতির চিত্রই ফুটে উঠেছে।
ঘ.
উদ্দীপকে স্বাধীন রাষ্ট্রের নেতা রহমানের ঘোষণার মাধ্যমে তার বৈদেশিক নীতির চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন তথা দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে অবশ্যই সেই রাষ্ট্রকে কতকগুলো নীতি অনুসরণ করতে হয়। এর মধ্যে বৈদেশিক নীতি অন্যতম। পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশের কিছু বৈদেশিক নীতি রয়েছে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিগুলো হলো-
⦿ সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়।
⦿ কোনো নির্দিষ্ট জোটভুক্ত না হয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ।
⦿ প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশের সাথে সহযোগিতার সম্পর্কের মাধ্যমে উন্নয়নমুখী নীতি গ্রহণ।
⦿ শান্তি ও সহযোগিতার নীতি অনুসরণ। অন্যান্য রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন।
⦿ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী এবং সে লক্ষ্যে যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ।
⦿ আঞ্চলিক সহযোগিতার নীতি গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদি।
⦿ মুসলিম বিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
সুতরাং আমরা বলতে পারি, বর্তমান বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই সুনির্দিষ্ট কিছু বৈদেশিক নীতি মেনে চলে। বাংলাদেশও তার দেশের শান্তি ও সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে যুগোপযোগী বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করেছে।