Facebook Pixel

সাদিপুর নিবাসী করিম মিয়া পৈতৃকসূত্রে এক বিঘা কৃষি জমির মালিক। বিগত বছরগুলোতে টমেটোর দাম ভালো থাকায় এই বছর গ্রামের মহাজনের নিকট হতে চড়াসুদে ঋণ নিয়ে সবটুকু জমিতে টমেটো আবাদ করেন। কিন্তু অনুন্নত যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উৎপাদিত টমেটো সময়মতো শহরের বাজারে নিতে পারেননি। টমেটো পচনশীল দ্রব্য হওয়ায় বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। করিম মিয়া তার ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। ক. কৃষি খামার কী? খ. কৃষি কেন পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত করিম মিয়ার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের সমস্যাসমূহ ব্যাখ্যা করো। ঘ. করিম মিয়ার উৎপাদিত দ্রব্যটি বাজারজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য- আলোচনা করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ বাংলাদেশের কৃষি

উৎস: Board Exam Question CB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. একজন কৃষক ফসল ফলানোর জন্য যে জমি ব্যবহার করে থাকে তাকে কৃষি খামার বলে খ. বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও সার্বিকভাবে কৃষিকাজ ত্রুটিপূর্ণ ও প্রকৃতিনির্ভর। বাংলাদেশের কৃষির অন্য একটি মৌলিক সমস্যা হচ্ছে প্রকৃতির পরিবেশের ওপর নির্ভরশীলতা। আমাদের দেশের সেচব্যবস্থা অনুন্নত বিধায় মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর কৃষি খুব বেশি নির্ভরশীল। সময়মতো ও পরিমিত বৃষ্টির অভাবে প্রায়ই কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। যেকোনো কৃষিদ্রব্য উৎপাদনে সময়মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি সেচের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো ব্যাপকভাবে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সেচব্যবস্থার প্রচলন হয়নি। ফলে কৃষি মূলত প্রাকৃতিক পরিবেশের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। গ. করিম মিয়ার উৎপাদিত পণ্যটি হলো কৃষিজাত দ্রব্য। বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান। নিচে করিম মিয়ার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের সমস্যাসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো- কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থা: করিম মিয়া একজন দরিদ্র কৃষক। করিম মিয়ার মতো কৃষকরা ফসল কাটার সাথে সাথেই কম মূল্যে বিক্রয় করে থাকে। আবার অনেক কৃষক ফসল জমিতে রেখেই বিক্রয় করে ফেলে। তাই কৃষকরা তাদের দারিদ্র্যের কারণে ফসলের দাম বৃদ্ধি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে না। অনুন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা: আমাদের দেশে পরিবহণ ব্যবস্থাও উন্নত নয়। আমাদের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। পরিবহণ ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে তারা পণ্যসামগ্রী নিয়ে দূর- দূরান্তের বাজারে যেতে পারে না। ফলে স্থানীয় বাজারেই স্বল্প মূল্যে তাকে পণ্য বিক্রি করতে হয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের উপস্থিতি: কৃষিপণ্য খামার থেকে ভোক্তার হাতে পৌছানো পর্যন্ত মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। ফড়িয়া, দালাল, মজুদদার, বেপারি, মহাজন ইত্যাদি মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের আর্থিক সংকটের সুযোগ হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের মুনাফা। এরা অনেক সময় কৃষকদেরকে দ্রব্যের চাহিদা ও যোগান সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে কৃষকদেরকে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করে। গুদামজাতকরণ ও সংরক্ষণের অভাব: বাংলাদেশের কৃষকরা উপযুক্ত গুদাম এর অভাবে ভবিষ্যতে বেশি দাম পাওয়ার জন্য পণ্য সংরক্ষণ করতে পারে না। গুদামের অভাবে প্রায় সব কৃষকই শস্য কাটার সময় পণ্য বিক্রয়ের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে কৃষিজাতপণ্যের দাম অনেক কমে যায়। ঘ. বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থা নানা ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত। সেগুলো কৃষকদের পক্ষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সমাধান করা সম্ভব নয়। যা সরকারের অংশগ্রহণেই সম্ভব। কৃষিপণ্য বিপণনের সমস্যা সমাধানে সরকারের করণীয় দিকগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো- ১. বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ত্রুটি হলো- অনুন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা। পণ্যের সুষ্ঠু বিপণনের জন্য তাই পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য। এক্ষেত্রে বিপুল মূলধন বিনিয়োগ করতে হয় এবং তা থেকে সরাসরি কোনো মুনাফা অর্জন করা যায় না বলে এ কাজে ব্যক্তিগত উদ্যোগ তেমন দেখা যায় না। একমাত্র সরকারেরই সক্রিয় ও অব্যাহত অংশগ্রহণের ফলে তার উন্নয়ন সম্ভব নয়। ২. কৃষক যাতে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় সে জন্য বাজারজাতকরণের নিমিত্তে সারাদেশে সরকারি উদ্যোগে 'কৃষক বিপণন দল' (Farmers Marketing Group)' 'কৃষক ক্লাব' গঠনের পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কৃষি বাজার উন্নয়ন এবং লিংকেজ তৈরির জন্য ঢাকাতে একটি সেন্ট্রাল মার্কেট নির্মাণ কাজ (গাবতলীতে) সম্পন্ন হয়েছে। ৩. কৃষিপণ্যের বাজার থেকে দালাল ও মধ্যবর্তী ফড়িয়াদের বিলোপ সাধন করতে হবে। উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সমবায় সমিতি স্থাপনের মাধ্যমে এদের কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে। ৪. বিভিন্ন বাজারে কৃষকদের নিকট থেকে যাতে আড়তদারী, পাল্লাদারী, টোল, চাঁদা প্রভৃতির অজুহাতে অর্থ আদায় করতে না পারে, সে জন্য আমাদের গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলো সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। ৫. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি উপকরণে ভর্তুকি বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সহজলভ্যকরণ, কৃষি ঋণের আওতা বৃদ্ধি এবং প্রাপ্তি সহজীকরণ, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ এবং ফসল সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সুতরাং দেখা যায়, বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বিপণন সমস্যাগুলো সমাধান করার ক্ষেত্রে সরকার বা রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2017)

সাদিপুর নিবাসী করিম মিয়া পৈতৃকসূত্রে এক বিঘা কৃষি জমির মালিক। বিগত বছরগুলোতে টমেটোর দাম ভালো থাকায় এই বছর গ্রামের মহাজনের নিকট হতে চড়াসুদে ঋণ নিয়ে সবটুকু জমিতে টমেটো আবাদ করেন। কিন্তু অনুন্নত যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উৎপাদিত টমেটো সময়মতো শহরের বাজারে নিতে পারেননি। টমেটো পচনশীল দ্রব্য হওয়ায় বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। করিম মিয়া তার ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না।

ক.

কৃষি খামার কী?

খ.

কৃষি কেন পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত করিম মিয়ার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের সমস্যাসমূহ ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

করিম মিয়ার উৎপাদিত দ্রব্যটি বাজারজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য- আলোচনা করো। 

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।