ক.
জবাবদিহিতা হচ্ছে ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত কর্ম সম্পর্কে উক্ত ব্যক্তির ব্যাখ্যাদানের বাধ্যবাধকতা।
খ.
আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবার সমান হওয়া এবং সব কিছুর ওপরে আইনের প্রাধান্যের স্বীকৃতিকে বোঝায়।
আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে: ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি এবং ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই আইনের কাছে সমান। যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে এটাই আইনের শাসনের বিধান। আইনের শাসন ব্যক্তির সাম্য ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।
গ.
সাদিক পাঠ্য হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়কে নির্বাচন করেছে।
পৌরনীতি মূলত নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন পৌরনীতির মুখ্য আলোচ্য বিষয়। এর সংজ্ঞা সমূহ বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে তা হলো নাগরিকের জীবন ও কার্যাবলী যতদূর বিস্তৃত, পৌরনীতি আলোচনার পরিধি ও তত দূর প্রসারিত। পৌরনীতির বিষয়বস্তু অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। নাগরিকতা ও নাগরিকের সমাজজীবন, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পর্যালোচনা, নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত মৌলিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আলোচনা, নাগরিকতার সাথে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে পর্যালোচনা, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিমূর্ত বিষয় সংক্রান্ত আলোচনা সমাজ জীবনের বিভিন্ন দিক ও সমসাময়িক বিষয়াদি ইত্যাদি নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। আর তাই উদ্দীপকে সাদিক সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার ও তার কার্যাবলী জানতে এই বিষয়টি বেছে নিয়েছে।
তাই বলা যায়, নাগরিকতা এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ধারণাই পৌরনীতির বিষয়বস্তুর অন্তর্গত।
ঘ.
সুনাগরিক সৃষ্টিতে উক্ত বিষয়টি তথা পৌরনীতি ও সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক। নাগরিক মর্যাদা সম্পন্ন ও সচেতন জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের সম্পদ। জনসংখ্যা কে উত্তম ও সচেতন নাগরিক গোষ্ঠীতে পরিণত করার ক্ষেত্রে পরিণতি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সুনাগরিক শিক্ষা যে কেউ পৌরনীতি পাঠেই লাভ করে থাকে। বিবেক, বুদ্ধি, আত্মসংযম ও শৃঙ্খলাবোধ সম্পন্ন নাগরিক জীবনে বিকাশের জন্য পৌরনীতি উত্তম দিক নির্দেশনা প্রদান করে থাকে। এ প্রসঙ্গে অ্যারিস্টোটল বলেন, 'সকল ভালো মানুষ ভালো নাগরিক নয়, কিন্তু সকল ভালো নাগরিকই ভালো মানুষ।' মূলত পৌরনীতির জ্ঞান মানুষকে অধিকার সচেতন করে তোলে। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে অধিকার ভোগের শিক্ষাদান করে। এ বিষয়টি শিক্ষা লাভ করেই নাগরিক নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকারি কর্তৃপক্ষ ও জনসম্মুখক্ষে তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে ও আদায় করতে সক্ষম হয়। বস্তুত পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমেই নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করা যায় বিধায় তাদের মধ্যে সুনাগরিকতার গুণাবলী জাগ্রত হয়।
তাই একথা সুস্পষ্ট যে, সুনাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে পৌরনীতি পাঠ গ্রহণ করা অপরিহার্য।