Facebook Pixel

সত্তরের দশকে একটি দেশ একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৪টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একত্রিত হয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত পোষণ করেন এবং সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। ক. বৈদেশিক নীতির সংজ্ঞা দাও। খ. কেন 'সার্ক' গঠিত হয়েছিল? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে সংগঠন এর সাদৃশ্য আছে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটিতে বাংলাদেশের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৯ঃ বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি

উৎস: Board Exam Question CB 2017, Board Exam Question ChB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. পররাষ্ট্রনীতি বলতে নিজের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্বের সুরাহার জন্য একটি রাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনের জাতীয় স্বার্থ আদায়ের বা প্রতিষ্ঠার জন্য ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়াকে বোঝায়। খ. দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে সার্ক গঠিত হয়েছিল। বর্তমান বিশ্ব আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিভিন্ন রাষ্ট্র জোটবদ্ধ হয়ে উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সার্ক একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। পারস্পরিক কল্যাণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সার্ক গঠন করা হয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধন করে সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণের জীবনের মানোন্নয়ন করা হচ্ছে সার্ক সনদের প্রধান লক্ষ্য। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের OIC সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য আর সৌহার্দ্যের যে মহান শিক্ষা রাসুল (স) আমাদের জন্য রেখে গেছেন তাকে ভিত্তি করে ইসলামের আধ্যাত্মিক, নৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্যবোধ সংরক্ষণের অঙ্গীকার নিয়ে ওধাইসি OIC গঠিত হয়। ওআইসি (OIC)-এর পূর্ণরূপ হলো Organisation of Islamic Co-operation. উদ্দীপকেও এ সংগঠনটির প্রতিফলন লক্ষণীয়। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে, সত্তরের দশকে একটি দেশ একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৪টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একত্রিত হয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৭ সালের আরব ইসরাইল যুদ্ধের পর ইসরাইল ১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট জেরুজালেমের মসজিদুল আকসায় অগ্নিসংযোগ করে। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় গোটা মুসলিম বিশ্বে। সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ আগস্ট ১৪টি আরব দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা কায়রোতে আলোচনায় বসেন। এর পর অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ২৪টি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। ১৯৭০ সালের ২২ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত মুসলিম মন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনের মাধ্যমে জেদ্দায় OIC-এর সেক্রেটারিয়েট প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর এভাবেই মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ সংস্থা OIC (ওআইসি) সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। উদ্দীপকেও এ সংগঠনের প্রতিচ্ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ঘ. বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে OIC-এর সদস্যপদ লাভ করার পর থেকে এর বিভিন্ন সাংগঠনিক ও কমিটিতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের মুসলমান জনগণ অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ। ১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত OIC এর দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ওআইসি-এর সদস্য পদ লাভ করে। এর পর থেকে বাংলাদেশ ওআইসির (OIC) বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশ ওআইসিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশকে এর প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, অঙ্গসংগঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কমিটির সদস্য করা হয়েছে। ১৯৮৩ সালের ৬-১০ ডিসেম্বর ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওআইসি-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি সংহতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশ মুসলিম বিশ্বের, বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহে যথাসম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। যেমন: ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অব্যাহত সমর্থন জানিয়ে আসছে, ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, আফগানিস্তানে রাশিয়ার আগ্রাসনকে নিন্দা জানিয়েছে, বসনিয়া যুদ্ধ বন্ধের জন্য সৈন্য পাঠিয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী আরব দেশগুলোর উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মার্কিন হামলার নিন্দা করে। বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ওআইসি-এর সম্মেলনে মুসলিম দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য ১১ দফা প্রস্তাব পেশ করে। বাংলাদেশ ওআইসিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এ সংগঠন থেকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধাও অর্জন করে। অষ্টম জাতীয় সংসদের মেয়াদের শেষের দিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করে। বিশেষ করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও ভোটার তালিকা নিয়ে সংকট ঘনীভূত হয়। সর্বশেষে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। উক্ত সরকার দীর্ঘ দুই বছরের একটি ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে এবং স্বচ্ছ ব্যালেট বক্স প্রদানের ব্যবস্থা করে। এ সময় নির্বাচন নিয়ে সংশয় দেখা দিলেও ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রার সূচনা ঘটে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনে। উক্ত নির্বাচনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারার মাইল ফলক হিসেবে পরিচিত। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, ওআইসিতে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2017)Chattogram Board (2017)

সত্তরের দশকে একটি দেশ একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৪টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একত্রিত হয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত পোষণ করেন এবং সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ক.

বৈদেশিক নীতির সংজ্ঞা দাও।

খ.

কেন 'সার্ক' গঠিত হয়েছিল?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে সংগঠন এর সাদৃশ্য আছে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটিতে বাংলাদেশের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।