ক.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল তাৎপর্য হলো সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়।
খ.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা বিশ্ব বিবেককে ভীষণ আতঙ্কিত করে তোলে। বিশ্ববাসী এ ধরনের ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এ লক্ষ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট মিলিত হয়ে এরূপ একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সম্মেলন ঘোষণা ও চুক্তির মাধ্যমে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।
গ.
উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের কথা বলা হয়েছে। কেননা উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রসমূহ তথা- ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা এবং আফগানিস্তান সার্কের ৮টি সদস্য রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছে, যা কেবল সার্ককেই নির্দেশ করে।
সার্কের দুটি মূলনীতি হলো-
১. সার্বভৌমত্বের সমতা, আঞ্চলিক অখন্ডতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন।
২. এক রাষ্ট্র কর্তৃক অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।
ঘ.
উক্ত সংস্থাটি তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আংশিক সফল হয়েছে বলে আমি মনে করি। আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক ভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা থেকে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। সার্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত সার্কের সফলতা ও ব্যর্থতার খতিয়ান থেকে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী প্রতিপন্ন হলেও সাফল্যও অনেকটা আশাব্যঞ্জক। প্রথমে সার্কের সমন্বিত কর্মসূচিতে ৯টি ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়েছিল। এখন তা ১৮টিতে উন্নীত হয়েছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোতে শিক্ষাক্ষেত্রে সার্ক বৃত্তি, সার্ক চেয়ার এবং বিভিন্ন আলোচনা সভা; সেমিনার সিম্পোজিয়াম হচ্ছে। সার্কের বড় সাফল্য হলো SAPTA গঠন। এছাড়াও সার্কের উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিভিন্ন বর্ষ যেমন- সার্ক পরিবেশ বর্ষ, সার্ক প্রতিবন্ধী বর্ষ, সার্ক যুব বর্ষ ইত্যাদি পালন করা হয়েছে। এসকল সাফল্যের পরেও সার্কের ব্যর্থতার পাল্লা ভারি। কেননা, ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব, ভারত-শ্রীলংকা দ্বন্দ্বের জন্য বেশ কয়েকবার সার্ক সম্মেলন বাতিল হয়েছে। শ্রীলংকার সাথে ভারতের তামিল সমস্যা, ভারতের সাথে পাকিস্তানের কাশ্মির সমস্যার জন্য সার্ক যে মহৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল তা বারংবার ব্যর্থ হচ্ছে। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সার্ক তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আংশিক সফল হয়েছে।