ক.
লোকাচার হলো সমাজস্থ মানুষের স্বীকৃত ব্যবহার ও আচরণ প্রণালি ।
খ.
বয়স বৈষম্য বলতে কেবল বয়সের কারণে কোনো বয়স গোষ্ঠী বা তার কোনো সদস্যের প্রতি নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা বা মনোভাব পোষণ ও বৈষম্যমূলক আচরণ করাকে বোঝায় ।
বয়স বিদ্বেষী ব্যক্তি বা সমাজ প্রবীণদেরকে জৈবিক ও সামাজিকভাবে অযোগ্য বলে মনে করে। তাদেরকে বিচ্ছিন্ন, নির্ভরশীল, আবেগীয় দিক থেকে অস্থিতিশীল এবং দুর্বলচিত্তের অধিকারী বলে গণ্য করে। আর এ ধরনের মনোভাব থেকেই প্রবীণদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ তৈরি হয় ।
গ.
উদ্দীপকে সমাজজীবনে জ্ঞাতিসম্পর্কের রাজনৈতিক গুরুত্বকে নির্দেশ করা হয়েছে।
গ্রামীণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জ্ঞাতিদের ভূমিকা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ব্যক্তি হোক বা গোষ্ঠী, জ্ঞাতিদের সাহায্য ও সহযোগিতা ছাড়া গ্রামীণ রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করা যায় না। বড় গোষ্ঠীগুলো চায় ইউনিয়ন পরিষদ তাদের কর্তৃত্বাধীনে রাখতে চায়। এজন্য উক্ত গোষ্ঠীর মধ্য থেকে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তিনি নিজের আত্মীয়-স্বজন বা জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সমর্থন লাভ করেন। হতে পারে সেটি আর্থিক সাহায্য, নির্বাচনী প্রচার কাজ বা ভোট প্রদানের মাধ্যমে সমর্থন দেওয়া। যেমনটি উদ্দীপকেরও পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সজল সাহেবের আর্থিক অবস্থা ভালো এবং আত্মীয়-স্বজন বেশি থাকলেও এলাকাবাসীর চোখে তিনি ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত নন। কিন্তু তার দৃঢ় বিশ্বাস, টাকা এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রভাব খাটিয়ে সামনের ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে সে জিতবেই নির্বাচনে নিজে আত্মীয়-স্বজনকে কাজে লাগানো জ্ঞাতিসম্পর্কের রাজনৈতিক গুরুত্বকেই নির্দেশ করে ।
ঘ.
জ্ঞাতিসম্পর্কের উক্ত ব্যবহার তথা রাজনৈতিক ব্যবহার যোগ্য নেতৃত্ব গঠনের অন্তরায়'— উক্তিটির সাথে আমি একমত ।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জ্ঞাতিসম্পর্ক অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন— স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদ কমিটি প্রভৃতির নেতৃত্ব নির্বাচনে জ্ঞাতিদের সমর্থন সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একইভাবে ইউপি নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত পায় সকল পর্যায়ে জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা নিজের গোষ্ঠীভুক্ত প্রার্থীকে বিভিন্নভাবে সমর্থন প্রদান করে। আর উক্ত গোষ্ঠী যদি অপেক্ষাকৃত বড় ধরনের হয় তবে যত দোষ-ত্রুটি থাকুক না কেন, উক্ত প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তবে এ পরিস্থিতি যোগ্য নেতৃত্ব গঠনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। যেমনটি উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে।
দেখা যায় উদ্দীপকের, সজল সাহেবের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের অভিযোগ আছে । এজন্য তিনি এলাকাবাসীর নিকট ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত নন। তবু তার দৃঢ় বিশ্বাস, টাকা এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রভাব খাটিয়ে তিনি সামনের ইউপি নির্বাচনে জিতবেন। উক্ত বিশ্বাস যদি বাস্তবে পরিণত হয় তবে তার এলাকার মানুষ যোগ্য নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হবে। কেননা তিনি একজন মাদক চোরা চালানকারী। আর এ সত্ত্বেও নিজের জ্ঞাতিগোষ্ঠীর প্রভাব খাটিয়ে যদি তিনি ইউপি চেয়ারম্যান হয়ে যান, তবে জ্ঞাতিসম্পর্কের এ রাজনৈতিক ভূমিকা হবে যোগ্য নেতৃত্ব গঠনের অন্তরায়।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জ্ঞাতিদের ভূমিকা সবসময় সমাজের জন্য ইতিবাচক হয় না।