ক.
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বৈধ সম্পর্ক, সন্তান জন্মদান ও লালন পালনের জন্য ধর্ম কর্তৃক অনুমোদিত এবং আইনের দ্বারা সমর্থিত একটি চুক্তিই হচ্ছে বিবাহ
খ.
বিবাহের পরে নবদম্পতি যদি স্ত্রীর পিতৃগৃহে বসবাস করে তবে তাকে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার বলে।
মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের পারিবারিক ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পরিবারের বায়োজেষ্ঠ মহিলা সদস্য তথা স্ত্রী বা মায়ের উপর ন্যস্ত থাকে। সাধারণভাবে বাংলাদেশের সমাজে এই ধরণের পরিবার পরিলক্ষিত হয় না। তবে গারো খাসি উপজাতিদের মধ্যে এই ধরনের পরিবার ব্যবস্থা দেখা যায়
গ.
উদ্দীপকের সজলের পরিবারটি অণু বা একক পরিবার। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
আকারের ভিত্তিতে পরিবারের অন্যতম একটি ধরন হলো অনু বা একক পরিবার। যে পরিবারের কেবল স্বামী-স্ত্রী অথবা স্বামী-স্ত্রীসহ তাদের অবিবাহিত সন্তান বসবাস করে তাকে অনু বা একক পরিবার বলে। এই ধরনের পরিবারের সাধারণত দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি একত্রে বাস করে। একক পরিবার মূলত নগরায়নেরই ফল। কেননা নগরায়নের পরে শহরে বিভিন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় বহু মানুষ শহরে বসবাস শুরু করে। যার ফলে তারা গ্রামে যৌথ পরিবারে থাকলেও শহরে এসে আলাদা পরিবার গঠন করায় সেগুলো একক পরিবারে পরিণত হয়। আমাদের দেশে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি এই ধরনের পরিবারই পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায় সজল তার স্ত্রী এবং সন্তান নিয়ে ঢাকা শহরে বসবাস করেন। পরিবারের গঠন অনুসারে যেহেতু স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করলে সেটি একক পরিবারকে নির্দেশ করে তাই সজলের পরিবারটি একক পরিবার। তাছাড়াও সজলের পরিবারে শুধু দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি তথা সজল এবং তার সন্তানরা থাকে। উক্ত বৈশিষ্ট্য গুলো একক পরিবারকে নির্দেশ করে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সজলের পরিবারটি অণু বা একক পরিবার।
ঘ.
উদ্দীপকে প্রতিফলিত সজল সাহেবের ভূমিকা তথা জ্ঞাতিসম্পর্কের কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য ইতিবাচক। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
সজল স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করলেও সে নিয়মিত বাবা-মা এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজখবর রাখেন। এছাড়া তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের সহায়তা করেন। সজলের এই কর্মকান্ডগুলো ও মূলত জ্ঞাতি সম্পর্কে মনস্তাতিক ও অর্থনৈতিক ভূমিকা কে নির্দেশ করে। সাধারণত জ্ঞাতিদের এসব কর্মকাণ্ড সমাজ জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সকল কর্মকান্ডেই জ্ঞাতি সম্পর্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন অর্থনৈতিক কর্মকান্ড যেমন ঋণগ্রহণ, সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয়, ভূমি বর্গা দেওয়া প্রভৃতি ক্ষেত্রে জ্ঞাতিরাই সবার আগে এগিয়ে আসে। এছাড়াও যে কোন আর্থিক প্রয়োজনে জ্ঞাতিরাই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ব্যক্তির সামাজিকীকরণ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ, আচার-অনুষ্ঠান পালন প্রভৃতিতে জ্ঞাতিসম্পর্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ সমাজজীবনের সামগ্রিক কর্মকান্ডে জ্ঞাতিরাই একান্ত আপন হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
তাই বলা যায়, জ্ঞাতিসম্পর্কের কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য ইতিবাচক।