Facebook Pixel

সজীব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে। সে একটি দৈনিক পত্রিকার সাক্ষাৎকারে বলে যে সে একজন সরকারি কর্মকর্তা হতে চায়। সে যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে গতিশীল সুশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। সে বলে সর্বত্র ই-গভর্নেন্স চালু করতে পারলে দ্রুত দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। <em> [বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা] </em> ক. ম্যাককরনীর সুশাসনের সংজ্ঞাটি দাও। খ. আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়? গ. সজীবকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোন বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে ব্যাখ্যা কর। ঘ. সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ই-গভর্নমেন্ট কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ম্যাককরনীর মতে, সুশাসন হলো রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সমাজের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক। খ. আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবাই সমান এবং সবকিছুর উপরে আইনের প্রাধান্যের স্বীকৃতিকে বোঝায়। আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি এবং ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই আইনের কাছে সমান। যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে-এটি আইনের শাসনের বিধান। আইনের শাসন ব্যক্তির সাম্য ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। গ. উদ্দীপকের সজীব একজন সরকারি কর্মকর্তা হতে চায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সজীবকে যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে সেগুলো হচ্ছে- ১. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা চালাতে হবে। কারণ, আইনের শাসন ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা অকল্পনীয়। ২ . নাগরিক সেবার যে অংশে সজীব নিয়োগপ্রাপ্ত হবে তার মান ও সেবার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। এটি সজীবের একক স্থান হতে অত্যাবশ্যকীয় কাজ। কারণ প্রত্যেকের দায়িত্বশীলতার মধ্যেই সুশাসনের পথ নিহিত। ৩. সজীব তার কর্মক্ষেত্রে ই-গভর্নেন্স চালু করতে পারে। আবার সজীব একজন নাগরিক হিসেবেও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে সে গুরুত্বারোপ করতে পারে যেসব বিষয়ে, তা হলো- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তার ঊর্ধ্বে থাকা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইন মেনে চলা; সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা করা, অন্যের অধিকার ও মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, নৈতিকতা ও আদর্শের অনুশীলন করা ইত্যাদি। ঘ. সুশাসনের মূলকথা হলো আইনের শাসন, অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রের শাসন। ই-গভর্নেন্সের দ্বারা পরিচালিত ই-গভর্নমেন্ট শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত-করে। তাই ই-গভর্নমেন্ট সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি বড় উপায় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন হলো প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রচলিত আইন প্রয়োগের চেয়ে ই-গভর্নেন্স বেশি কার্যকরী। কেননা এ পদ্ধতিতে কোথাও কোনো অসামঞ্জস্যতা থাকলে তা খুব সহজেই খুঁজে বের করা সম্ভব। আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিগত 'গোঁজামিল' দেওয়ার কোনো সুযোগ ই-গভর্নেন্সে থাকে না। প্রত্যেকের কাজের প্রয়োজনীয় দলিল- বিভিন্ন উপায়ে সংরক্ষিত থাকে। তাই ফাঁকি দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। যে কারণে ই-গভর্নেন্সে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করা সহজ, যা সুশাসনের জন্য আবশ্যক। সুশাসনের প্রাণ হলো শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ। প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থাতে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেও সবসময় জনমতের সুষ্ঠ প্রতিফলন ঘটে না। কিন্তু ই-গভর্নেন্সে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে মতামত প্রদানের সুযোগ পায়। এদিক থেকে ই-গভর্নেন্স হলো সবচেয়ে অংশগ্রহণমূলক একটি পদ্ধতি। দুর্নীতি দমন হলো সুশাসনের অন্যতম প্রত্যয়। ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে দুর্নীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে সুষ্ঠু বণ্টন করা যায় এ শাসনের মাধ্যমে। ই- গভর্নেন্স সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থের সমন্বয়ে দক্ষতা ও সফলতা অর্জন করে থাকে। তাছাড়া জনমত গঠনের আধুনিক ও শক্তিশালী মাধ্যম হলো ই-শাসনব্যবস্থা। সুতরাং বলা যায়, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ই- গভর্নমেন্ট অসামান্য ভূমিকা রাখতে পারে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সজীব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে। সে একটি দৈনিক পত্রিকার সাক্ষাৎকারে বলে যে সে একজন সরকারি কর্মকর্তা হতে চায়। সে যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে গতিশীল সুশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। সে বলে সর্বত্র ই-গভর্নেন্স চালু করতে পারলে দ্রুত দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

[বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা]

ক.

ম্যাককরনীর সুশাসনের সংজ্ঞাটি দাও।

খ.

আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?

গ.

সজীবকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোন বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ই-গভর্নমেন্ট কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' দ্বাদশ শ্রেণির একজন ছাত্রী। কলেজ ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হবার পরে সে তার ওপর অর্পিত সকল কাজ দক্ষতার সাথে পালন করছে। সেই ...

"Good Governance is important for countries at all stages of Development."- কার উক্তি?

IMF কী?

Leader অর্থ কী?

Q. Good Governance বা সুশাসন শব্দটি সফলতা লাভ করবে যেভাবে- i. যদি সরকার জনকল্যাণে দায়বদ্ধ থাকে ii. যদি সরকার দায়িত্বশীল...

"The Web of Government' গ্রন্থটি কার লেখা? [ব. বো, '১৬]

UNDP এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমে নাগরিকগণ- [বি এ এফ শাহীন কলেজ, চট্টগ্রাম।] i.আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে পারে। ii . অধিকার ভ...

'W' আফ্রিকার একটি দেশ। দেশটির সরকারি অথবা বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নেই। এ কারণে দেশটি...

'X' রাষ্ট্রের নাগরিকগণ স্বাধীনতা ভোগ করে। তারা যেকোনো বিষয়ে মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং পছন্দমত পেশা নির্বাচন করতে পারে...

beginarray|l|c| hline textbf'ক' সংগঠন & textbf'খ' সংগঠন hline textস্বৈরাচার প্রতিরোধ & textসকল সদস্য সমভাবাপন্ন hline ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।