ক.
যখন কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কৃত্রিম পরিবেশে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত ঘটনা সুনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রত্যক্ষণ করা হয় তখন তাকে পরীক্ষণ বলে ।
খ.
নিরীক্ষণ প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রত্যক্ষণ করা হয়। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক ঘটনাবলীর প্রাকৃতিক পরিবেশে উদ্দেশ্যমূলক প্রত্যক্ষণ হলো নিরীক্ষণ। নিরীক্ষণের ঘটনা ও পরিবেশ উভয়ই প্রাকৃতিক। ব্যক্তি ইচ্ছা করলে নিরীক্ষণের ঘটনা পরিবর্তন করতে পারেনা। নিরীক্ষণের ঘটনার জন্য ব্যক্তিকে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হয়। যেহেতু নিরীক্ষণের ঘটনা ব্যক্তি নিরপেক্ষ এবং স্বাভাবিক নিয়মে ঘটে থাকে তাই বলা যায় নিরীক্ষণ একটি স্বনির্ভর প্রক্রিয়া।
গ.
উদ্দীপকে স্বপনের ভয় পাওয়া ভ্রান্ত নিরীক্ষণকে ইঙ্গিত করে ।
উদ্দীপকের স্বপন অন্ধকারে দূর থেকে কলাবাগানের ঝোঁপ দেখে ভূত বলে চিৎকার করেছে। অর্থাৎ স্বপন বিষয়টিকে ভুলভাবে নিরীক্ষণ করেছে। এই বিষয়টি ভ্রান্ত নিরীক্ষণের ইঙ্গিত প্রদান করে। কোনো একটি ঘটনা নিরীক্ষণ করার সময় যথাযথভাবে নিরীক্ষণ করতে হয় । আর কোনো একটি ঘটনাকে যেভাবে নিরীক্ষণ করার কথা সেভাবে নিরীক্ষণ না করে ভিন্নভাবে নিরীক্ষণ করলে নিরীক্ষণ ত্রুটিপূর্ণ হয়। নিরীক্ষণের এই ত্রুটিকে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ বলে। যেমন— অন্ধকারে দড়িকে সাপ মনে করা ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।
উদ্দীপকের স্বপন কলাগাছের ঝোপ দেখে ভূত মনে করেছে। অর্থাৎ কলাবাগানের ঝোঁপকে যেভাবে নিরীক্ষণ করার কথা সেভাবে নিরীক্ষণ না করে সে ভিন্নভাবে নিরীক্ষণ করেছে। তাই স্বপনের ভয় পাওয়ার মাধ্যমে ভ্রান্ত নিরীক্ষণের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকের কলাবাগানের ঝোঁপ সম্পর্কে স্বপন ও সূর্যাস্ত সম্পর্কে সাজিদের ধারণা ভিন্ন ধরনের। কেননা স্বপনের বিষয়টি ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং সাজিদের বিষয়টি সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণের ইঙ্গিত প্রদান করে ।
উদ্দীপকে কলাগাছের ঝোঁপ সম্পর্কে স্বপনের নিরীক্ষণ ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণের ইঙ্গিত প্রদান করে। স্বপন অন্ধকারে কলাগাছের ঝোঁপকে ভূত মনে করে চিৎকার করেছে। এখানে স্বপনের নিরীক্ষণ ভ্রান্ত হয়েছে। কোনো বিষয়কে যেভাবে নিরীক্ষণ করার কথা সেভাবে নিরীক্ষণ না করে ভিন্নভাবে নিরীক্ষণ করলে নিরীক্ষণ ত্রুটিপূর্ণ হয়। আর এই ত্রুটিপূর্ণ নিরীক্ষণ যখন ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয় তখন সেটিকে ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ বলে। যেহেতু স্বপন ব্যক্তিগতভাবে ভুল নিরীক্ষণ করেছে, তাই স্বপনের বিষয়টি ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ ।
অপরপক্ষে উদ্দীপকে সূর্যাস্ত সম্পর্কে সাজিদের ধারণা সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণকে নির্দেশ করে। কোনো বিষয়ে নিরীক্ষণ ত্রুটিপূর্ণ হলে সেটি ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। আর ভ্রান্ত নিরীক্ষণ যখন সকলের ক্ষেত্রে হয় তখন সেটিকে সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ বলে। যেমন— সকলে মনে করে সূর্য উদিত হয় এবং অস্ত যায়। প্রকৃতপক্ষে সূর্য উদিতও হয় না এবং অস্তও যায় না। যেহেতু সকলে বিশ্বাস করে সূর্য উদিত এবং অস্ত যায় তাই এটি সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। তাই উদ্দীপকের সাজিদের ধারণার মাধ্যমে সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ প্রতিফলিত হয়েছে ।
পরিশেষে বলা যায় যে, কলাগাছের ঝোঁপ সম্পর্কে স্বপন ও সূর্যাস্ত সম্পর্কে সাজিদের ধারণা উভয়ই ভ্রান্ত নিরীক্ষণ হলেও দুটির প্রকৃতি ভিন্ন কেননা একটি ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং অন্যটি সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ । তাই বলা যায়, স্বপন ও সাজিদের ধারণা একই নয় ।