ক.
HIV-এর বিস্তারিত রূপ হচ্ছে- Human Immuno deficiency Virus.
খ.
উনিশ শতকের মাঝামাঝি বাংলার মুসলমানদের চরম দুর্দিনে নওয়াব আবদুল লতিফ এক আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি মুসলমানদের দুঃসময়ে তাদের উন্নতির পথের সন্ধান দিয়েছিলেন এবং তাদেরকে উন্নতির পথে পরিচালিত করেছেন। তিনি ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের হাত থেকে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার জন্য নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করেন। শিক্ষা, সমাজ সংস্কার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তার অবদান উত্তর ভারতের স্যার সৈয়দ আহমদের সাথে তুলনীয়। তাই নওয়াব আবদুল লতিফকে বাংলার 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো OIC বা Organization of Islamic Co-operation. উদ্দীপকে '?' ইঙ্গিতপূর্ণ সংস্থাটির সদস্যসংখ্যা ৫৭টি। এর সদর দপ্তর জেদ্দা এবং অঙ্গসংস্থা ৪টি। OIC মুসলিম দেশসমূহের সর্ববৃহৎ সংগঠন। ১৯৬৯ সালে মুসলিম দেশসমূহের সংগঠন ২৫টি সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে যার বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৫৭টি দেশ। OIC-এর সদর দপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দাতে। OIC সংস্থাটির মূল অঙ্গসংস্থা ৪টি। এগুলো হলো রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন, ইসলামি সচিবালয় এবং অন্তর্জাতিক ইসলামি বিচারালয়। স্পষ্টত উদ্দীপকে বর্ণিত তথ্য উপাত্তসমূহ কেবলই OIC-এর ক্ষেত্রে সর্বতোভাবে প্রযোজ্য হয়। তাই উক্ত সংস্থাটি হচ্ছে ওআইসি।
ঘ.
উদ্দীপকের সংস্থাটি তথা ওআইসি সারা বিশ্বের মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রতিষ্ঠিত হলেও এর সফলতা প্রশ্নবিদ্ধ। আমি মনে করি, সংস্থাটি তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। ১৯৬৯ সালে ইসরাইল কর্তৃক জেরুজালেমের মসজিদুল আকসায় অতর্কিত অগ্নিসংযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থাটি গঠনের পটভূমি রচিত হয়েছিল। গঠনের পর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সংহতি বৃদ্ধি ও মুসলিমদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সংরক্ষণ। প্রথমদিকে সংস্থাটি কিছুটা সক্রিয় থেকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রচেষ্টা করলেও সময়ের সাথে সাথে এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। সামান্য মাত্রার লক্ষ্য অর্জনের বিপরীতে সংস্থাটির ব্যর্থতার পাল্লা অনেকগুণ বেশি। সংস্থাটির নেতৃত্বস্থানীয় অংশের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে লেজুড়বৃত্তি স্বভাব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রভৃতি এর অন্যতম কারণ। সংস্থাটি এখন ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে কোন সুরাহা করতে পারেনি। সাম্প্রতিক। সময়ে মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ইস্যুতেও সংস্থাটির অবস্থান। লজ্জাজনক। কয়েকটি নেতৃত্বস্থানীয় দেশের পাশ্চাত্যমুখী লেজুড়বৃত্তি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসমূহের অর্ন্তদ্বন্দ্ব নিরসনে মেরুদণ্ডহীন অবস্থান সংস্থাটির সফলতাকে আড়াল করেছে এবং ছাপিয়ে উঠেছে কেবলই ব্যর্থতা। সংস্থাটির গঠনকালীন আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা যা কার্যত কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। স্পষ্টতই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার প্রায় অর্ধশতক পার হবার পরেও এখনও পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। তাই এর যৎসামান্য সফলতাকে 'মুসলিমদের, স্বার্থরক্ষায় সফলতা' বলা যায় না কোনোভাবেই।