Facebook Pixel

সকালের নাস্তায় ডিম ও রুটি মামুনের খুব পছন্দ। এসব খাদ্য পরিপাক শেষে শোষিত হয়ে যকৃতে যায়। বিপাক শেষে কিছু উপাদান এখানে সঞ্চিত হয়। বাকী অংশ রক্তের মাধ্যমে সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে। ক. ল্যাকটিয়েল কী? খ. আমরা খাদ্য খাই কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম খাদ্যটি মামুনের ক্ষুদ্রান্ত্রে গিয়ে কী ধরনের পরিবর্তন হয়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির বিপাকীয় ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মানব শারীরতত্ত্বঃ পরিপাক ও শোষণ

উৎস: অনুশীলনীর প্রশ্ন ফজলুল হক স্যার

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ল্যাকটিয়েল হলো ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ের কেন্দ্রে অবস্থিত বিশেষ ধরনের লসিকা নালি, যা পরিপাককৃত চর্বিজাতীয় খাদ্য উপাদান শোষণ করে। (খ) আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন এবং দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধির জন্য খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য। খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে আমরা শর্করা, আমিষ ও স্নেহজাতীয় উপাদান পাই, যা শ্বসন প্রক্রিয়ায় জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে। এই শক্তি ছাড়া দেহের বিপাকীয় কাজ ও দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তাই বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম খাদ্যটি হলো ডিম, যা একটি উচ্চমানের প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাদ্য। মামুনের ক্ষুদ্রান্ত্রে ডিমের প্রোটিনের পরিপাক নিম্নরূপ: ১. অগ্ন্যাশয় রস: অগ্ন্যাশয় রসে বিদ্যমান ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন ও কার্বোক্সিপেপটাইডেজ এনজাইমগুলো প্রোটিনকে ভেঙে পলিপেপটাইডে পরিণত করে। ২. আন্ত্রিক রস: আন্ত্রিক রসে উপস্থিত অ্যামিনোপেপটাইডেজ এনজাইম পলিপেপটাইডকে ভেঙে পরিশেষে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে। এভাবেই ডিমের প্রোটিন ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক হয়ে শোষণযোগ্য অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত হয়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো যকৃত। যকৃতকে দেহের 'রাসায়নিক কারখানা' বলা হয়, কারণ এটি বিপাক প্রক্রিয়ায় বহুমুখী ভূমিকা পালন করে: ১. প্রোটিন বিপাক: যকৃতে ডিঅ্যামাইনেশন প্রক্রিয়ায় অ্যামিনো এসিডের অতিরিক্ত নাইট্রোজেন অংশ ইউরিয়ায় রূপান্তরিত হয়। এছাড়া রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান যেমন ফাইব্রিনোজেন ও প্রোথ্রম্বিন যকৃতেই তৈরি হয়। ২. লিপিড বিপাক: যকৃত চর্বি বিপাক ও সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখে। ৩. রক্তকণিকা গঠন ও ধ্বংস: ভ্রূণ অবস্থায় যকৃতে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয়। এছাড়া ১২০ দিন পূর্ণ হওয়া পুরনো লোহিত রক্তকণিকা যকৃতে ধ্বংস হয় এবং এর হিমোগ্লোবিন থেকে বিলিরুবিন নামক পিত্তরঞ্জক তৈরি হয়। ৪. বিষমুক্তকরণ: রক্তে থাকা ক্ষতিকারক ও বিষাক্ত উপাদানসমূহ যকৃত রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দূর করে। এছাড়া যকৃতের কাপফার কোষ ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। ৫. সঞ্চয় ও তাপ নিয়ন্ত্রণ: যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে শর্করা সঞ্চিত থাকে। বিপাকীয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন তাপ দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পরিশেষে বলা যায়, যকৃত দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ রক্ষা ও বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅনুশীলনীর প্রশ্ন - ফজলুল হক স্যার

সকালের নাস্তায় ডিম ও রুটি মামুনের খুব পছন্দ। এসব খাদ্য পরিপাক শেষে শোষিত হয়ে যকৃতে যায়। বিপাক শেষে কিছু উপাদান এখানে সঞ্চিত হয়। বাকী অংশ রক্তের মাধ্যমে সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে।

ক. ল্যাকটিয়েল কী?

খ. আমরা খাদ্য খাই কেন?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম খাদ্যটি মামুনের ক্ষুদ্রান্ত্রে গিয়ে কী ধরনের পরিবর্তন হয়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির বিপাকীয় ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।